শরীরে পছন্দের উল্কি বা ট্যাটু আঁকার পর অনেকের মনেই একসময় তা মুছে ফেলার অনুশোচনা জাগে। তবে লেজার দিয়ে ট্যাটু তোলার দীর্ঘ ও যন্ত্রণাদায়ক প্রক্রিয়ার ভয়ে অনেকেই পিছিয়ে আসেন। এই সমস্যার এক বৈপ্লবিক সমাধান নিয়ে এসেছেন গবেষকরা।
2
7
এবার এমন এক অভিনব ট্যাটু কালি উদ্ভাবন করা হয়েছে, যা আলোর সাহায্যে যখন খুশি ‘অন’ বা ‘অফ’ করা যাবে। অর্থাৎ, ত্বকে থাকা ছবি বা রং নিজের ইচ্ছেমতো দৃশ্যমান করা যাবে, আবার সুইচ টেপার মতো মুহূর্তের মধ্যে তাকে অদৃশ্যও করে দেওয়া সম্ভব হবে—কোনও রকম ব্যথা ছাড়াই।
3
7
‘ফোটোট্যাট’ (PhotoTat) নামের এই প্রযুক্তিটি বাজারে আনার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। কলোরাডো বোল্ডার বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কার্সন ব্রুনস এবং তাঁর সহযোগী গবেষকরা এই চমৎকার উদ্ভাবনটি সম্পন্ন করেছেন।
4
7
তাঁদের মতে, এটি কেবল শখের ট্যাটু পরিবর্তনের ক্ষেত্রেই নয়, চিকিৎসা ক্ষেত্রেও বড় ভূমিকা রাখতে পারে। যেমন, রেডিওথেরাপির জন্য শরীরে দেওয়া প্রয়োজনীয় মার্কিং বা বিশেষ ডাক্তারি সংকেত কেবল চিকিৎসকের পরীক্ষার সময়ই ফুটিয়ে তোলা যাবে, বাকি সময় তা ত্বকে সম্পূর্ণ অদৃশ্য থাকবে।
5
7
এই প্রযুক্তির পেছনের বিজ্ঞানটি কিন্তু বেশ চমকপ্রদ। এই কালিতে মূলত তিনটি প্রাথমিক রং—নীল, ম্যাজেন্টা এবং হলুদ—ব্যবহার করা হয়, যেগুলি ফটোক্রোমিক রং দিয়ে তৈরি। এই বিশেষ যৌগগুলি নির্দিষ্ট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলোর সংস্পর্শে এলে নিজেদের আণবিক গঠন বদলে রং ফুটিয়ে তোলে। রঞ্জকগুলিকে পিএমএমএ (PMMA) নামের একটি নিরাপদ, কাচের মতো চিকিৎসা-মানের প্লাস্টিক ন্যানোপার্টিকেলে আবদ্ধ করে রাখা হয়।
6
7
গবেষকরা জানিয়েছেন, একটি অতিবেগুনি (UV) এলইডি আলোর সাহায্যে মাত্র দুই থেকে তিন সেকেন্ডের মধ্যে এই রং দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। ঘরের সাধারণ আলোয় এই ছবি কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিন পর্যন্ত স্পষ্ট থাকে, তবে তীব্র রোদে বেরোলে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই রং আবার ফিকে হয়ে মিলিয়ে যায়।
7
7
বিজ্ঞানীদের পরীক্ষায় দেখা গেছে, ত্বকে এই কালির কার্যক্ষমতা প্রায় দেড় থেকে দুই বছরেরও বেশি সময় পর্যন্ত অটুট থাকে। আলোর বিভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্য আলাদাভাবে ব্যবহার করে ট্যাটুর নির্দিষ্ট অংশকে আলাদা রঙে ফুটিয়ে তোলা যায়। ফলে একই ট্যাটু কখনও হয়ে উঠতে পারে গোলাপি বা বেগুনি ফুল, আবার পরমুহূর্তে সেটি বদলে নেওয়া যায় হলুদ রঙে। যন্ত্রণাদায়ক লেজার চিকিৎসার দিন শেষ করে রূপ পরিবর্তনের এমন সহজ প্রযুক্তি ভবিষ্যৎ ফ্যাশন এবং চিকিৎসাবিজ্ঞান—উভয় ক্ষেত্রেই এক বড় দিগন্ত খুলে দিতে চলেছে।