শুধু প্রেমের জন্য নন, প্রতিশোধ, অপরাধ, আক্রোশেও সাবলীল শাহরুখ, জন্মদিনে বাদশার ভয়ধরানো ১০ রূপ
নিজস্ব সংবাদদাতা
২ নভেম্বর ২০২৬ ১৯ : ০৮
শেয়ার করুন
1
12
আজ তিনি বলিউডের বাদশা। তাঁর হাসি, চোখের চাহনি আর দু’হাত ছড়িয়ে দাঁড়ানোর ভঙ্গিতে মুগ্ধ প্রজন্মকাল৷ কিন্তু কেরিয়ারের শুরুর দিকে শাহরুখ খান এমন কিছু চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন, যাঁদের দেখে নায়ক নয়, মনে হত খলনায়ক৷ কখনও প্রতিশোধের নেশায় অন্ধ, কখনও প্রেমের নামে ভয়ংকর অধিকারবোধ, আবার কখনও ঠান্ডা মাথার অপরাধী। দেখে নেওয়া যাক পর্দায় শাহরুখের এমনই ১০টি নেতিবাচক চরিত্র।
2
12
বাজিগর: প্রতিশোধ নিতে কতটা ভয়ংকর হতে পারেন একজন মানুষ, তা দেখিয়েছিলেন শাহরুখ। বাবার মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে অজয় একের পর এক অপরাধ করে। নিজের লক্ষ্যপূরণে খুন করতেও পিছপা হয়নি সে। নায়ক হয়েও খলনায়কের মতো চরিত্রে শাহরুখের অভিনয় আজও দর্শকের মনে গেঁথে রয়েছে।
3
12
ডর: প্রেম আর পাগলামির মধ্যে যে সূক্ষ্ম পার্থক্য রয়েছে, তা বুঝিয়েছিলেন শাহরুখ। কিরণকে ভালবাসার নামে তার জীবন দুর্বিষহ করে তোলে রাহুল। একতরফা প্রেম, অতিরিক্ত অধিকারবোধ এবং ভয়ংকর জেদ—সব মিলিয়ে এই চরিত্রে শাহরুখ তৈরি করেছিলেন এক অস্বস্তিকর আবহ। তাঁর বিখ্যাত ‘ক...ক...কিরণ’ সংলাপ আজও জনপ্রিয়।
4
12
আঞ্জাম: প্রেমে প্রত্যাখ্যাত হলে একজন মানুষ কতটা নিষ্ঠুর হয়ে উঠতে পারে, তার উদাহরণ বিজয়। শিবানীর প্রতি তার একতরফা ভালবাসা ক্রমে প্রতিহিংসায় পরিণত হয়। প্রতিশোধের নেশায় সে একের পর এক ভয়ংকর কাজ করে। এই ছবিতে শাহরুখের অভিনয় প্রমাণ করেছিল, নেতিবাচক চরিত্রেও তিনি সমান সাবলীল।
5
12
ডুপ্লিকেট: একই ছবিতে দুটি আলাদা চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন শাহরুখ। একদিকে সহজ-সরল বাবলু, অন্যদিকে কুখ্যাত অপরাধী মানু দাদা। মানুর চরিত্রে তাঁর রুক্ষ চেহারা, বদমেজাজ এবং অপরাধজগতের দাপট ছিল দেখার মতো।
6
12
রাম জানে: ছোটবেলা থেকে অপরাধজগতের মধ্যে বড় হয়ে ওঠা এক যুবকের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন শাহরুখ। পরিস্থিতির চাপে অপরাধী হয়ে ওঠা রাম জানে কখনও নিষ্ঠুর, কখনও আবেগপ্রবণ। চরিত্রটির মধ্যে যেমন অন্ধকার দিক রয়েছে, তেমনই রয়েছে ভালবাসা ও বদলে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা।
7
12
ডন: অপরাধজগতের একচ্ছত্র সম্রাট ডন। ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পনা করা, পুলিশকে বোকা বানানো এবং প্রতিপক্ষকে নিজের বুদ্ধিতে হারানো, সবেতেই সিদ্ধহস্ত সে। শাহরুখের স্টাইল, সংলাপ বলার ধরন এবং আত্মবিশ্বাস এই চরিত্রকে অন্য মাত্রা দিয়েছিল। ‘ডন কো পকড়না মুশকিল হি নহি, নামুমকিন হ্যায়’ আজও দর্শকের মুখে মুখে ফেরে।
8
12
ডন ২: প্রথম ছবির তুলনায় আরও বেশি ধূর্ত, বিপজ্জনক এবং আত্মবিশ্বাসী হয়ে ফিরেছিল ডন। ইউরোপের অপরাধজগতেও নিজের আধিপত্য বিস্তার করতে চেয়েছিল সে। জটিল পরিকল্পনা, বুদ্ধির লড়াই এবং বিপদের মুখেও নির্বিকার থাকার ক্ষমতা, ডন হিসেবে শাহরুখের উপস্থিতি ছিল নজরকাড়া।
9
12
ফ্যান: প্রিয় তারকার প্রতি অন্ধ ভক্তি যখন ভয়ংকর আসক্তিতে পরিণত হয়, তখন কী হতে পারে? এই প্রশ্নই তুলেছিল ‘ফ্যান’। গৌরব নিজের প্রিয় অভিনেতা আরিয়ানের কাছ থেকে প্রত্যাখ্যাত হয়ে প্রতিশোধের পথে হাঁটে। একই ছবিতে তারকা ও উন্মত্ত ভক্ত—দুটি চরিত্রেই শাহরুখের অভিনয় ছিল বিশেষ আকর্ষণ।
10
12
রইস: ছোটবেলা থেকেই বেআইনি ব্যবসার জগতে জড়িয়ে পড়ে রইস। ধীরে ধীরে নিজের সাম্রাজ্য তৈরি করে সে। অপরাধজগতের সঙ্গে রাজনীতি, ক্ষমতা এবং পুলিশের সংঘাত সব মিলিয়ে চরিত্রটি ছিল বেশ জটিল। ধূসর চরিত্রে শাহরুখের অভিনয় দর্শকের নজর কেড়েছিল।
11
12
অশোকা: ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী সম্রাটের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন শাহরুখ। যুদ্ধ, ক্ষমতার লোভ এবং সাম্রাজ্য বিস্তারের আকাঙ্ক্ষায় অশোকের চরিত্রে উঠে এসেছিল এক কঠোর ও নির্মম দিক। যদিও এটি সরাসরি খলনায়কের চরিত্র নয়, বরং এক জটিল ঐতিহাসিক চরিত্রের অন্ধকার দিকও তুলে ধরেছিল এই ছবি।
12
12
রোমান্টিক নায়ক হিসেবে শাহরুখের জনপ্রিয়তা আকাশছোঁয়া। কিন্তু কেরিয়ারের দিকে ফিরে তাকালে বোঝা যায়, পর্দায় ভয়ংকর হয়ে উঠতেও তাঁর জুড়ি মেলা ভার। কখনও প্রতিশোধের আগুন, কখনও অন্ধ প্রেম, আবার কখনও অপরাধজগতের বাদশা, প্রতিটি চরিত্রেই নিজের অভিনয়ের আলাদা ছাপ রেখেছেন তিনি।