সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। বহু করদাতার জন্য ৩১ মার্চ ক্যালেন্ডারের আর পাঁচটা দিনের মতো নয়—এটাই চলতি অর্থবর্ষে কর সাশ্রয়ের শেষ সুযোগ। যদি এখনও ট্যাক্স পরিকল্পনা ফেলে রেখে থাকেন, তবে এখনই পদক্ষেপ নেওয়ার শেষ সময়। কিছু স্মার্ট বিনিয়োগ করলে আপনার করের বোঝা অনেকটাই কমানো সম্ভব—তবে দেরি করলে সুযোগ হাতছাড়া হতে পারে।
2
8
নিচে দেওয়া হল এমন পাঁচটি সহজ বিনিয়োগের পথ, যা শেষ মুহূর্তেও আপনাকে ট্যাক্স বাঁচাতে সাহায্য করবে এবং একই সঙ্গে আর্থিকভাবে সুরক্ষিত রাখবে।
3
8
মিউচুয়াল ফান্ড: ইক্যুইটি লিঙ্কড সেভিংস স্কিম এখনও ট্যাক্স সেভিংয়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় অপশনগুলির একটি। এটি আয়কর আইনের ধারা 80C-র আওতায় ছাড় দেয় এবং এর লক-ইন পিরিয়ড মাত্র ৩ বছর—যা এই ধরনের বিনিয়োগের মধ্যে সবচেয়ে কম। সবচেয়ে বড় সুবিধা হল, খুব সহজে অনলাইনে কয়েক মিনিটের মধ্যেই বিনিয়োগ করা যায়। যদিও রিটার্ন বাজারের উপর নির্ভরশীল, তবুও দীর্ঘমেয়াদে অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী বিনিয়োগের তুলনায় বেশি লাভের সম্ভাবনা থাকে।
4
8
স্বাস্থ্য বিমা: স্বাস্থ্য বিমার প্রিমিয়াম দেওয়ার মাধ্যমে আপনি ট্যাক্সও বাঁচাতে পারেন। ধারা 80D অনুযায়ী, ব্যক্তি বছরে সর্বোচ্চ ২৫,০০০ টাকা পর্যন্ত ছাড় পেতে পারেন। সিনিয়র সিটিজেনদের ক্ষেত্রে এই সীমা ৫০,০০০ টাকা।
নিজে, স্ত্রী/স্বামী, সন্তান এবং বাবা-মায়ের জন্য প্রিমিয়াম দিলে এই সুবিধা পাওয়া যায়। অর্থাৎ এটি শুধু ট্যাক্স সেভিং নয়, ভবিষ্যতের জন্য আর্থিক সুরক্ষাও নিশ্চিত করে।
5
8
ট্যাক্স-সেভিং ফিক্সড ডিপোজিট: যারা ঝুঁকি নিতে চান না, তাদের জন্য ট্যাক্স-সেভিং ফিক্সড ডিপোজিট একটি সহজ ও নিরাপদ বিকল্প। এটি ধারা 80C-র অধীনে কর ছাড় দেয় এবং এর লক-ইন পিরিয়ড ৫ বছর। ব্যাঙ্ক নির্দিষ্ট সুদের হার দেয়, যা বিনিয়োগকারীদের নিশ্চয়তা প্রদান করে। তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—এই ফিক্সড ডিপোজিট সুদ করযোগ্য।
6
8
পাবলিক প্রভিডেন্ট ফান্ড: পিপিএফ দীর্ঘদিন ধরে একটি বিশ্বস্ত বিনিয়োগ মাধ্যম হিসেবে পরিচিত। সরকার-সমর্থিত এই স্কিমে স্থিতিশীল রিটার্নের পাশাপাশি কর ছাড়ও পাওয়া যায় (ধারা 80C)। এর মেয়াদ ১৫ বছর, ফলে এটি দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক লক্ষ্য পূরণের জন্য আদর্শ। এখন প্রায় সব ব্যাঙ্কেই অনলাইনে পিপিএফে বিনিয়োগ করা যায়, তাই শেষ দিনেও এটি করা সম্ভব।
7
8
ন্যাশনাল পেনশন সিস্টেম: এনপিএস ট্যাক্স সেভিংয়ের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সুবিধা দেয়। ধারা 80CCD(1)-এর অধীনে ১.৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ছাড় পাওয়া যায়। এর পাশাপাশি ধারা 80CCD(1B)-এর অধীনে অতিরিক্ত ৫০,০০০ টাকার ছাড় মিলতে পারে। এছাড়া নিয়োগকর্তার অবদানের ক্ষেত্রেও (80CCD(2)) কর সুবিধা পাওয়া যায়, যা এটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।
8
8
এই সমস্ত অপশন মূলত পুরনো কর ব্যবস্থার ক্ষেত্রে কার্যকর। এছাড়া, এই অর্থবর্ষে ছাড় পেতে হলে অবশ্যই ৩১ মার্চের মধ্যেই বিনিয়োগ সম্পূর্ণ করতে হবে। সুতরাং, আর দেরি না করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিন। সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ নিলে কর বাঁচানো যেমন সম্ভব, তেমনই ভবিষ্যতের আর্থিক ভিত্তিও মজবুত করা যায়।