এখন ট্রেন যাত্রা অনেক সহজ। যেমন ট্রেনের সংখ্যা অনেক বেশি, তেমনই দিনে দিনে উন্নত হয়েছে ট্রেনের ব্যবস্থাপনা। তবে একটা সময় ছিল, যখন ভারতে ট্রেন চলাচল শুরু হলেও, তার মধ্যে ছিল না ‘টয়লেট’ অর্থাৎ শৌগাচার।
2
10
স্বাভাবিকভাবেই দূরপাল্লার গন্তব্যে যেতে, মাঝরাস্তায় বেজায় বিপাকে পড়তেন যাত্রীরা। ইতিহাসের তথ্য, বাংলায় এক ব্যক্তির করুণ কাহিনিই বাধ্য করে তৎকালীন ব্রিটিশদের রেলের যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণে।
3
10
শতাব্দী আগে, ভারতীয় ট্রেনগুলিতে এখনকার মতো টয়লেট ছিল না। আপনি কি জানেন ভারতীয় ট্রেনগুলি কীভাবে এই ব্যবস্থা পেল? এই গোটা ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে অখিল চন্দ্রসেন, এবং তাঁর কাহিনি।
4
10
এই প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, ১৮৫৩ সাল থেকে ব্রিটিশ ভারতে ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে সেগুলিতে ছিল না ‘টয়লেট’ ব্যবস্থা।
5
10
প্রথমদিকে এটা নিয়ে খুব একটা সমস্যা ছিল না, কারণ যাত্রা ,পথ ছিল সংক্ষিপ্ত। কিন্তু দীর্ঘ রুট চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি উদ্বেগের, চিন্তার হয়ে দাঁড়ায়। যদিও প্রায় পাঁচ দশক ধরে এই সময়া নানাভাবে উঠে এলেও, ব্রিটিশরা তাতে খুব একটা কর্ণপাত করেনি।
6
10
পরে ১৯০৯ সালে, টয়লেট স্থাপন করা হয়েছিল, তবে কেবল উচ্চ শ্রেণির কোচগুলিতে।
7
10
বাকি পরিস্থিতি বলদে যায় ১৯০৯ সালের ২ জুলাই। এই বাংলার বাংলার আহমেদপুর স্টেশনে, অখিল চন্দ্রসেন ট্রেনে ভ্রমণ করছিলেন,। মাঝ রাস্তায় তিনি শোয়চাগারে যাওয়ার প্রয়োজন বোধ করেন।
8
10
ট্রেনে কোনও সুবিধা না পাওয়ায় তিনি ট্রেন থেকে নেমে যান। আচমকা ট্রেন ছাড়ার বাঁশি বাজলে, একহাতে জলের পাত্র নিয়েই ট্রেনের পিছনে পিছনে দৌড়তে শুরু করেন তিনি। ওই মুহূর্তে অন্যান্যরা হাসিতে ফেটে পড়লেও, অখিলের জন্য অপমানজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়।
9
10
এই ঘটনার পরেই, রেলওয়ে জোনের অন্তর্গত ভোপাল রেল বিভাগের সদর দপ্তর হাবিবগঞ্জে অবস্থিত রেল বিভাগীয় অফিসে একটি চিঠি লেখেন তিনি, যেখানে ট্রেনে শৌচাগারের জন্য আবেদন জানান।
10
10
তারপরেই, ৮০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরত্বের ট্রেনগুলিতে প্রথমে উচ্চ শ্রেণির কোচগুলিতে এবং পরে সব বগিতেই শৌচাগার প্রতিস্থাপন করা হয়।