লাস ভেগাসের দ্য স্পিয়ার—তার অনন্য গোলাকার পর্দা, সর্বাধুনিক প্রযুক্তি এবং ফোরডি অভিজ্ঞতার জন্য বিশ্বের নজর কেড়েছে। সেই স্পিয়ারে উপভোগ করতে যাওয়া একইসঙ্গে উত্তেজনাপূর্ণ ও খানিকটা শঙ্কাজনক। তবে অভিজ্ঞতা শেষে বলা যায়, যদি আপনার কাছে অতিরিক্ত ১২৫ ডলার থাকে তাহলে লাস ভেগাস ভ্রমণকারীদের এবং উইজার্ড অব অজ–প্রেমীদের অবশ্যই একবার এই অভিজ্ঞতা নেওয়া উচিত।
2
9
স্পিয়ারের মতো প্রযুক্তি-নির্ভর পরিবেশ কি সিনেমাটির প্রতি আরও আকর্ষিত করতে পারে? বিশেষ করে নতুন সিনেমা যেভাবে দর্শক টানতে চাইছে, তার চেয়েও কি এটি বেশি টানবে? বাস্তবতা হল—স্পিয়ারের এআই–সমৃদ্ধ পরিবেশ সত্যিই ক্যানসাস এবং ওজের দুনিয়ায় দর্শকদের গভীরভাবে টেনে নিয়ে যায়।
3
9
স্পিয়ারের স্ক্রিন মাথার উপর দিয়ে আরও অনেক ওপরে উঠে গেছে, আর দর্শকের আসনের অবস্থানভেদে পেছন দিক পর্যন্ত বিস্তৃত। ফলে মনে হয় যেন আপনি ডরোথি এবং তার বন্ধুদের সঙ্গে সঙ্গে এমেরাল্ড সিটির পথে হাঁটছেন।
4
9
পুরো ব্যাকগ্রাউন্ড AI-তৈরি—এটা বুঝতে খুব বেশি দেরি লাগে না—তবুও এর কার্যকারিতা অস্বীকার করা যায় না। মাঝে মাঝে মনে হয় যেন ক্যামেরা আমাদের দিকে এগিয়ে আসছে, অথবা আমরা ডরোথির দিকে হেঁটে যাচ্ছি; এই সূক্ষ্ম গতির অনুভূতি দর্শকদের আরও গল্পের মধ্যে ডুবিয়ে রাখে।
5
9
যেখানে সাধারণ থিয়েটারে ফোরডি এফেক্টগুলো তেমন মানানসই হয় না, সেখানে স্পিয়ার সেগুলোকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গেছে। বিশেষ করে টর্নেডো দৃশ্যে, যখন আসনগুলো কাঁপে, বিশাল ফ্যান থেকে বাতাস আসে, কৃত্রিম পাতা উড়তে থাকে—মনে হয় যেন ঝড়টি সত্যিই আপনার চারপাশে ঘুরছে। তবু সিনেমা দেখার মূল অভিজ্ঞতা নষ্ট হয় না।
6
9
কিন্তু সব এফেক্ট সমান সফল নয়। কিছু বাস্তব এফেক্ট—যেমন বুদবুদ ভাসা, সিলিং থেকে স্টাইরোফোম আপেল পড়া, বা সত্যিকারের ফ্লাইং মাংকি—একসময় সিনেমার গল্পের চেয়ে বেশি মনোযোগ কেড়ে নেয়। আপেল পড়লে দর্শকরা সেগুলো ধরতে চায়, উড়ন্ত বানর দেখলে পর্দার বদলে ছাদের দিকে তাকিয়ে থাকে। যারা সিনেমাটি শতবার দেখেছে, তাদের জন্য সমস্যা না হলেও নতুন দর্শকদের জন্য এটি গল্প থেকে মনোযোগ সরিয়ে নেওয়ার সমস্যা তৈরি করে।
7
9
তবুও স্পিয়ার কৌশলে এফেক্টের ব্যবহার কমিয়েছে, যাতে দর্শক বড় স্ক্রিনে আধুনিক রেন্ডারিংসহ সিনেমাটি উপভোগ করতে পারে। তবে অভিজ্ঞতাটি ভবিষ্যত চলচ্চিত্রের ধরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। সিনেমা কি একসময় থিম পার্ক–রাইডের মতো হয়ে যাবে? কিংবা এটাই কি স্বাভাবিক অগ্রগতি? যেমন ‘Earthquake’ (১৯৭৪) ছবিতে Sensurround ব্যবহার করে আসন কাঁপানোর চেষ্টা হয়েছিল। প্রযুক্তি যত এগোবে, ততই তো সিনেমা আরও অভিজ্ঞতাভিত্তিক হবে।
8
9
সব মিলিয়ে The Sphere: Wizard of Oz মুগ্ধ করেছে—বিশেষত এর নিমগ্ন পরিবেশ এবং ফোরডি উপাদানগুলো। কিন্তু একই সঙ্গে ভয়ও জেগেছে—এই অভিজ্ঞতা গল্পের বদলে নতুন এফেক্ট খুঁজতে শিখিয়ে দিচ্ছে, ঠিক যেমন থিম পার্কের রাইডে হয়।
9
9
এই প্রবণতা যদি বেড়েই চলে, তা রোমাঞ্চকর হওয়ার পাশাপাশি ক্লান্তিকরও হয়ে উঠতে পারে। আশা করা যায়, যাত্রাটি মাথা ঘোরানো উত্তেজনা দেবে, অসুস্থতা নয়।