প্রযুক্তি ক্ষেত্রে উদ্ভাবন, কোয়ান্টিটেভ ফিন্যান্স এবং সমাজকল্যাণে ব্যাপক অবদানের জন্য এবার বিশেষ সম্মাননা আইআইটি খড়গপুরের এক প্রাক্তনীর। বিশ্বের প্রথম সারির বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া, লস অ্যাঞ্জেলেস (UCLA)- এর তরফে চলতি বছরের 'বর্ষসেরা প্রাক্তন ছাত্র'-এর সম্মানে ভূষিত হলেন ভারতীয়-আমেরিকান গবেষক মুকুন্দ পদ্মনাভনকে। স্যামুয়েলি স্কুল অব ইঞ্জিনিয়ারিং সম্প্রতি আনুষ্ঠানিক ভাবে এই সম্মানের জন্য নাম ঘোষণা করেছে।
2
6
রাজ্যে আইআইটি খড়গপুর থেকেই পড়াশোনা ভারতীয় বংশোদ্ভূত মুকুন্দের। সেখানে স্নাতকের পাঠ চুকিয়ে ইউসিএলএ-তে পাড়ি দেন। ১৯৮৯ সালে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতকোত্তরের পর ১৯৯২-তে সেখান থেকেই পিএইচডি অর্জন করেন।
3
6
ডক্টরেট ডিগ্রির কাজ সেরে তিনি বিখ্যাত 'আইবিএম থমাস জে ওয়াটসন রিসার্চ সেন্টার'-এ গবেষক হিসাবে যোগ দেন। সেখানে স্পিচ প্রসেসিং এবং স্পিচ-রিকগনিশন অ্যালগরিদম গবেষণায় বিশেষ দক্ষতার পরিচয় দেন। সিগন্যাল প্রসেসিং-এর ক্ষেত্রে তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ৮০টিরও বেশি গবেষণাপত্র এবং ২০টিরও বেশি মার্কিন পেটেন্ট প্রকাশিত হয়েছে।
4
6
পরবর্তীকালে তিনি আর্থিক ক্ষেত্রেও নিজের দক্ষতার পরিচয় দেন। নিউ ইয়র্কের কোয়ান্টিটেটিভ বিনিয়োগ সংস্থা 'রেনেসাঁ টেকনোলজিস'-এর অংশীদার ও পরিসংখ্যান গবেষক হিসেবে গাণিতিক ও পরিসংখ্যানগত মডেল তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
5
6
পেশাগত সাফল্যের পাশাপাশি নিজের সামাজিক দায়বদ্ধতার কথাও ভোলেননি মুকুন্দ। 'গুরু কৃপা ফাউন্ডেশন'-এর মাধ্যমে তিনি ভারত ও আমেরিকার শিক্ষা, সমাজকল্যাণ, সংস্কৃতি এবং পরিবেশ সংরক্ষণে নিয়মিত সহায়তা আর্থিক সহায়তা জারি রেখেছেন।
6
6
ইউসিএলএ স্যামুয়েলি ডিনস এক্সিকিউটিভ বোর্ডের সদস্য হিসেবে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকাঠামো উন্নয়নে বিপুল আর্থিক অনুদান দিয়েছেন। তাঁর নামাঙ্কিত 'সিস্টেমস স্কেলিং ল্যাবরেটরি' সেমিকন্ডাক্টর গবেষণায় সহায়তা করছে। এছাড়া তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও পঠনপাঠনের জন্য একাধিক ফেলোশিপ ও স্কলারশিপ ফান্ডেরও ব্যবস্থা করেছেন। উল্লেখ্য, এই প্রথম নয়। এর আগেো ২০১৯ সালে তিনি ইউসিএলএ স্যামুয়েলি প্রফেশনাল অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড এবং ২০২১ সালে আইআইটি খড়গপুর থেকে 'ডিস্টিনগুইশড অ্যালামনাস' পুরস্কারে ভূষিত হন।