১০ হাজারের SIP বনাম ১০ লক্ষ টাকার FD, ১৫ বছর পরে কোনটা বেশি লাভজনক? দেখে নিন হিসাব
নিজস্ব সংবাদদাতা
১৭ আগস্ট ২০২৬ ১১ : ৫৫
শেয়ার করুন
1
13
ভবিষ্যতের জন্য টাকা সঞ্চয়ের ক্ষেত্রে অনেকেই দ্বিধায় থাকেন—মাসে মাসে অল্প অল্প করে SIP করবেন, নাকি হাতে থাকা বড় অঙ্কের টাকা এফডিতে রেখে দেবেন? এই দুই পদ্ধতির ঝুঁকি, রিটার্ন এবং বিনিয়োগের ধরন একেবারেই আলাদা।
2
13
১৫ বছরের মতো দীর্ঘ সময় ধরে বিনিয়োগ করলে ১০,০০০ টাকা মাসিক SIP এবং ১০ লক্ষ টাকার FD-এর মধ্যে সম্ভাব্য চূড়ান্ত অঙ্কে বড় পার্থক্য তৈরি হতে পারে।
3
13
কোনও ব্যক্তি প্রতি মাসে ১০,০০০ টাকা করে SIP-তে বিনিয়োগ করছেন। অর্থাৎ বছরে ১লক্ষ ২০ হাজার টাকা এবং ১৫ বছরে তাঁর মোট বিনিয়োগ হবে ১৮ লক্ষ টাকা।
যদি গড়ে ১২ শতাংশ বার্ষিক রিটার্ন ধরা হয়, তাহলে ১৫ বছর শেষে আনুমানিক রিটার্ন হতে পারে ৩২ লক্ষ ৪৫ হাজার ৭৫৯ টাকা৷
4
13
অর্থাৎ মূল বিনিয়োগ এবং আনুমানিক রিটার্ন মিলিয়ে মোট কর্পাস দাঁড়াতে পারে প্রায় ৫০,৪৫,৭৫৯, অর্থাৎ ৫০ লক্ষ টাকারও বেশি।
5
13
তবে এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ১২ শতাংশ কোনও নিশ্চিত রিটার্ন নয়। SIP সাধারণত মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগের মাধ্যমে করা হয় এবং সেই বিনিয়োগ বাজারের ওঠানামার সঙ্গে যুক্ত। ফলে প্রকৃত রিটার্ন কম বা বেশি, দুই-ই হতে পারে।
6
13
এবার ধরুন, কারও হাতে এককালীন ₹১০ লক্ষ রয়েছে। তিনি সেই টাকা FD-তে রাখলেন। উদাহরণ হিসেবে ৬.৫ শতাংশ বার্ষিক সুদ ধরা হয়েছে।
১৫ বছর শেষে এই বিনিয়োগে আনুমানিক সুদ পাওয়া যেতে পারে ১৬.৩ লক্ষ টাকা। ফলে মূল ১০ লক্ষ টাকা এবং সুদ মিলিয়ে মোট পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ২৬.৩০ লক্ষ টাকা।
7
13
অর্থাৎ একই ১৫ বছরের সময়সীমায় এই হিসেব অনুযায়ী ১০,০০০ মাসিক SIP-এর সম্ভাব্য কর্পাস প্রায় প্রায়৫০ লক্ষ, যেখানে ১০ লক্ষ এফডি-এর সম্ভাব্য মূল্য প্রায় ২৬.৩০ লক্ষ টাকা৷
8
13
শুধু শেষের অঙ্ক দু’টি দেখলে SIP-কে অনেক বেশি লাভজনক বলে মনে হতে পারে। কিন্তু আসল তুলনাটি একটু অন্যরকম। SIP-এর ক্ষেত্রে ১৫ বছরে বিনিয়োগ করা হয়েছে মোট ₹১৮ লক্ষ। অন্যদিকে FD-তে প্রথমেই বিনিয়োগ করা হয়েছে ₹১০ লক্ষ। অর্থাৎ SIP-তে মোট বিনিয়োগের পরিমাণই FD-এর তুলনায় ₹৮ লক্ষ বেশি।
9
13
তাই ৫০.৪৬ লক্ষ টাকা বনাম ২৬.৩০ লক্ষ টাকা দেখে সরাসরি বলা ঠিক হবে না যে SIP সবসময় FD-র থেকে দ্বিগুণ ভাল। এখানে বিনিয়োগের পরিমাণ, রিটার্নের হার এবং ঝুঁকি—তিনটিই গুরুত্বপূর্ণ।
10
13
SIP-এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হল একসঙ্গে বড় অঙ্কের টাকা না থাকলেও নিয়মিত বিনিয়োগ করা যায়। মাসে ₹১০,০০০ করে বিনিয়োগ করতে করতে দীর্ঘমেয়াদে বড় কর্পাস তৈরি করার সুযোগ থাকে। আর দীর্ঘ সময়ের ক্ষেত্রে কম্পাউন্ডিং বা চক্রবৃদ্ধির প্রভাবও গুরুত্বপূর্ণ। বাজার ভালো থাকলে এই প্রক্রিয়ায় সম্পদ দ্রুত বাড়তে পারে। তবে এর বিপরীত দিকও রয়েছে। বাজার পড়লে বিনিয়োগের মূল্য সাময়িকভাবে কমে যেতে পারে।
11
13
FD-এর ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারী আগে থেকেই সুদের হার সম্পর্কে ধারণা পান। বাজারের দৈনিক ওঠানামার সঙ্গে FD-র রিটার্ন সরাসরি যুক্ত নয়। তাই যাঁরা মূলধনের স্থিতিশীলতা এবং তুলনামূলকভাবে পূর্বানুমানযোগ্য রিটার্নকে বেশি গুরুত্ব দেন, তাঁদের কাছে FD আকর্ষণীয় হতে পারে। অবশ্য FD-তেও মেয়াদ, সুদের হার এবং করের মতো বিষয় বিবেচনা করতে হয়। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে মুদ্রাস্ফীতি আপনার টাকার প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতাকে প্রভাবিত করতে পারে।
12
13
দীর্ঘমেয়াদে সম্পদ তৈরি করতে চাইলে এবং বাজারের ওঠানামা সহ্য করার মানসিকতা থাকলে SIP বিবেচনা করা যেতে পারে। বিশেষ করে নিয়মিত আয়ের মানুষদের জন্য মাসিক SIP একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ বিনিয়োগের অভ্যাস তৈরি করতে পারে।
13
13
অন্যদিকে নিরাপত্তা ও পূর্বানুমানযোগ্য রিটার্নকে অগ্রাধিকার দিলে FD বেশি উপযুক্ত হতে পারে। বিশেষ করে এমন অর্থ, যা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রয়োজন হতে পারে, সেখানে বাজার-নির্ভর বিনিয়োগের ঝুঁকি নেওয়া সবসময় উপযুক্ত নাও হতে পারে।