বলিউডে ঝকঝকে উপস্থিতি, পর্দায় দুরন্ত শরীরী ভাষা। তবে এসব কিছুর আড়ালেই চলছিল নীরব যুদ্ধ। ‘চ্যাপ্টার টু উইথ রিয়া চক্রবর্তী’ পডকাস্টে এসে এক বছরের বুলিমিয়ারোগের সঙ্গে লড়াইয়ের কথা খোলাখুলি জানালেন অভিনেত্রী ফতিমা সানা শেখ।
2
8
‘দঙ্গল’-এর জন্য কপালে চোখ তোলার মতো ট্রান্সফর্মেশন -এর মধ্যে দিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। দিনে তিন ঘণ্টা কড়া ট্রেনিং, তার সঙ্গে ছিল অতিরিক্ত ওয়ার্কআউট! অভিনেত্রীর কথায়, “আমি যখন কোনও লক্ষ্য ঠিক করি, তখন সেটা পেতে সব করি।”
3
8
চরিত্রের প্রয়োজনে ওজন বাড়াতে প্রতিদিন ২,৫০০ থেকে ৩,০০০ ক্যালোরি পর্যন্ত খেতেন তিনি। শুটিং চলাকালীন তাঁর মানসিকতা ছিল একেবারে অ্যাথলিটের মতো -কঠোর, নিয়ন্ত্রিত, শৃঙ্খলাবদ্ধ।
4
8
কিন্তু ছবি শেষ হতেই সেই কাঠামো ভেঙে পড়ে। অভ্যাসটা থেকে যায়। “আমি দু’ঘণ্টা টানা খেতে পারতাম,” স্বীকার করেন ফাতিমা।
5
8
খাওয়া, তারপর অপরাধবোধ, তারপর আবার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা -এই চক্রে আটকে পড়েন তিনি। ক্যালোরির হিসেব কষে ভাবতেন, কীভাবে ‘পুষিয়ে’ নেওয়া যায়। তাঁর উপলব্ধি, “সমস্যাটা খাবারে নয়। সমস্যাটা আপনার ভিতরে। আপনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। আপনি নিজের অনুভূতিগুলো খেয়ে ফেলছেন।”
6
8
পডকাস্টের এক আবেগঘন মুহূর্তে অভিনেত্রী জানান, “আমার মনে হতো, আমার কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই। ডায়েট নিয়ে আমার ধারণা ছিল ভীষণ কঠোর।” অতিরিক্ত খাওয়ার পর ক্যালোরি এড়াতে জোর করে তিনি বমি করতেন। লজ্জা আর আত্মসমালোচনায় ঢেকে রাখা এক গোপন রুটিন, যা শারীরিক ও মানসিক, দুই দিকেই ক্ষতি ডেকে আনছিল।বাইরে থেকে তিনি ছিলেন ফিট, শক্তপোক্ত, শৃঙ্খলাবদ্ধ। ভিতরে ভাঙছিলেন। তাঁর কথায়, “মানসিক অসুস্থতা থাকলে বাইরে থেকে সব ঠিকঠাক দেখায়। কিন্তু আসল লড়াইটা মাথার ভেতর।”
7
8
বলিউড ও সমাজমাধ্যমের ‘পারফেক্ট ইমেজ’-এর চাপ নিয়েও কথা বলেন ফতিমা। তবে আজ তিনি আগের জায়গায় নেই। “এখনও কখনও বেশি খাই। কিন্তু সেটা আমি সচেতন ভাবে করি। নিজেকে আগের মতো শাস্তি দিই না,” জানান তিনি। বন্ধুদের সাহায্যে তিনি শিখেছেন আরও 'ইজি' জীবনযাপন -স্মুদি, সুষম খাবার, অপরাধবোধহীন পুষ্টি। “খেতে পারো। পেট ভরাতে পারো,” এই সহজ বাক্যই ছিল তাঁর মোড় ঘোরানো মুহূর্ত।
8
8
আজও ফিটনেস তাঁর জীবনের অংশ। কিন্তু আর নিখুঁত হওয়ার চাপ নয়, এখন তাঁর লক্ষ্য সঠিক ভারসাম্য। শাস্তি নয়, সচেতনতা। কঠোরতা নয়, নিজের প্রতি সহমর্মিতা।