পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্নের মধ্যেও সাধারণ মানুষের উপর অতিরিক্ত চাপ কমাতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে কেন্দ্র সরকার। পেট্রোল ও ডিজেলের উপর আবগারি শুল্ক কমিয়ে গত ৭৮ দিনে প্রায় ১.২৩ লক্ষ কোটি টাকার রাজস্ব ত্যাগ করেছে কেন্দ্র। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি পেলেও সেই চাপের বড় অংশ ভোক্তাদের উপর পড়েনি।
2
10
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ স্ট্রেট অব হরমুজে চলা অস্থিরতা এবং পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। অপরিশোধিত তেল ও এলএনজি পরিবহণে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়েছে। এর ফলে ভারতের তেল বিপণন সংস্থাগুলি বা অয়েল মার্কেটিং কোম্পানিগুলির উপর আর্থিক চাপও বৃদ্ধি পেয়েছে।
3
10
তবে এই পরিস্থিতিতেও দেশের প্রধান তেল বিপণন সংস্থাগুলি সম্পূর্ণ মূল্যবৃদ্ধির বোঝা গ্রাহকদের উপর চাপিয়ে দেয়নি। কেন্দ্রের কর ছাড় এবং ধাপে ধাপে মূল্য সংশোধনের ফলে ক্ষতির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
4
10
পেট্রোলিয়াম সচিব সুজাতা শর্মার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মে মাসে ওএমসিগুলির দৈনিক আন্ডার-রিকভারি বা ক্ষতির পরিমাণ ৬০০ কোটির টাকার নিচে নেমে এসেছে। এর আগে এই ক্ষতির পরিমাণ প্রতিদিন প্রায় ১,০০০ কোটি টাকা ছিল। অর্থাৎ সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে তেল সংস্থাগুলির আর্থিক চাপ অনেকটাই কমেছে।
5
10
গত মে মাসের শেষ সপ্তাহে কেন্দ্র সরকার গড়ে লিটার প্রতি ২.৭ টাকা জ্বালানির দাম বাড়ানোর অনুমোদন দেয়। এই সিদ্ধান্তের ফলে তেল সংস্থাগুলির সামগ্রিক ক্ষতি অন্তত ৪৪ শতাংশ কমবে বলে অনুমান করা হয়। চার দফায় এই মূল্যবৃদ্ধি কার্যকর করা হয়— ১৫ মে, ১৯ মে, ২৩ মে এবং ২৫ মে।
6
10
এই চার দফা সংশোধনের ফলে দিল্লিতে পেট্রোলের দাম লিটার প্রতি ৯৪.৭৭ টাকা থেকে বেড়ে ১০২.১২ টাকায় পৌঁছায়। একই সময়ে ডিজেলের দাম ৮৭.৬৭ টাকা থেকে বেড়ে ৯৫.২০ টাকা হয়।
7
10
পশ্চিম এশিয়ার সংকটের কারণে প্রায় দেড় মাস ধরে অপরিশোধিত তেল ও এলএনজি আমদানিতে আন্তর্জাতিক স্তরে সমস্যা দেখা দিলেও ভারতের জ্বালানি সরবরাহে তেমন কোনও প্রভাব পড়েনি বলে জানিয়েছেন পেট্রোলিয়াম সচিব। তাঁর মতে, দেশের জ্বালানি আমদানি এখনও স্বাভাবিক রয়েছে এবং সরবরাহ শৃঙ্খল কার্যকরভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
8
10
তিনি আরও জানান, মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে দৈনিক আন্ডার-রিকভারি প্রায় ৭৫০ কোটি টাকায় নেমে এসেছিল। সেই সময়ও কেন্দ্র সরকার রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থাগুলির জন্য কোনও বিশেষ আর্থিক সহায়তা বা বেলআউট প্যাকেজ বিবেচনা করছে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
9
10
এলপিজি সরবরাহ নিয়েও আশ্বস্ত করেছে সরকার। বিশ্বের সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ থাকা সত্ত্বেও তেল সংস্থাগুলি নিয়মিতভাবে রান্নার গ্যাস সরবরাহ বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে।
10
10
সব মিলিয়ে, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার মধ্যেও কর ছাড়, সীমিত মূল্যবৃদ্ধি এবং কার্যকর সরবরাহ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কেন্দ্র সরকার একদিকে যেমন তেল সংস্থাগুলির ক্ষতি কমিয়েছে, তেমনই সাধারণ ভোক্তাদের উপর অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা পড়াও অনেকাংশে রোধ করেছে।