বার্ধক্যে পৌঁছে প্রতি বছর লাইফ সার্টিফিকেট জমা দেওয়ার জন্য ব্যাংকের লম্বা লাইনে দাঁড়ানো কিংবা বারবার ছোটাছুটি করা যে কতটা কষ্টের, তা ভুক্তভোগী পরিবারগুলো ভালোভাবেই জানে।
2
10
তবে সেই ভোগান্তি কমাতে এবার স্বস্তির খবর নিয়ে এসেছে সরকার। এখন আর বায়োমেট্রিক যন্ত্রে আঙুলের ছাপ দেওয়ার দরকার নেই, নিজের হাতের স্মার্টফোনে কেবল মুখ দেখিয়েই নিমেষের মধ্যে তৈরি করে নেওয়া যাবে ডিজিটাল লাইফ সার্টিফিকেট বা জীবন প্রমাণপত্র।
3
10
১ নভেম্বর থেকে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে পঞ্চম ডিজিটাল লাইফ সার্টিফিকেট অভিযান, যা চলবে আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত। দেশের প্রায় ২,০০০টি শহর ও জেলায় একযোগে এই বিশেষ কর্মসূচি চলছে।
4
10
এই এক মাসের মধ্যে সরকার ২ কোটি ৩০ লাখ পেনশনভোগীর কাছে পৌঁছানোর পরিকল্পনা নিয়েছে, যার মধ্যে অন্তত ১ কোটি ৫০ লাখ মানুষের সার্টিফিকেট তৈরি হবে আধুনিক ফেস অথেনটিকেশন প্রযুক্তির মাধ্যমে।
5
10
ঘরে বসে এই সুবিধা পাওয়ার উপায়ও বেশ সহজ। পেনশনভোগীকে নিজের স্মার্টফোনে ‘জীবন প্রমাণ ফেস অ্যাপ’ এবং ‘আধার ফেস আরডি’ নামের দুটি অ্যাপ নামিয়ে নিতে হবে।
6
10
এরপর নিজস্ব আধার ও নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর দিয়ে প্রাথমিক প্রক্রিয়া সেরে ফোনের সামনের ক্যামেরার দিকে তাকালেই মুখাবয়ব শনাক্ত হয়ে যাবে। মুখ সঠিকভাবে স্ক্যান হলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডিজিটাল সার্টিফিকেট তৈরি হয়ে যাবে, যা ঘরে বসেই প্রবীণদের ব্যাংকমুখী হওয়ার ঝামেলা থেকে মুক্তি দেবে।
7
10
প্রবীণ নাগরিকদের সহায়তায় এবার সরকারি বিভিন্ন সংস্থাও একসঙ্গে মাঠে নেমেছে। এই উদ্যোগে শামিল করা হয়েছে ১৯টি ব্যাংক, ৭৮৫টি ডাকঘর এবং ৫৬টি পেনশন কল্যাণ সমিতিকে।
8
10
এর পাশাপাশি ইপিএফও, ভারতীয় রেল এবং রাজ্য সরকারগুলোর কর্মীরাও এতে হাত মিলিয়েছেন। যারা শারীরিকভাবে দুর্বল বা অসুস্থতার কারণে বাইরে বের হতে অক্ষম, তাঁদের জন্য বাড়িতে গিয়ে এই সেবা দেওয়ার ব্যবস্থাও থাকছে।
9
10
এছাড়া জায়গায় জায়গায় বসা বিশেষ শিবিরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং আধার সংক্রান্ত তথ্য সংশোধনের সুযোগও মিলবে।
10
10
পেনশন যাতে কোনওভাবেই ব্যাহত না হয়, সেজন্য নির্ধারিত ৩০ নভেম্বরের মধ্যে এই কাজ সেরে ফেলার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। কোথাও কোনো সমস্যা বা জটিলতা দেখা দিলে সহায়তার জন্য বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাবে।