প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ১০ জুন এক ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। টানা ৪,৩৯৯ দিন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে তিনি ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর ৪,৩৯৮ দিনের ধারাবাহিক শাসনের রেকর্ড ভেঙেছেন।
2
12
একই সঙ্গে মোদি নেতৃত্বাধীন জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট সরকারের ১২ বছর পূর্ণ হয়েছে। এই উপলক্ষে নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে এনডিএ-শাসিত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মুখ্যমন্ত্রী, উপমুখ্যমন্ত্রী এবং শীর্ষ নেতৃত্বের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সভাপতিত্ব করতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী।
3
12
মোদি সরকারের এই ১২ বছরে দেশের কর ব্যবস্থায় একাধিক বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে সাধারণ করদাতা থেকে শুরু করে ব্যবসায়ীদের উপর।
4
12
নতুন আয়কর বিধি: সহজতর কর ব্যবস্থা চলতি বছরের শুরুতে কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রক নতুন আয়কর বিধি, ২০২৬ প্রকাশ করেছে। এর অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য হল কর সংক্রান্ত নিয়ম ও ফর্মের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা। আগে যেখানে আয়কর আইনের অধীনে ৩৯৯টি নিয়ম ছিল, সেখানে নতুন ব্যবস্থায় তা কমে দাঁড়িয়েছে ১৯০-এ।
5
12
একইভাবে ৫১১টি কর-সংক্রান্ত ফর্ম কমিয়ে ৩৩৩টি করা হয়েছে। এছাড়া নতুন ফর্মগুলিকে আরও সহজবোধ্য করা হয়েছে এবং অনেক তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে পূরণ হয়ে যাবে। সরকারের দাবি, এই পরিবর্তনের ফলে করদাতাদের জন্য রিটার্ন দাখিল করা সহজ হবে এবং ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে প্রশাসনিক জটিলতা কমবে।
6
12
নতুন কর ব্যবস্থায় ছাড় ও স্ল্যাব পরিবর্তন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন গত কয়েক বছরের বাজেটে নতুন কর ব্যবস্থাকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছেন। নতুন ট্যাক্স রেজিমে বিভিন্ন কর স্ল্যাব পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে মধ্যবিত্ত ও বেতনভোগী কর্মীরা বেশি সুবিধা পান।
7
12
বর্তমান কাঠামো অনুযায়ী ২.৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয়ে কোনও কর নেই। ২.৫ লক্ষ টাকা থেকে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয়ে ৫% কর। ৫ লক্ষ টাকা থেকে ৭.৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ১০% কর।
8
12
৭.৫ লক্ষ টাকা থেকে ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ১৫% কর। ১০ লক্ষ টাকা থেকে ১২.৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ২০% কর। ১২.৫ লক্ষ টাকা থেকে ১৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ২৫% কর। ১৫ লক্ষের বেশি আয়ে ৩০% কর। এই নতুন ব্যবস্থার ফলে অনেক করদাতার করের বোঝা কমেছে এবং কর প্রদানের প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ হয়েছে।
9
12
জিএসটি সংস্কার: কমল বহু পণ্যের দাম মোদি সরকারের অন্যতম বড় অর্থনৈতিক সংস্কার ছিল পণ্য ও পরিষেবা কর চালু করা। পরবর্তী সময়ে জিএসটি কাউন্সিল কর কাঠামো আরও সরল করার উদ্যোগ নেয়। আগে যেখানে চারটি প্রধান কর স্ল্যাব—৫%, ১২%, ১৮% এবং ২৮%—চালু ছিল, সেখানে পরবর্তীতে কাঠামোকে আরও সহজ করার জন্য দুটি প্রধান স্ল্যাব (৫% ও ১৮%) এবং কিছু বিশেষ পণ্যের ক্ষেত্রে ৪০% করের ব্যবস্থা রাখা হয়।
10
12
এই পরিবর্তনের ফলে প্রায় ৩৭৫টি পণ্যের উপর করের বোঝা কমেছে। এর মধ্যে রয়েছে গাড়ি, ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী, বিভিন্ন যন্ত্রপাতি, রান্নাঘরের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস এবং ওষুধ। ফলে বহু ক্ষেত্রে ভোক্তাদের খরচ কমেছে এবং ব্যবসায়িক লেনদেনও সহজ হয়েছে।
11
12
ডিজিটাল কর ব্যবস্থার দিকে অগ্রগতি গত ১২ বছরে আয়কর রিটার্ন দাখিল, রিফান্ড, নোটিস এবং তথ্য যাচাইয়ের মতো প্রায় সব পরিষেবাই ডিজিটাল মাধ্যমে নিয়ে আসা হয়েছে। ফেসলেস অ্যাসেসমেন্ট, অনলাইন রিফান্ড এবং প্রি-ফিলড রিটার্নের মতো ব্যবস্থার ফলে করদাতাদের অফিসে যাওয়ার প্রয়োজন অনেকটাই কমেছে।
12
12
মোদি সরকারের দাবি, এই সংস্কারগুলির মূল লক্ষ্য ছিল কর ব্যবস্থাকে সহজ, স্বচ্ছ এবং প্রযুক্তিনির্ভর করে তোলা। আর সেই পথেই গত এক দশকের বেশি সময় ধরে ভারতের কর প্রশাসন বড় ধরনের রূপান্তরের সাক্ষী হয়েছে।