গ্রীষ্মের তীব্র গরমে চারদিকের তাপমাত্রা যেভাবে বাড়ছে, তাতে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড়। এই প্রচণ্ড রোদে শরীর খুব দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং ডিহাইড্রেশন বা জলশূন্যতা দেখা দেয়। আর একটু অসাবধান হলেই হিটস্ট্রোকের মতো বড় বিপদ ঘটতে পারে।
2
14
চিকিৎসকদের মতে, এই গরমে সুস্থ থাকতে গেলে রোজকার খাওয়া-দাওয়ায় কিছু পরিবর্তন আনা জরুরি। শরীরকে ভেতর থেকে ঠান্ডা রাখতে এবং এনার্জি বজায় রাখতে প্রতিদিন শরীর ঠান্ডা রাখে এমন পানীয় পান করা উচিত।
3
14
ডাবের জল ও লেবুর শরবত: তীব্র গরমে শরীর থেকে প্রচুর ঘাম বের হয়ে যায়। ডাবের জল সেই ঘাটতি পূরণ করে, কারণ এতে রয়েছে প্রাকৃতিক ইলেক্ট্রোলাইট এবং পটাশিয়াম। আর এক গ্লাস টাটকা লেবুর জল শরীরের ক্লান্তি দূর করে নিমেষেই সতেজতা ফিরিয়ে আনে।
4
14
ঘোল বা ছাঁচঃ টকদই দিয়ে তৈরি ঘোল বা ছাঁচ আমাদের পেট ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে। এটি হজমশক্তি বাড়ায় এবং গরমে পেটের গণ্ডগোল হতে দেয় না।
5
14
আম পোড়া শরবত (আম পান্না): কাঁচা আম পুড়িয়ে বা সেদ্ধ করে তৈরি এই শরবত গরমের দিনে অমৃতের মতো। এটি শরীরকে হিটস্ট্রোকের হাত থেকে বাঁচায় এবং ঘামের কারণে শরীর থেকে যে নুন-জল বেরিয়ে যায়, তার ভারসাম্য বজায় রাখে।
6
14
বেল বা তেঁতুলের শরবত: বেলের শরবত পেট পরিষ্কার রাখে এবং শরীর ঠান্ডা করে। পাশাপাশি, হালকা টক-মিষ্টি তেঁতুলের শরবতও শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে দারুণ কাজ করে।
7
14
গরমে এমন সব ফল ও সবজি খাওয়া উচিত, যাতে জলের পরিমাণ অনেক বেশি থাকে। এগুলো শরীরকে ভেতর থেকে হাইড্রেটেড রাখতে সাহায্য করে। যেমন তরমুজ ও শশায় প্রায় ৯২% জল থাকে, যা গরমে শরীরের জলের অভাব এক ফোঁটাও হতে দেয় না। এই সময়ে ভারী বা তেল-মশলাযুক্ত তরকারি না খেয়ে লাউ, ঝিঙে, চিচিঙ্গা বা পটলের মতো হালকা ও জলীয় সবজি বেশি করে খাওয়া উচিত।
8
14
দুপুরের খাবারের সঙ্গে এক বাটি টকদই খাওয়ার অভ্যাস করুন। পুদিনা পাতা শরীরকে ঠান্ডা রাখে, তাই পুদিনার চাটনি বা শরবত এই সময়ে খুবই উপকারী।
9
14
কী কী খাবার এড়িয়ে চলবেন? অতিরিক্ত তেল-মশলা ও ফাস্ট ফুড: বিরিয়ানি, চর্বিযুক্ত মাংস বা অতিরিক্ত মশলাদার খাবার হজম করতে শরীরের অনেক বেশি শক্তির প্রয়োজন হয়, যা শরীরের তাপমাত্রা আরও বাড়িয়ে দেয়। তাই এই সময়ে হালকা পাতলা খাবার খাওয়াই শ্রেয়।
10
14
চা, কফি ও কোল্ড ড্রিঙ্কসঃ অনেকেই তৃষ্ণা মেটাতে ঠান্ডা কোল্ড ড্রিঙ্কস বা এনার্জি ড্রিংকস খোঁজেন। কিন্তু চা-কফি কিংবা নরম পানীয় শরীরকে আরও বেশি শুষ্ক করে তোলে।
11
14
এছাড়াও তৃষ্ণা না পেলেও জল পান করুন। কিছুক্ষণ পরপরই সাধারণ জল বা ওআরএস-এর পান করতে পারেন। বাইরে বেরলে অবশ্যই সঙ্গে জলের বোতল রাখুন।
12
14
দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত রোদ সবচেয়ে বেশি কড়া থাকে। খুব দরকার না হলে এই সময়ে রোদে বেরবেন না। বেরতে হলে ছাতা, রোদচশমা ব্যবহার করুন।
13
14
অতিরিক্ত গরমে দীর্ঘক্ষণ রান্নাঘরে কাজ করলে শরীর খারাপ হতে পারে। রান্নাঘরে যাতে হাওয়া-বাতাস খেলে, সেই ব্যবস্থা রাখুন।
14
14
একটু সচেতন হয়ে খাদ্যাভ্যাসে এই সামান্য বদল আনলেই তীব্র দাবদাহের মধ্যেও আপনি নিজেকে ও আপনার পরিবারকে সম্পূর্ণ সুস্থ ও চনমনে রাখতে পারবেন।