নিজস্ব বাড়ি কেনা অনেকেরই স্বপ্ন। নতুন বাড়ি বা ফ্ল্যাট কেনা জীবনের সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্তগুলোর একটি। কিন্তু তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নিলে সেই স্বপ্নই দুঃস্বপ্নে পরিণত হতে পারে।
2
9
সারাজীবনের সঞ্চয় অনেক সময় এই একটিমাত্র বিনিয়োগে খরচ হয়ে যায়। তাই সামান্য ভুল বা কাগজপত্রে অসাবধানতা ভবিষ্যতে বড় আইনি ও আর্থিক সমস্যার কারণ হতে পারে।
3
9
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাড়ি বা ফ্ল্যাট কেনার আগে কিছু গুরুত্বপূর্ণ আইনি নথি ভাল করে যাচাই না করলে ভবিষ্যতে বড় আর্থিক ও আইনি সমস্যায় পড়তে হতে পারে। এক্ষেত্রে অন্তত পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অবশ্যই পরীক্ষা করা উচিত।
4
9
টাইটেল ডিডঃ এটি প্রমাণ করে সম্পত্তির আসল মালিক কে। বিক্রেতার নামে টাইটেল পরিষ্কার আছে কিনা, সেই জমি বা বাড়ি নিয়ে কোনও মামলা বা বিরোধ চলছে কি না-এসব খুঁটিয়ে দেখা জরুরি। টাইটেল পরিষ্কার না হলে ভবিষ্যতে মালিকানা নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে।
5
9
এনকাম্বরেন্স সার্টিফিকেটঃ এই সার্টিফিকেট থেকে জানা যায় সম্পত্তির উপর কোনও ঋণ বা বন্ধক রয়েছে কিনা। যদি আগের মালিক ব্যাঙ্ক ঋণ নিয়ে থাকেন এবং তা শোধ না হয়ে থাকে, তাহলে নতুন ক্রেতাও সমস্যায় পড়তে পারেন। তাই এই নথি সংগ্রহ করে যাচাই করা অত্যন্ত প্রয়োজন।
6
9
সেল ডিডঃ সেল ডিড হল সেই নথি, যার মাধ্যমে সম্পত্তি বিক্রেতার কাছ থেকে ক্রেতার হাতে আসে। অর্থাৎ এটি হল বিক্রয় চুক্তির আইনি প্রমাণ। সেল ডিড সঠিকভাবে রেজিস্ট্রেশন করা আছে কিনা, তাতে সম্পত্তির সঠিক বিবরণ উল্লেখ আছে কিনমা- এসব নিশ্চিত করতে হবে।
7
9
অনুমোদিত বিল্ডিং প্ল্যান ও অকুপেন্সি সার্টিফিকেটঃ ফ্ল্যাট বা অ্যাপার্টমেন্ট কিনলে অনুমোদিত বিল্ডিং প্ল্যান ও অকুপেন্সি সার্টিফিকেট দেখতে হবে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া নির্মিত ভবন ভবিষ্যতে ভাঙার নোটিস পেতে পারে বা আইনি সমস্যায় জড়াতে পারে। অকুপেন্সি সার্টিফিকেট প্রমাণ করে যে ভবনটি বসবাসের জন্য নিরাপদ।
8
9
সম্পত্তি করের রসিদ ও মিউটেশন রেকর্ডঃ নতুন বাড়ি কিংবা ফ্ল্যাট কেনার আগে সম্পত্তি করের রসিদ ও মিউটেশন রেকর্ড যাচাই করা জরুরি। এতে বোঝা যায় ট্যাক্স বকেয়া আছে কিনা এবং সরকারি রেকর্ডে সম্পত্তি সঠিক মালিকের নামেই নথিভুক্ত আছে কিনা।
9
9
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, বাড়ি কেনার আগে অভিজ্ঞ আইনজীবী বা রিয়েল এস্টেট পরামর্শদাতার সাহায্য নেওয়া উচিত। কারণ সামান্য অসাবধানতা ভবিষ্যতে বড় আর্থিক ক্ষতির কারণ হতে পারে। স্বপ্নের বাড়ি কেনার আগে নথিপত্র যাচাই করাই সবচেয়ে নিরাপদ পদক্ষেপ।