অষ্টম বেতন কমিশনকে ঘিরে জল্পনা ক্রমশ বাড়ছে। কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীরা এখন অপেক্ষায় রয়েছেন, কবে কার্যকর হবে নতুন কমিশন এবং কতটা বাড়তে পারে বেতন।
2
12
তবে সাম্প্রতিক বিভিন্ন রিপোর্টে ইঙ্গিত মিলছে, কর্মচারী সংগঠনগুলির একাধিক দাবি কেন্দ্র পুরোপুরি মেনে নাও নিতে পারে। ফলে বড়সড় বেতন বৃদ্ধির আশা অনেকটাই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
3
12
গত কয়েক সপ্তাহে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন অষ্টম বেতন কমিশনের সামনে একাধিক প্রস্তাব জমা দিয়েছে। সেই প্রস্তাবগুলির মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর বাড়ানোর দাবি এবং মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ-কে মূল বেতনের সঙ্গে সংযুক্ত করার প্রস্তাব।
4
12
কর্মচারী সংগঠনগুলির বক্তব্য, গত কয়েক বছরে লাগাতার মূল্যবৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বর্তমান বেতন কাঠামো বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে আর সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
5
12
ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর হল এমন একটি গাণিতিক গুণক, যার মাধ্যমে পুরনো বেসিক বেতনকে নতুন বেতন কাঠামোয় রূপান্তর করা হয়। কীভাবে কাজ করে এই হিসেব।
6
12
বর্তমান মূল বেতন × ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর = নতুন মূল বেতন সপ্তম বেতন কমিশনে ২.৫৭ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর প্রয়োগ করা হয়েছিল। এর ফলে ষষ্ঠ বেতন কমিশনের সময়কার ন্যূনতম বেতন ৭,০০০ টাকা থেকে বেড়ে ১৮,০০০ টাকায় পৌঁছায়। অর্থাৎ ৭,০০০ × ২.৫৭ = ১৮,০০০ টাকা।
7
12
এবার কর্মচারী সংগঠনগুলি দাবি তুলেছে ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ৩.৮৩ করার জন্য। তাদের মতে, এই বৃদ্ধি না হলে কর্মচারীদের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা বজায় রাখা সম্ভব হবে না। কিন্তু বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যাচ্ছে, সরকার এই দাবি পুরোপুরি মানতে আগ্রহী নয়। কারণ, এত বড় হারে বেতন বৃদ্ধি হলে কেন্দ্রীয় সরকারের আর্থিক চাপ বহুগুণ বেড়ে যাবে।
8
12
বিশেষজ্ঞদের মতে, কেন্দ্রীয় সরকার যদি বড়সড় বেতন বৃদ্ধি ঘোষণা করে, তাহলে বিভিন্ন রাজ্য সরকারও নিজেদের কর্মচারীদের জন্য একই ধরনের সংশোধনের পথে হাঁটতে বাধ্য হবে।
9
12
তার ফলে শুধু বেতন নয়, পেনশন এবং অবসরকালীন ভাতার খরচও দীর্ঘমেয়াদে অনেক বেড়ে যাবে। ফলে সামগ্রিকভাবে সরকারের ব্যয়ভার বিপুল আকার নিতে পারে।
10
12
এই কারণেই কেন্দ্র সম্ভবত একটি “ব্যালান্সড” বা মাঝারি ধরনের বেতন সংশোধনের পথ বেছে নিতে পারে। অর্থাৎ কর্মচারীদের কিছুটা স্বস্তি দেওয়া হলেও, অত্যধিক আর্থিক চাপ এড়াতে বড়সড় ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর অনুমোদনের সম্ভাবনা কম বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
11
12
অষ্টম বেতন কমিশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর প্রভাব পড়বে প্রায় ১.১ কোটিরও বেশি কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীর উপর। তাঁদের পরিবারের আর্থিক অবস্থার সঙ্গেও এই কমিশনের সিদ্ধান্ত সরাসরি জড়িত।
12
12
ভারতে এখনও পর্যন্ত সাতটি বেতন কমিশন গঠিত হয়েছে। প্রথম বেতন কমিশন গঠিত হয় ১৯৪৬ সালের জানুয়ারিতে। তারপর থেকে সাধারণত প্রতি ১০ বছর অন্তর নতুন বেতন কমিশন গঠনের প্রথা রয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের ৩ নভেম্বর অষ্টম বেতন কমিশন গঠিত হয়েছে।