ঢোঁড়া সাপ মানেই তা জলঢোঁড়া বা বিষহীন-এমন ভাবনা ভুল। এই ভুল ভাবনায় বদল আনা জরুরি। কারণ, এই প্রজাতির মধ্যেও লুকিয়ে রয়েছে এক মারাত্মক বিপদ।
2
10
গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে এমন এক ঢোঁড়া সাপের দেখা মিলেছে, যা অত্যন্ত বিষধর। এর ইংরেজি নাম ‘হেলার্স রেডনেক কিলব্যাক'। আর বাংলায় পরিচিত ‘লাল গলা ঢোঁড়া’ নামে।
3
10
গলার কাছে টকটকে লালচে ছোপ দেখলেই চেনা যায় এই সাপকে। দেখতে যেমন আকর্ষণীয়, স্বভাব ততটাই বিষাক্ত। কিন্তু সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এর ছোবল সামলানোর মতো এন্টিভেনাম (বিষ প্রতিষেধক) আপাতত বাংলাদেশে অমিল।
4
10
কেবল জাপানেই মেলে এই বিষের প্রতিষেধক, যা স্বাভাবিকভাবেই চরম ঝুঁকির তৈরি করছে।
5
10
মূলত বনজঙ্গল, পাহাড়ি এলাকা ও জলাভূমিই এদের আস্তানা। বিশেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন বনাঞ্চলে এই বিষধর সাপের উপস্থিতির প্রমাণ মিলেছে।
6
10
প্রাণীবিদরা জানাচ্ছেন, এর বিষ একাধারে নিউরোটক্সিক ও হেমোটক্সিক। অর্থাৎ, স্নায়ুতন্ত্র অচল করার পাশাপাশি রক্তের সংবহনতন্ত্র নিমেষে ধ্বংস করে দিতে পারে এই বিষ।
7
10
সাধারণ মানুষ একে জলঢোঁড়া ভেবে ভুল করেন বলেই ছোবল খাওয়ার পর চিকিৎসায় দেরি হয়ে যায়, আর তখনই আসে প্রাণঘাতী বিপর্যয়।
8
10
গোখরো বা পদ্মগোখরোর মতো এই লাল গলা ঢোঁড়ার পরিচিতি ততটা ছড়ায়নি। ফলে নজরদারির অভাবেই ঝুঁকি বাড়ছে। বনজঙ্গল ও পাহাড় এলাকা ঘুরে বেড়ানোর সময় বাড়তি সতর্কতা জরুরি। সামনে পড়ে গেলে সাপ ধরার চেষ্টা তো নয়ই, উল্টে দূরত্ব রাখাই শ্রেয়।
9
10
একই সঙ্গে স্বাস্থ্য দপ্তর ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিশেষজ্ঞদের স্পষ্ট আরজি- দ্রুত এই বিশেষ সাপের এন্টিভেনাম দেশে আনার ব্যবস্থা করা হোক।
10
10
সচেতনতা না বাড়লে কেবল অজ্ঞতার জেরেই শেষ হতে পারে একটি প্রাণ।