দেশজুড়ে আবহাওয়ার পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিল ভারতীয় আবহাওয়া দফতর । দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু এখনও কেরলে প্রত্যাশিত সময় অর্থাৎ ২৬ মে পৌঁছাতে পারেনি। তবে আরব সাগর এবং বঙ্গোপসাগরের কিছু অংশে মৌসুমী বায়ুর অগ্রগতি লক্ষ্য করা গিয়েছে। এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে ভারী বৃষ্টি, বজ্রবিদ্যুৎ এবং তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া দফতর।
2
10
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ বছর এল নিনোর প্রভাব দেখা যেতে পারে। যার ফলে বর্ষায় স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে কৃষি উৎপাদন, জলসংকট এবং বিদ্যুৎ চাহিদার উপর।
3
10
কোন কোন রাজ্যে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা?
আগামী কয়েক দিনে উত্তর-পূর্ব ভারত, উপকূলীয় কর্নাটক, কেরল, অসম, মেঘালয় এবং পশ্চিমবঙ্গের কিছু জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে উপকূলবর্তী এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া এবং বজ্রপাতের আশঙ্কাও রয়েছে।
4
10
অন্যদিকে বিহার, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা এবং ছত্তীসগঢ়ের কিছু অংশেও কালবৈশাখীর মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। ফলে সাধারণ মানুষকে প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না বেরোনোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
5
10
কোথায় তাপপ্রবাহের আশঙ্কা?
রাজস্থান, পঞ্জাব, হরিয়ানা, দিল্লি এবং উত্তরপ্রদেশের কয়েকটি এলাকায় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের থেকে অনেক বেশি থাকতে পারে বলে জানিয়েছে । দিনের বেলায় তীব্র গরম ও লু পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। শিশু, বৃদ্ধ এবং অসুস্থ ব্যক্তিদের বিশেষ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
6
10
বিশেষজ্ঞদের মতে, মৌসুমী বায়ুর অগ্রগতি ধীর হওয়ায় উত্তর ও পশ্চিম ভারতে গরমের প্রভাব আরও কিছুদিন বজায় থাকতে পারে।
7
10
কৃষিক্ষেত্রে প্রভাবের আশঙ্কা
ভারতের কৃষি ব্যবস্থা মূলত বর্ষার উপর নির্ভরশীল। যদি এ বছর বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের তুলনায় কম হয়, তাহলে ধান, ডাল এবং অন্যান্য ফসলের উৎপাদনে প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এল নিনোর কারণে বর্ষা দুর্বল হলে খাদ্যদ্রব্যের দামও বাড়তে পারে।
8
10
এছাড়া জলাধারে জলের পরিমাণ কমে গেলে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং পানীয় জলের সরবরাহেও সমস্যা তৈরি হতে পারে।
9
10
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা সাধারণ মানুষকে আগাম সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। বিশেষ করে বজ্রবিদ্যুৎ এবং ঝড়ের সময় খোলা জায়গায় না থাকার কথা বলা হয়েছে।
10
10
বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী কয়েক সপ্তাহ দেশের আবহাওয়া অত্যন্ত পরিবর্তনশীল থাকতে পারে। কোথাও ভারী বৃষ্টি, কোথাও তীব্র গরম—দুই পরিস্থিতির জন্যই প্রস্তুত থাকা জরুরি। মৌসুমী বায়ুর গতিপ্রকৃতির উপরই এখন নির্ভর করছে দেশের কৃষি ও অর্থনীতির বড় অংশ।