প্রশান্ত মহাসাগরজুড়ে এক প্রলয়ঙ্করি এল নিনোর আত্মপ্রকাশ ঘটছে। আবহাওয়াবিদদের সাম্প্রতিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, ৯০ শতাংশেরও বেশি সম্ভাবনা রয়েছে যে এই প্রাকৃতিক ঘটনাটি ২০২৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধ এবং ২০২৭ সালের শুরুর দিকে একটি অত্যন্ত মারাত্মক রূপ নিতে চলেছে। এটি বিশ্বজুড়ে আবহাওয়া ও জলবায়ুর স্বাভাবিক ভারসাম্য সম্পূর্ণরূপে ওলটপালট করে দিতে পারে।
2
11
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফিয়ারিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের সর্বশেষ মূল্যায়নে দেখা গেছে, পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে সমুদ্রের জলের তাপমাত্রা গত এক মাসে অভূতপূর্ব হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিষুবরেখীয় বা নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের কিছু অংশে সমুদ্রের উপরিভাগের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি উপরে উঠে গেছে।
3
11
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হল, কেবল সমুদ্রের উপরিভাগই নয়, গভীরের জলও অস্বাভাবিক গরম হয়ে উঠেছে। এই গভীরের অতিরিক্ত তাপ সামনের দিনগুলোতে এল নিনোকে আরও দীর্ঘস্থায়ী ও শক্তিশালী করার পর্যাপ্ত জ্বালানি জোগাচ্ছে।
4
11
বায়ুমণ্ডলীয় প্যাটার্ন এবং বাতাস ইতিমধ্যেই এল নিনোর স্পষ্ট প্রভাব দেখাতে শুরু করেছে। প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্ব অঞ্চলে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হচ্ছে।
5
11
বিপরীতে, ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিস্তীর্ণ অংশে দেখা দিচ্ছে চরম খরা এবং শুষ্ক আবহাওয়া। এছাড়া ক্রান্তীয় অঞ্চলের বায়ুপ্রবাহেও একটি লক্ষণীয় পরিবর্তন এসেছে, যা শক্তিশালী এল নিনোর অন্যতম প্রধান লক্ষণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
6
11
আবহাওয়া বিজ্ঞানীদের মতে, এই কথাটি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না যে বর্তমান এল নিনোটি ১৯৬০ সালের পর থেকে রেকর্ড করা অন্যতম শক্তিশালী জলবায়ু ঘটনা হিসেবে স্থান করে নেবে। এনওএএ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক জলবায়ু গবেষণা সংস্থার পূর্বাভাস মডেলগুলো বলছে, এটি বিগত কয়েকটি দশকের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে দেওয়ার প্রায় ৬৯ শতাংশ আশঙ্কা রয়েছে।
7
11
যদি এই পূর্বাভাস সত্য হয়, তবে এটি ১৯৫৭-৫৮, ১৯৯৭-৯৮ কিংবা ২০১৫-১৬ সালের ঐতিহাসিক ও বিধ্বংসী এল নিনো পর্বগুলোর মতো ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।
8
11
সাধারণত, এল নিনো এমন একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া যেখানে প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্যাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলের জল অস্বাভাবিকভাবে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এর ফলে বিশ্বব্যাপী আবহাওয়ার বিন্যাস মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হয়।
9
11
এর প্রভাবে পৃথিবীর কোনও কোনও অঞ্চলে সৃষ্টি হয় অভূতপূর্ব দাবদাহ, দাবানল ও খরা, আবার কোনও অঞ্চলে দেখা দেয় ভয়াবহ বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস।
10
11
তবে বিজ্ঞানীরা এও মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে, একটি শক্তিশালী এল নিনো মানেই সব অঞ্চলে একই ধরণের আবহাওয়া হবে—এমনটি নিশ্চিত করে বলা যায় না। ঘটনার তীব্রতা বাড়লে বিশ্বে প্রভাব বাড়লেও, স্থানীয় আবহাওয়ার পরিস্থিতি অঞ্চলভেদে বেশ পরিবর্তিত হতে পারে।
11
11
পৃথিবীর নানা দেশের আবহাওয়া দপ্তর এই পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে। বিশেষ করে যেসব দেশ কৃষি ও ঋতুভিত্তিক বৃষ্টিপাতের ওপর গভীরভাবে নির্ভরশীল, সেখানে এর প্রভাব হতে পারে সুদূরপ্রসারী। সেপ্টেম্বরের আগামী আপডেটগুলোতে এই এল নিনোর চূড়ান্ত রূপ কতটা ধ্বংসাত্মক হতে পারে, তা আরও স্পষ্টভাবে জানা যাবে।