স্মার্টফোন, ট্যাব বা টেলিভিশনের যুগে শিশুদের স্ক্রিন-টাইম নিয়ে উদ্বেগ নতুন নয়। এবার সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করল এক অভিনব গবেষণা। গবেষণায় দেখা গেছে, ছোট গাপ্পি মাছ যদি শুধুমাত্র স্ক্রিনে অন্য মাছের ভিডিও দেখে বড় হয়, তবে তাদের মস্তিষ্কের বিকাশ প্রায় সেই মাছগুলোর মতোই হয়, যারা একেবারেই সামাজিক যোগাযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় বেড়ে উঠেছে।
2
10
সুইডেনের গবেষকরা এই গবেষণা করেন। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে জার্নালে। গবেষকদের মূল উদ্দেশ্য ছিল, কেবল অন্যদের দেখা এবং তাদের সঙ্গে বাস্তব সময়ের যোগাযোগের মধ্যে কী পার্থক্য রয়েছে, তা বোঝা।
3
10
গবেষণায় অল্পবয়সী গাপ্পি মাছকে ২০ দিন ধরে তিনটি আলাদা পরিবেশে রাখা হয়। প্রথম দলটি অন্য জীবন্ত মাছের সঙ্গে দৃশ্যমান যোগাযোগ রাখতে পারত। দ্বিতীয় দলটি স্ক্রিনে মাছের ভিডিও দেখত, কিন্তু তাদের সঙ্গে কোনো বাস্তব যোগাযোগ ছিল না।
4
10
তৃতীয় দলটি প্রায় সম্পূর্ণ সামাজিক বিচ্ছিন্নতায় বেড়ে ওঠে। তিনটি দলের খাদ্য, আলো ও জলের পরিবেশ একই রাখা হয়েছিল, যাতে কেবল সামাজিক যোগাযোগের প্রভাবই মূল্যায়ন করা যায়।
5
10
ফলাফল ছিল অত্যন্ত চমকপ্রদ। যেসব মাছ জীবন্ত সঙ্গীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পেরেছিল, তাদের মস্তিষ্ক স্ক্রিন-নির্ভর মাছগুলোর তুলনায় প্রায় ৬ শতাংশ বড় হয়েছিল। শুধু তাই নয়, তাদের ঘ্রাণ-সংক্রান্ত মস্তিষ্কের অংশ বা অলফ্যাক্টরি বাল্বও তুলনামূলকভাবে বেশি বিকশিত হয়েছিল, যা সামাজিক তথ্য প্রক্রিয়াকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
6
10
অন্যদিকে, স্ক্রিনে মাছের ভিডিও দেখা গাপ্পিদের মস্তিষ্কের আকার প্রায় সেই মাছগুলোর মতোই ছিল, যারা সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় ছিল। অর্থাৎ, কেবল অন্যদের দেখা যথেষ্ট নয়; বাস্তব সময়ের পারস্পরিক প্রতিক্রিয়াই মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বিকাশে বড় ভূমিকা রাখে।
7
10
গবেষণার প্রধান লেখক অলিভিয়া বলেন, “শুধু সামাজিক সংকেত দেখা যথেষ্ট নয়। অন্য একটি জীব আপনার আচরণে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দিচ্ছে—এই পারস্পরিক যোগাযোগই স্বাভাবিক মস্তিষ্কের বিকাশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হচ্ছে।”
8
10
তবে গবেষকরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, এই ফলাফল থেকে সরাসরি বলা যাবে না যে মানুষের ক্ষেত্রে সব ধরনের স্ক্রিন ব্যবহার ক্ষতিকর। মানুষ ও মাছের মধ্যে বিশাল পার্থক্য রয়েছে। তবুও গবেষণাটি ইঙ্গিত দেয় যে, শিশুদের বিকাশে বাস্তব সামাজিক মেলামেশা ও পারস্পরিক যোগাযোগের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি।
9
10
গবেষণার আরেকটি আকর্ষণীয় দিক হলো, মস্তিষ্কের আকারে পার্থক্য থাকলেও একটি সাধারণ জ্ঞানীয় পরীক্ষায় তিনটি দলের মাছই প্রায় সমান ফল করেছে। এর অর্থ, সামাজিক অভিজ্ঞতা মস্তিষ্কের কিছু নির্দিষ্ট অংশের বিকাশকে বেশি প্রভাবিত করতে পারে, যদিও সব ধরনের বুদ্ধিবৃত্তিক ক্ষমতা একইভাবে প্রভাবিত হয় না।
10
10
গবেষকদের মতে, এই গবেষণা ভবিষ্যতে মানুষের শিশুদের বিকাশ, স্ক্রিন-টাইম এবং সামাজিক যোগাযোগের সম্পর্ক নিয়ে আরও গভীর গবেষণার পথ খুলে দিতে পারে। আপাতত একটি বিষয় পরিষ্কার—গাপ্পি মাছের ক্ষেত্রে অন্তত, স্ক্রিনে ভেসে ওঠা সঙ্গী কখনও বাস্তব বন্ধুর বিকল্প হতে পারে না।