পশ্চিমবঙ্গের যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে। এবার মাত্র ৬ ঘণ্টায় দিল্লি থেকে সরাসরি শিলিগুড়ি পৌঁছানো যাবে বুলেট ট্রেনে চেপে। আজ নবান্নে এক উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই বড় ঘোষণা করেন কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। এই হাই-স্পিড বুলেট ট্রেনটি দিল্লি থেকে রওনা হয়ে লখনউ, বেনারস এবং পাটনা ছুঁয়ে শিলিগুড়িতে পৌঁছাবে। এই মেগা প্রকল্পের পাশাপাশি আগামী ৫ বছরের মধ্যে রাজ্যে ৬০টি নতুন ট্রেন চালুর আশ্বাসও দিয়েছেন রেলমন্ত্রী।
2
6
এদিন নবান্ন সভাগৃহে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। বৈঠকে রাজ্যের অন্যান্য মন্ত্রী ও বিধায়করাও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রেলমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, মোদি সরকারের মূল লক্ষ্য হল বাংলার রেল পরিকাঠামোর ভোলবদল করা।
3
6
রাজ্যজুড়ে ১০২টি স্টেশনের পুনর্নির্মাণের কাজ করা হবে, যার মধ্যে ১০টি স্টেশনের কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। পরিসংখ্যান দিয়ে তিনি জানান, বর্তমানে রাজ্যে ৯টি বন্দে ভারত, ১টি বন্দে ভারত স্লিপার এবং ১৩টি অমৃত ভারত ট্রেন সচল রয়েছে। বন্দে ভারত স্লিপার ও অমৃত ভারত ট্রেনের মতো আধুনিক পরিষেবা পশ্চিমবঙ্গেই প্রথম চালু হয়েছিল বলেও মনে করিয়ে দেন তিনি।
4
6
কলকাতার মেট্রো রেলের সম্প্রসারণ নিয়ে পূর্বতন তৃণমূল সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন অশ্বিনী বৈষ্ণব। তিনি বলেন, ১৯৭২ সালে মেট্রো চালু হওয়ার পর ৪২ বছরে মাত্র ২৮ কিলোমিটার পথ তৈরি হয়েছিল। সেখানে গত ১২ বছরে মোদি জমানায় কলকাতায় আরও ৪৫ কিলোমিটার মেট্রোপথ বাড়ানো সম্ভব হয়েছে।
5
6
তৃণমূল সরকারের অসহযোগিতার দিকে আঙুল তুলে রেলমন্ত্রী অভিযোগ করেন, আগের সরকার সবসময় রেলের কাজে বাধা সৃষ্টি করেছে, জমি দিতে চায়নি এবং কলকাতার মানুষ যাতে মেট্রো পরিষেবা না পান তার জন্য হাইকোর্ট থেকে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত দৌড়েছে। তবে এবার সেই জট কেটেছে দাবি করে তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গকে রক্ষা করার জন্য সকলকে ধন্যবাদ এবং এখন থেকে রাজ্যে পুরো উদ্যমে রেলের কাজ শুরু হবে।
6
6
রেলমন্ত্রীর সঙ্গে এই ফলপ্রসূ বৈঠকের পর এক বড় ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও। তিনি জানান, রাজ্যের প্রতিটি জেলাকে খুব শীঘ্রই রেল মানচিত্রের সাথে যুক্ত করা হবে। আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গে ১ লক্ষ কোটি টাকার রেল প্রকল্পের কাজ হতে চলেছে, যা রাজ্যের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিকাঠামোকে সম্পূর্ণ বদলে দেবে। জোড়া ইঞ্জিনের সরকারের হাত ধরে বাংলার এই উন্নয়ন যজ্ঞে রেলের কর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।