দুর্গাপুজোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আচার সন্ধিপুজো। মহাষ্টমী ও মহানবমীর সন্ধিক্ষণে এই বিশেষ পুজোর আয়োজন করা হয়। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এই সময় দেবী দুর্গার চামুণ্ডা রূপের আরাধনা করা হয়।
2
10
২৭ আশ্বিন ১৯ অক্টোবর সোমবার মহাষ্টমী৷ সকাল ৭ টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত মহাষ্টমী৷ সকাল ৭টা ২৬ এর পর থেকে সকাল ৮ টা ১৪ মিনিটের মধ্যে সন্ধিপূজা সমাপন৷
3
10
সন্ধিপুজোর অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ১০৮টি প্রদীপ জ্বালানো। শঙ্খধ্বনি, ঘণ্টার আওয়াজ, ঢাকের বাদ্যি আর মন্ত্রোচ্চারণে এই সময় মণ্ডপে তৈরি হয় এক বিশেষ পরিবেশ।
4
10
২০২৬ সালে ১৯ অক্টোবর, সোমবার মহাষ্টমী ও মহানবমীর সন্ধিক্ষণে সন্ধিপুজো পালিত হবে। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, মহাষ্টমীর শেষ ২৪ মিনিট এবং মহানবমীর প্রথম ২৪ মিনিট, অর্থাৎ মোট ৪৮ মিনিট ধরে এই পুজো হয়। তবে তিথির সূচনা ও সমাপ্তির সময় স্থানভেদে পরিবর্তিত হতে পারে।
5
10
সন্ধিপুজোর অন্যতম উল্লেখযোগ্য রীতি হল ১০৮টি প্রদীপ জ্বালানো। হিন্দু ধর্মে ১০৮ সংখ্যাটিকে পবিত্র বলে মনে করা হয়। জপমালা থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধর্মীয় আচারেও এই সংখ্যার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
6
10
প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, সন্ধিক্ষণে ১০৮টি প্রদীপ জ্বালিয়ে দেবীর আরাধনা করলে অন্ধকার ও নেতিবাচক শক্তির বিনাশ ঘটে। প্রদীপের আলো জ্ঞান, শুভ শক্তি এবং আধ্যাত্মিক চেতনার প্রতীক। দেবীর কাছে শক্তি, সাহস, সুরক্ষা ও মঙ্গল কামনা করেই ভক্তরা এই আচার পালন করেন। তবে বিভিন্ন পরিবার ও পুজো কমিটির রীতিতে কিছু পার্থক্য থাকতে পারে।
7
10
সন্ধিপুজোর সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই নির্দিষ্ট মুহূর্ত শুরু হওয়ার আগেই পুজোর প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়। সাধারণত এই পুজোয় কয়েকটি বিশেষ আচার পালন করা হয়।১০৮টি প্রদীপ প্রজ্বলন: নির্দিষ্ট সময়ে প্রদীপ জ্বালিয়ে দেবীর আরাধনা করা হয়।
8
10
ফুল নিবেদন: দেবীর চরণে ১০৮ পদ্ম ফুল নিবেদন করে পুষ্পাঞ্জলি দেওয়া হয়।মন্ত্রপাঠ: দেবীর মন্ত্র ও স্তোত্র পাঠ করে তাঁর আশীর্বাদ প্রার্থনা করেন ভক্তরা। পারিবারিক বা মণ্ডপের রীতি মেনে দেবীকে ভোগ নিবেদন করা হয়।
9
10
বাংলার দুর্গাপুজোয় সন্ধিপুজোর গুরুত্ব অপরিসীম। অষ্টমীর অঞ্জলি, অষ্টমীর ভোগের পাশাপাশি এই বিশেষ মুহূর্তের জন্যও অপেক্ষা করেন বহু মানুষ। বনেদি বাড়ির পুজো হোক বা বারোয়ারি মণ্ডপ, সন্ধিপুজোকে ঘিরে থাকে আলাদা প্রস্তুতি ও আবেগ।
10
10
বিশেষ করে ১০৮টি প্রদীপের আলো, ঢাকের বাদ্যি এবং শঙ্খধ্বনিতে সন্ধিক্ষণের পরিবেশ হয়ে ওঠে অনন্য। ভক্তদের বিশ্বাস, এই সময়ে নিষ্ঠাভরে দেবীর আরাধনা করলে জীবনে সাহস, শক্তি ও মঙ্গল কামনার পথ প্রশস্ত হয়।তবে মনে রাখা প্রয়োজন, সন্ধিপুজোর শুভক্ষণ খুবই নির্দিষ্ট। তাই পুজোর আগে নিজের এলাকার পঞ্জিকা দেখে সময় মিলিয়ে নেওয়াই শ্রেয়।