ইতালীয় মডেল পামেলা জেনিনির মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে বিনোদন জগতে। পামেলা একাধারে মডেল ও টেলিভিশন তারকা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁকে তার প্রাক্তন সঙ্গী কর্তৃক নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনাটি পুরো ইউরোপে গভীর চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। মিলানে এই ২৯ বছর বয়সী মডেলকে তাঁর প্রাক্তন প্রেমিক জিয়ানলুকা সোনসিন হত্যা করেন বলে অভিযোগ। জেনিনি একটি 'নুড ডেটিং শো'-তে উপস্থিত হয়ে প্রথম পরিচিতি লাভ করেন।
2
6
এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে মিলানের গোরলা অঞ্চলের একটি অ্যাপার্টমেন্টের বারান্দায়। ৫২ বছর বয়সী সোনসিন এবং জেনিনির মধ্যে সম্পর্ক কিছুদিন ধরে দোলাচলে ছিল। যদিও তাঁরা তখনও আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পর্কে ছিলেন কিনা, তা নিয়ে ভিন্ন মত আছে। তবে নিশ্চিতভাবে জানা যায়, জেনিনি এই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে চাইছিলেন। ঘটনার রাতে, সোনসিন সম্ভবত পূর্বে নকল করা একটি চাবি ব্যবহার করে অ্যাপার্টমেন্টে প্রবেশ করেন।
3
6
দু'জনের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে পামেলা পুলিশকে ফোন করেন। পুলিশ যখন অ্যাপার্টমেন্টের দরজায় আসে, তখন পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ মোড় নেয়। পুলিশ এসেছে বুঝতে পেরে পামেলা, সোনসিনকে বলেছিলেন যে ফুড ডেলিভারি এসেছে। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। পামেলার মিথ্যে ধরে ফেলেন তিনি।
4
6
এরপর পুলিশ দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে এবং বারান্দায় রক্তাক্ত অবস্থায় পামেলাকে আবিষ্কার করে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, জেনিনির শরীরে ঘাড়, বুক, পিঠ ও হাত সহ শরীরের বিভিন্ন অংশে মোট ২৪টি ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলেই তিনি গুরুতর আঘাতের কারণে মারা যান।
5
6
পুলিশ যখন ঘটনাস্থলে পৌঁছয়, তখনই অভিযুক্ত জিয়ানলুকা সোনসিন একই ছুরি দিয়ে নিজেকে আঘাত করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। গলায় আঘাত করার পর তাঁকে দ্রুত মিলানের নিগুয়ারদা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তাঁর অবস্থা আশঙ্কামুক্ত, তবে তিনি পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে গুরুতর হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।
6
6
এই ঘটনা ইতালিতে গার্হস্থ্য হিংসা এবং নারী হত্যার মতো জঘন্য অপরাধগুলির ভয়াবহতা পুনরায় তুলে ধরেছে। পামেলা জেনিনির মতো একজন উঠতি তারকার জীবন এভাবে কেড়ে নেওয়ায় সমাজের বিভিন্ন স্তরে ক্ষোভ ও শোকের সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত বিচার এবং নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে সর্বত্র। এই মর্মান্তিক ঘটনাটি সম্পর্কের সহিংসতা এবং নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।