আপনি হয়তো বেশ স্বাস্থ্য সচেতন। নিয়মিত ব্যায়াম করেন, ধূমপান-মদ্যপান থেকে দূরে থাকেন, এবং নিয়মিত খান স্বাস্থ্যকর খাবর। কিন্তু স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের পরও আপনি স্ট্রোকের ঝুঁকি থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত নন!
2
8
চিকিৎসকদের মতে, এমন একটি অভ্যাস রয়েছে যা আপনার জীবনযাত্রার সব স্বাস্থ্যকর প্রচেষ্টাকে নষ্ট করে দিতে পারে। আর সেটি হল অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা স্ট্রেস।
3
8
বিশেষজ্ঞদের মতে, আজকের দিনে স্ট্রেসই সবচেয়ে নীরব ঘাতক। আধুনিক জীবনযাত্রায় প৪যাপ্ত ঘুমের অভাব, বিশ্রাম না নেওয়া, অতিরিক্ত মানসিক চাপ স্ট্রোকের অন্যতম কারণ হয়ে উঠছে।
4
8
মানসিক চাপ শরীরে এমন প্রভাব ফেলে যার ফলে ঘুমের ঘাটতি, হাইপারটেনশন বা উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, এমনকী স্থূলতা পর্যন্ত তৈরি হতে পারে। এগুলোই ধীরে ধীরে মস্তিষ্কে রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে, যা স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
5
8
স্ট্রেস কিভাবে বিপজ্জনক হয়ে ওঠে? দীর্ঘদিন মানসিক চাপে থাকলে শরীরে কর্টিসল হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়, যা রক্তচাপ বাড়ায়। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে রক্তনালী ও হৃদযন্ত্রের কার্যকারিতা ব্যাহত হয়।অতিরিক্ত স্ট্রেস ডায়াবেটিস ও ওজন বৃদ্ধির ঝুঁকিও বাড়ায়। এসব মিলিয়ে মস্তিষ্কে রক্তনালীর ক্ষতি হয়, যা স্ট্রোকের সরাসরি কারণ হতে পারে।
6
8
স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে কী করবেন? ১. প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমান, কমপক্ষে ৭ ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করুন।২. ধ্যান, যোগা বা হাঁটা–চলার মাধ্যমে মানসিক চাপ কমান।৩. মন ভাল থাকে এমন কাজের যুক্ত থাকুন। ৪. কাজের ফাঁকে ছোট বিরতি নিন, মোবাইল বা স্ক্রিন থেকে দূরে থাকুন। ৫. নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করুন। বিশেষ করে রক্তচাপ ও শর্করার মাত্রা নির্দিষ্ট সময় অন্তর পরীক্ষা করে নেওয়া জরুরি।৬. মানসিক চাপ বা অনিদ্রা যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
7
8
মনে রাখবেন, স্ট্রোক এখন শুধু বয়স্কদের রোগ নয়, অল্পবয়সিরাও আক্রান্ত হচ্ছেন। এমনকী আকছার প্রাণহানির নজিরও সামনে আসছে। অনেকেই ভাবেন, ধূমপান বা মদ্যপান না করলে কিংবা স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে স্ট্রোকের ঝুঁকি নেই। কিন্তু অতিরিক্ত মানসিক চাপই আজকাল স্ট্রোকের বড় কারণ হয়ে উঠছে।
8
8
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মন শান্ত না থাকলে শরীরও শান্ত থাকতে পারে না। তাই মানসিক সুস্থতাকে অগ্রাধিকার দেওয়াই শ্রেয়।