বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বর্তমানে মিউচুয়াল ফান্ড এবং পোর্টফোলিও ম্যানেজমেন্ট সার্ভিসেস—এই দুই বিকল্পই বেশ জনপ্রিয়। তবে অনেক বিনিয়োগকারীই বুঝতে পারেন না, এই দুটির মধ্যে আসল পার্থক্য কোথায় এবং কার জন্য কোনটি বেশি উপযুক্ত।
2
14
যদিও উভয়ের লক্ষ্যই বিনিয়োগকারীর সম্পদ বৃদ্ধি করা, তবুও বিনিয়োগের ধরন, ন্যূনতম বিনিয়োগের পরিমাণ, ঝুঁকি এবং পোর্টফোলিও পরিচালনার ক্ষেত্রে বড় পার্থক্য রয়েছে।
3
14
মিউচুয়াল ফান্ড হল এমন একটি বিনিয়োগ মাধ্যম, যেখানে বহু বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে একটি নির্দিষ্ট তহবিল তৈরি করা হয়। এরপর একজন পেশাদার ফান্ড ম্যানেজার সেই অর্থ শেয়ার, বন্ড, স্বর্ণ, ঋণপত্র বা অন্যান্য আর্থিক সম্পদে বিনিয়োগ করেন।
4
14
প্রতিটি স্কিমের নির্দিষ্ট বিনিয়োগ নীতি থাকে এবং সেই অনুযায়ী সব বিনিয়োগকারীর অর্থ একই পোর্টফোলিওতে বিনিয়োগ করা হয়।
5
14
মিউচুয়াল ফান্ডের সবচেয়ে বড় সুবিধা হল, খুব অল্প টাকা দিয়েও বিনিয়োগ শুরু করা যায়। মাত্র ১০০ টাকা থেকেও এসআইপি বা এককালীন বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। তাই নতুন এবং ছোট বিনিয়োগকারীদের জন্য এটি একটি জনপ্রিয় বিকল্প।
6
14
পোর্টফোলিও ম্যানেজমেন্ট সার্ভিসেস মূলত উচ্চ সম্পদশালী বিনিয়োগকারীদের জন্য তৈরি একটি ব্যক্তিগত বিনিয়োগ পরিষেবা। সেবির নিয়ম অনুযায়ী, পিএমএসে বিনিয়োগ করতে ন্যূনতম ৫০ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ বাধ্যতামূলক।
7
14
এখানে প্রতিটি বিনিয়োগকারীর জন্য আলাদা পোর্টফোলিও তৈরি করা হয়। বিনিয়োগকারীর আর্থিক লক্ষ্য, ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতা, কর সংক্রান্ত পরিকল্পনা, বিনিয়োগের সময়কাল এবং ব্যক্তিগত পছন্দ অনুযায়ী পোর্টফোলিও সাজিয়ে দেন পোর্টফোলিও ম্যানেজার। পিএমএসের অধীনে কেনা শেয়ার ও অন্যান্য সম্পদ সরাসরি বিনিয়োগকারীর ডিম্যাট অ্যাকাউন্টে থাকে।
8
14
মিউচুয়াল ফান্ডে খুব কম অর্থ দিয়েই বিনিয়োগ করা যায়। অন্যদিকে পিএমএসে শুধুমাত্র বড় বিনিয়োগকারীদের জন্য এবং এতে অন্তত ৫০ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করতে হয়।
9
14
মিউচুয়াল ফান্ডে একই স্কিমের সব বিনিয়োগকারীর জন্য একটি নির্দিষ্ট পোর্টফোলিও থাকে। কিন্তু পিএমএসে প্রতিটি বিনিয়োগকারীর জন্য আলাদা ও কাস্টমাইজড পোর্টফোলিও তৈরি হয়।
10
14
মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগকারীরা স্কিমের ইউনিটের মালিক হন। কিন্তু পিএমএসে বিনিয়োগকারী সরাসরি শেয়ার, বন্ড বা অন্যান্য সম্পদের মালিক হন এবং সেগুলি তাঁর নিজের ডিম্যাট অ্যাকাউন্টে থাকে।
11
14
মিউচুয়াল ফান্ডে বড়-ক্যাপ, মিড-ক্যাপ, স্মল-ক্যাপ, ফ্লেক্সি-ক্যাপ, হাইব্রিড বা ডেট ফান্ডের মতো পূর্বনির্ধারিত নিয়ম মেনে বিনিয়োগ করা হয়।
12
14
মিউচুয়াল ফান্ড সাধারণত বিভিন্ন সেক্টর ও কোম্পানিতে বিনিয়োগ করে ঝুঁকি কমানোর চেষ্টা করে। পিএমএসে তুলনামূলকভাবে কম সংখ্যক নির্বাচিত শেয়ারে বেশি বিনিয়োগ করা হতে পারে। ফলে ভালো রিটার্নের সম্ভাবনা যেমন বেশি থাকে, তেমনি ঝুঁকিও তুলনামূলক বেশি হতে পারে।
13
14
যাঁরা কম অর্থ দিয়ে নিয়মিত বিনিয়োগ করতে চান এবং তুলনামূলকভাবে সহজ ও বৈচিত্র্যময় পোর্টফোলিও পছন্দ করেন, তাঁদের জন্য মিউচুয়াল ফান্ড উপযুক্ত। অন্যদিকে, যাঁদের বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করার সামর্থ্য রয়েছে এবং ব্যক্তিগতভাবে সাজানো বিনিয়োগ কৌশল চান, তাঁদের জন্য পিএমএস একটি ভালো বিকল্প হতে পারে।
14
14
তবে যে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিজের আর্থিক লক্ষ্য, ঝুঁকি গ্রহণের ক্ষমতা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বিবেচনা করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। নাহলে আর্থিক ক্ষতির সামনে পড়তে পারেন।