দিনে মাত্র ১৫ মিনিট বই পড়লেই মিলবে টাকা, স্ক্রিন টাইম কম করতে কোথায় এই বিশেষ উদ্যোগ?
নিজস্ব সংবাদদাতা
১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৩ : ০০
শেয়ার করুন
1
10
একটা নোটিফিকেশন, তারপর একটা রিল, তার পর আর একটা শর্টস, এইভাবেই কখন যে আধ ঘণ্টা, এক ঘণ্টা পেরিয়ে যায়, টেরই পাওয়া যায় না। সোশ্যাল মিডিয়ার এই লাগাতার স্ক্রলিং বা ‘ডুমস্ক্রলিং’ এখন বিশ্বের বহু মানুষের দৈনন্দিন অভ্যাসের অংশ। আর এই অভ্যাসের মোকাবিলায় এবার একেবারে অভিনব পথ বেছে নিয়েছে সিঙ্গাপুর।
2
10
স্মার্টফোন নামিয়ে বই হাতে তুলে নিলেই মিলবে পুরস্কার! হ্যাঁ, পড়ার অভ্যাস বাড়াতে নাগরিকদের আর্থিকভাবে উৎসাহিত করছে এই দেশ। এই উদ্যোগের লক্ষ্য, মানুষকে প্রতিদিন অন্তত কিছুটা সময় বই পড়ার অভ্যাসে ফেরানো।
3
10
এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের প্রতিদিন অন্তত ১৫ মিনিট পড়তে হবে। সেই পড়ার সময় সরকারি প্ল্যাটফর্মে লগ ইন করলে পাওয়া যাবে ভার্চুয়াল কয়েন।
4
10
প্রতি যোগ্য ১৫ মিনিটের রিডিং সেশনের জন্য মিলবে ২০টি কয়েন। ১০০০ কয়েন জমলে তা থেকে পাওয়া যাবে ১ সিঙ্গাপুর ডলার। অর্থাৎ প্রতিদিন একটি করে সেশন সম্পূর্ণ করলে ৫০ দিনে ১ সিঙ্গাপুর ডলার পাওয়া সম্ভব।
5
10
এক দিনে ১৫ মিনিটের বেশি পড়লেও অতিরিক্ত কয়েন পাওয়া যাবে না। দিনে সর্বোচ্চ একটি যোগ্য রিডিং সেশনই গণনা করা হবে। বর্তমানে উদ্যোগটি পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে এবং ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত এর বিভিন্ন দিক নিয়ে কাজ করা হবে।
6
10
সিঙ্গাপুরের এই উদ্যোগের নেপথ্যে রয়েছে ডিজিটাল দুনিয়ার ক্রমবর্ধমান প্রভাব। ফোনে ছোট ছোট ভিডিও, সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, নোটিফিকেশন, সব মিলিয়ে মানুষের দীর্ঘসময় ধরে একটি বিষয়ে মনোযোগ ধরে রাখার অভ্যাসে পরিবর্তন আসছে।
7
10
বিশেষ করে ‘ডুমস্ক্রলিং’ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। একের পর এক কনটেন্ট দেখতে দেখতে মানুষ এমন এক চক্রে আটকে পড়ছেন, যেখান থেকে বেরিয়ে এসে বইয়ের মতো দীর্ঘ লেখা পড়ার জন্য প্রয়োজনীয় মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে উঠছে।
8
10
সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল লাইব্রেরি বোর্ডের বক্তব্য অনুযায়ী, ছোট ভিডিও বা শর্ট-ফর্ম কনটেন্ট তথ্য পৌঁছে দিতে পারে, কিন্তু দীর্ঘসময় ধরে পড়ার অভ্যাস মনোযোগ, সমালোচনামূলক চিন্তা এবং কল্পনাশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে।
9
10
‘Brain rot’ শব্দবন্ধটিও এখন ডিজিটাল যুগের আলোচনায় বেশ পরিচিত। অতিরিক্ত অগভীর বা দ্রুতগতির অনলাইন কনটেন্ট ব্যবহারের ফলে মানসিক ক্লান্তি কিংবা গভীরভাবে চিন্তা করার ক্ষমতা কমে যাওয়ার ধারণাকে বোঝাতে এই শব্দটি ব্যবহার করা হচ্ছে। অনেক মানুষ এখনও প্রতিদিন প্রচুর শব্দ পড়েন, তবে তার বড় অংশই স্ক্রিনে। কিন্তু কোনও একটি লেখা বা বই নিয়ে দীর্ঘসময় ধরে মনোযোগ দিয়ে পড়ার যে অভ্যাস, অর্থাৎ ‘ডিপ রিডিং’, সেটিই কমে যাচ্ছে।
10
10
তবে প্রশ্নও উঠছে—টাকা দিয়ে কি সত্যিই বই পড়ার ভালবাসা তৈরি করা যায়?কেউ কেউ মনে করছেন, ছোট পুরস্কার মানুষকে অভ্যাস শুরু করতে সাহায্য করতে পারে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে বই পড়ার অভ্যাস ধরে রাখতে হলে কৌতূহল এবং পড়ার আনন্দটাই আসল। অর্থাৎ প্রথমে টাকা মানুষকে বইয়ের কাছে আনতে পারে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত বইয়ের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি হবে কি না, সেটাই বড় প্রশ্ন।সিঙ্গাপুরের উদ্যোগ আপাতত সেই পরীক্ষাই শুরু করেছে স্মার্টফোনের স্ক্রিনে অনন্ত স্ক্রলিংয়ের বদলে দিনে মাত্র ১৫ মিনিট বইয়ের পাতায় চোখ রাখলে কী বদল আসে, সেটাই দেখার।