হার্টের সমস্যা মানেই যে বুকে তীব্র ব্যথা বা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়া, এমন নয়। অনেক সময় হৃদরোগ নীরবে শরীরের ভেতরে বাড়তে থাকে, অথচ মানুষ টেরই পান না।
2
9
চিকিৎসকদের মতে, মাত্র ১০ সেকেন্ডের একটি সহজ পরীক্ষা অনেক ক্ষেত্রে হার্টের লুকিয়ে থাকা সমস্যার প্রাথমিক ইঙ্গিত দিতে পারে।
3
9
এই পরীক্ষার জন্য কোনও দামি যন্ত্র বা স্মার্টওয়াচের প্রয়োজন নেই। শুধু নিজের নাড়ির স্পন্দন অনুভব করলেই অনেকটা ধারণা পাওয়া সম্ভব। বিশেষজ্ঞদের মতে, হার্টের গতির পাশাপাশি তার ছন্দও খুব গুরুত্বপূর্ণ। যদি স্পন্দন নিয়মিত না হয়, তাহলে তা হৃদযন্ত্রের ছন্দজনিত সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।
4
9
কীভাবে করবেন ১০ সেকেন্ডের এই পরীক্ষা? প্রথমে শান্ত হয়ে বসুন। তারপর হাতের কবজির বুড়ো আঙুলের নীচে তর্জনী ও মধ্যমা আঙুল রাখুন। সেখানে নাড়ির স্পন্দন অনুভব করতে পারবেন।
5
9
এবার প্রায় ১০ সেকেন্ড ধরে স্পন্দন লক্ষ্য করুন। দেখুন হার্টবিট নিয়মিত হচ্ছে কি না। যদি কখনও দ্রুত, কখনও ধীর বা এলোমেলো মনে হয়, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।
6
9
কোন সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে? চিকিৎসকদের মতে, এই পরীক্ষায় ধরা পড়া অনিয়মিত স্পন্দন অনেক সময় অ্যাট্রিয়াল ফাইব্রিলেশন (এএফআইবি)-এর মতো সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। এটি এমন একটি অবস্থা, যেখানে হৃদযন্ত্রের উপরের অংশ স্বাভাবিক ছন্দে কাজ করে না। আশ্চর্যের বিষয়, অনেকের ক্ষেত্রে কোনও উপসর্গই দেখা যায় না। আবার কারও বুক ধড়ফড় করা, মাথা ঘোরা, শ্বাসকষ্ট বা অস্বাভাবিক ক্লান্তি হতে পারে।
7
9
কেন এই সমস্যা বিপজ্জনক? বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা, অ্যাট্রিয়াল ফাইব্রিলেশন দীর্ঘদিন ধরা না পড়লে রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি বাড়ে। সেই জমাট রক্ত মস্তিষ্কে পৌঁছলে স্ট্রোকও হতে পারে। তাই নাড়ির ছন্দে অস্বাভাবিকতা কখনওই অবহেলা করা উচিত নয়।
8
9
কারা বেশি সতর্ক থাকবেন? বয়স্ক ব্যক্তি, উচ্চ রক্তচাপের রোগী, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত মানুষ, স্থূলকায় ব্যক্তি এবং যাঁদের পরিবারে হৃদরোগের ইতিহাস রয়েছে, তাঁদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। শারীরিক পরিশ্রম কম করেন এমন মানুষদেরও ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।
9
9
তবে মনে রাখতে হবে, এই ১০ সেকেন্ডের পরীক্ষা কোনও রোগ নির্ণয় করে না। এটি শুধুমাত্র একটি প্রাথমিক সতর্ক সংকেত দিতে পারে। নাড়ির ছন্দে অস্বাভাবিকতা অনুভব করলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। কারণ হার্ট অনেক সময় চিৎকার করে নয়, বরং একটি অনিয়মিত স্পন্দনের মাধ্যমেই সমস্যার আভাস দেয়।