বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষের জীবন ও অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত করে দেওয়া কোভিড-১৯ মহামারির স্মৃতি এখনও টাটকা। ঠিক এমন সময় ফের নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছেন জাপানের জনপ্রিয় মাঙ্গা শিল্পী রিয়ো তাতসুকি, যাঁকে অনেকেই ‘জাপানের বাবা ভাঙ্গা’ নামে অভিহিত করেন।
2
12
তাঁর একটি পুরনো ভবিষ্যদ্বাণীকে ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে—আবার কি ফিরে আসতে পারে সেই প্রাণঘাতী ভাইরাস?
3
12
রিয়ো তাতসুকির লেখা মাঙ্গাতে প্রকাশিত হওয়ার বহু বছর পর ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে। কারণ, তাঁর বইয়ে ২০২০ সালের দিকে এক অজানা ভাইরাসের বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ার ইঙ্গিত রয়েছে বলে দাবি করেন অনেকে। কোভিড-১৯ মহামারি শুরু হওয়ার পর থেকেই এই ভবিষ্যদ্বাণীকে ঘিরে রহস্য আরও গভীর হয়।
4
12
এবার সেই বইয়ের একটি অংশ নতুন করে ভাইরাল হয়েছে। সেখানে দাবি করা হয়েছে, প্রথম দফার মহামারির কয়েক বছর পর একই ধরনের সংক্রামক রোগ আবারও ফিরে আসতে পারে।
5
12
এই ব্যাখ্যা থেকেই অনেক নেটিজেন মনে করছেন, কোভিড-১৯ কিংবা তার নতুন কোনও রূপ ভবিষ্যতে আবার বড় আকারে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
6
12
তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, রিয়ো তাতসুকি কোথাও সরাসরি কোভিড-১৯, করোনাভাইরাসের নাম উল্লেখ করেননি। তাঁর লেখার ব্যাখ্যা মূলত পাঠক ও অনুসারীদের নিজস্ব বিশ্লেষণের উপর নির্ভরশীল। ফলে এই দাবির কোনও বৈজ্ঞানিক বা প্রামাণ্য ভিত্তি নেই।
7
12
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যদ্বাণীর পরিবর্তে সংক্রামক রোগের ঝুঁকি নির্ধারণ হয় বৈজ্ঞানিক গবেষণা, নজরদারি ব্যবস্থা এবং ভাইরাসের বিবর্তনের উপর। ভাইরাস সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে এবং নতুন ভ্যারিয়েন্টের আবির্ভাব ঘটতে পারে।
8
12
তাই ভবিষ্যতে কোভিড-১৯ বা অন্য কোনও সংক্রামক রোগের সংক্রমণ বাড়ার সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তবে সেটি কোনও ভবিষ্যদ্বাণীর কারণে নয়, বরং জনস্বাস্থ্য ও জীববিজ্ঞানের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ।
9
12
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্য সংস্থাগুলি এখনও কোভিড-১৯-এর ওপর নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে। নতুন ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হলে তার সংক্রমণ ক্ষমতা, রোগের তীব্রতা এবং টিকার কার্যকারিতা নিয়ে নিয়মিত গবেষণা করা হয়। বিশেষজ্ঞরা বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছেন, আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
10
12
স্বাস্থ্যবিদদের পরামর্শ অনুযায়ী, জ্বর, কাশি বা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বয়স্ক ব্যক্তি, গর্ভবতী মহিলা এবং যাঁদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাঁদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। প্রয়োজনে টিকার বুস্টার ডোজ গ্রহণ এবং ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাও এখনও কার্যকর প্রতিরোধের অন্যতম উপায়।
11
12
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া নানা ভবিষ্যদ্বাণী বা গুজবের সত্যতা যাচাই না করে বিশ্বাস না করারও পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। অতীতে যেমন নানা ভবিষ্যদ্বাণী সত্যি প্রমাণিত হয়নি, তেমনই অনেক ঘটনাকে পরবর্তীতে ইচ্ছামতো ব্যাখ্যা করে ভবিষ্যদ্বাণীর সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়।
12
12
সব মিলিয়ে, ‘জাপানের বাবা ভাঙ্গা’র এই নতুন দাবি ঘিরে কৌতূহল তৈরি হলেও, বর্তমানে কোভিড-১৯ ফের আগের মতো বিশ্বব্যাপী মহামারি আকারে ফিরে আসবে—এমন কোনও নিশ্চিত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তাই গুজব নয়, নির্ভরযোগ্য স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য এবং বৈজ্ঞানিক পরামর্শের উপর ভরসা রাখাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।