সব রাজনৈতিক দলের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করল বুরকিনা ফাসোর 'বামপন্থী' সরকার
নিজস্ব সংবাদদাতা
৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৪ : ১২
শেয়ার করুন
1
13
বুরকিনা ফাসোর সামরিক সরকার দেশের সব রাজনৈতিক দলের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। ২০২২ সালে সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের পর থেকেই রাজনৈতিক দলগুলির কার্যকলাপ স্থগিত ছিল। নতুন এই ঘোষণার ফলে দলগুলির অস্তিত্বই কার্যত বিলুপ্ত হল, যা দেশটিতে গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
2
13
সামরিক সরকারের প্রধান ক্যাপ্টেন ইব্রাহিম ট্রাওরে এই সিদ্ধান্তের জন্য ইতিমধ্যেই তীব্র সমালোচনার মুখে। মানবাধিকার সংগঠন এবং নাগরিক সমাজের মতে, এই পদক্ষেপ বিরোধী মত ও রাজনৈতিক ভিন্নমত দমনের আরেকটি বড় উদাহরণ।
3
13
দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এমিল জার্বো জানিয়েছেন, এই নিষেধাজ্ঞা রাষ্ট্র পুনর্গঠনের অংশ। তাঁর দাবি, বহুদলীয় ব্যবস্থা বুরকিনা ফাসোতে “নানা অপব্যবহারের জন্ম দিয়েছে” এবং নাগরিকদের মধ্যে বিভাজন বাড়িয়েছে। “রাজনৈতিক দলগুলো সামাজিক ঐক্যকে দুর্বল করেছে এবং জাতীয় সংহতির বদলে বিভেদ তৈরি করেছে,” বলেন জার্বো।
4
13
এর আগে রাজনৈতিক দলগুলিকে জনসমাবেশ করার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নতুন ডিক্রির মাধ্যমে দলগুলির সব ধরনের সাংগঠনিক কার্যকলাপই নিষিদ্ধ করা হল। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলগুলির সব সম্পত্তি রাষ্ট্রের হাতে তুলে দেওয়া হবে এবং বিষয়টি বৈধতা দিতে শীঘ্রই একটি খসড়া আইন অন্তর্বর্তীকালীন আইনসভায় পেশ করা হবে।
5
13
২০২২ সালের অভ্যুত্থানের আগে বুরকিনা ফাসোতে ১০০-র বেশি নথিভুক্ত রাজনৈতিক দল ছিল। ২০২০ সালের সাধারণ নির্বাচনের পর সংসদে ১৫টি দলের প্রতিনিধিত্ব ছিল। সেই বহুদলীয় রাজনৈতিক পরিসর এখন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেল।
6
13
নাগরিক সমাজে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষ স্পষ্ট। পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নাগরিক অধিকার কর্মী বিবিসিকে বলেন, “এটি দেশের অগ্রগতির পথে কোনওভাবেই সহায়ক নয়। আমরা এই সিদ্ধান্তে খুশি নই। সরকার ক্রমাগত এই ধারণা ছড়াচ্ছে যে গণতন্ত্র বুরকিনা ফাসোর জন্য অপ্রয়োজনীয় বা ক্ষতিকর।”
7
13
তিনি আরও বলেন, “ট্রাওরে হয়তো দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, কিন্তু বুরকিনা ফাসোর ইতিহাস বলে কোনও শাসকই পুরোপুরি নিরাপদ নয়। আরেকটি অভ্যুত্থান সবসময়ই সম্ভাবনার মধ্যে থাকে।”
8
13
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সিদ্ধান্তটি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই এই নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করলেও, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নাগরিক আবার সামরিক সরকারের পক্ষে সওয়াল করেছেন।
9
13
একজন ট্রাওরে সমর্থক এক্স-এ লেখেন, “১০০-র বেশি রাজনৈতিক দল থাকা একটি দরিদ্র ও সংকটগ্রস্ত দেশের জন্য বিশৃঙ্খলারই নামান্তর। এই বিভাজন থেকেই দুর্নীতির জন্ম হয়েছে। অনেক দল নাগরিক সংগঠন না হয়ে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছিল।”
10
13
উল্লেখ্য, ক্যাপ্টেন ইব্রাহিম ট্রাওরে ২০২২ সালে ক্ষমতা দখল করেন তৎকালীন জুন্টা প্রধান পল-অঁরি সান্দাওগো দামিবার কাছ থেকে, যিনি নিজেও মাত্র নয় মাস আগে ক্ষমতায় এসেছিলেন। ট্রাওরে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ২০২৪ সালের ১ জুলাইয়ের মধ্যে বেসামরিক শাসন ফিরিয়ে দেবেন। কিন্তু সেই সময়সীমার দুই মাস আগে সামরিক সরকার ঘোষণা করে, তারা আরও পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকবে।
11
13
কর্তৃত্ববাদী শাসনের অভিযোগ সত্ত্বেও ৩৭ বছর বয়সি ট্রাওরে আফ্রিকা জুড়ে উল্লেখযোগ্য জনপ্রিয়তা পেয়েছেন তাঁর প্যান-আফ্রিকান অবস্থান এবং সাম্রাজ্যবাদী প্রভাবের তীব্র সমালোচনার জন্য।
12
13
বুরকিনা ফাসো একা নয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পশ্চিম আফ্রিকার একাধিক দেশে সামরিক অভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক দল ও নির্বাচনব্যবস্থার ওপর কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। প্রতিবেশী গিনিতে সেনা অভ্যুত্থানের নেতা জেনারেল মামাদি দুম্বুয়া সম্প্রতি নির্বাচনে দাঁড়িয়ে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন—যা এই অঞ্চলে সামরিক শাসনকে বৈধতা দেওয়ার নতুন প্রবণতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
13
13
বুরকিনা ফাসোর ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ হওয়ার এই সিদ্ধান্ত দেশটিকে স্থিতিশীলতার দিকে নিয়ে যাবে, নাকি আরও গভীর রাজনৈতিক সংকটের দিকে ঠেলে দেবে—সে প্রশ্নের উত্তর এখনও অনিশ্চিত।