চলতি অর্থবর্ষে আয়কর রিফান্ডের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে। তবে আয়কর রিটার্ন ফাইল করে ই-ভেরিফাই করলেই যে সঙ্গে সঙ্গে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে রিফান্ডের টাকা চলে আসবে, এমনটা নয়।
2
11
রিটার্ন ভেরিফিকেশনের পর সেটি আয়কর দপ্তরের তরফে প্রসেস হতে হয়। সেই প্রক্রিয়ায় কোনও অসঙ্গতি বা অতিরিক্ত যাচাইয়ের প্রয়োজন হলে রিফান্ড পেতে দেরি হতে পারে।
3
11
কেন্দ্রীয় প্রত্যক্ষ কর পর্ষদ তথ্য অনুযায়ী, ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলতি বছরে সরাসরি করের রিফান্ড গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৯.১৯ শতাংশ বেড়ে ২.২০ লক্ষ কোটি টাকা হয়েছে।
4
11
গত বছর একই সময়ে রিফান্ডের পরিমাণ ছিল ১.৭০ লক্ষ কোটি টাকা। অন্যদিকে, ৩১ অগস্ট পর্যন্ত আয়কর দপ্তরের কাছে ৭.৮ কোটিরও বেশি ITR জমা পড়েছে।
5
11
প্রথমত, রিটার্ন ফাইল এবং ই-ভেরিফাই করা মানেই সেটি প্রসেস হয়ে গিয়েছে, এমন নয়। আয়কর দপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী, ই-ভেরিফিকেশনের পর সাধারণত প্রায় ৪ থেকে ৫ সপ্তাহ সময় লাগতে পারে রিফান্ড প্রসেস হতে। তাই ভেরিফাই করা রিটার্নের স্ট্যাটাস যদি এখনও আন্ডার প্রসেসিং থাকে, সেক্ষেত্রে কিছুটা অপেক্ষা করতে হতে পারে।
6
11
রিটার্নের অবস্থা জানতে আয়কর দপ্তরের পোর্টালে লগ ইন করে নির্দিষ্ট অপশনে যেতে হবে। সেখানে রিটার্ন ভেরিফাই হয়েছে কি না, প্রসেস হয়েছে কি না, রিফান্ড ইস্যু হয়েছে, অ্যাডজাস্ট হয়েছে নাকি ব্যর্থ হয়েছে—তা দেখা যায়।
7
11
দ্বিতীয়ত, ITR-এ দাবি করা করের ক্রেডিট এবং আয়কর দপ্তরের কাছে থাকা তথ্যের মধ্যে কোনও পার্থক্য থাকলে রিফান্ড আটকে যেতে পারে। বিশেষ করে টিডিএস বা টিসিএস তথ্যের ক্ষেত্রে ভুল বা অমিল থাকলে সমস্যা তৈরি হতে পারে।
8
11
তৃতীয়ত, আগের কোনও আর্থিক বছরের বকেয়া করের দাবি থাকলেও বর্তমান বছরের রিফান্ডে প্রভাব পড়তে পারে। কোনও নিশ্চিত আউটস্ট্যান্ডিং ডিমান্ড থাকলে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে সেই বকেয়া দাবির সঙ্গে রিফান্ডের টাকা সমন্বয় করা হতে পারে।
9
11
চতুর্থত, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সমস্যার কারণেও রিফান্ড আটকে যেতে পারে। যেমন—নির্ধারিত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট প্রি ভ্যালিডেটেড না থাকা, অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যাওয়া, ভুল আইএফএসসি দেওয়া অথবা প্যানের সঙ্গে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের নামের তথ্যের অমিল থাকলে রিফান্ড ব্যর্থ হতে পারে।
10
11
পঞ্চমত, প্যান-আধার সংক্রান্ত কোনও সমস্যা বা অন্য কোনও অভিযোগ থাকলেও রিফান্ডে দেরি হতে পারে। তাই ই ফাইলিং অ্যাকাউন্টে কোনও নোটিশ রয়েছে কি না, তা নিয়মিত পরীক্ষা করা উচিত।
11
11
ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সমস্যার কারণে রিফান্ড ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট তথ্য সংশোধন করে ই ফাইলিং পোর্টালের মাধ্যমে রিফান্ড রিকোয়েস্ট জমা দিতে হতে পারে। তাই রিফান্ডের অপেক্ষায় থাকা করদাতাদের প্রথমে আইটিআর-এর স্ট্যাটাস, ট্যাক্স অডিট তথ্য, আউটস্ট্যান্ডিং ডিমান্ড এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিবরণ খতিয়ে দেখা জরুরি।