প্রখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী এবং সুরকার জুবিন গর্গের রহস্যজনক মৃত্যু মামলার আইনি প্রক্রিয়া নতুন মোড় নিয়েছে। জুবিনের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় মূল অভিযুক্ত তথা অনুষ্ঠান আয়োজক শ্যাম কানু মহান্তর জামিনের আবেদনে নোটিশ জারি করেছে সুপ্রিম কোর্ট। 

সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বি ভি  নাগরত্না এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ এবিষয়ে অসম সরকারকে জবাব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে এবং জুলাইয়ের মধ্যে এই নোটিশের উত্তর জমা দিতে বলা হয়েছে।
২০২৫ সালের ২৯ মে গুয়াহাটি হাইকোর্ট শ্যাম কানু মহান্তরের জামিনের আবেদন খারিজ করে দেয়। হাইকোর্টের সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়েই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন অভিযুক্ত অর্গানাইজার। 

মহান্ত ২০২৫ সালের ১ অক্টোবর থেকে পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন। শীর্ষ আদালতে শুনানির সময় অভিযুক্তের পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী সিদ্ধার্থ দাভে যুক্তি দেন যে, এটি একটি জলে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা। অভিযুক্তের দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার কোনও আশঙ্কা নেই এবং ইতিমধ্যেই তার পাসপোর্ট জমা রাখা হয়েছে। তাই তাকে হেফাজত থেকে মুক্তি দেওয়া হোক।

তদন্তকারী কর্মকর্তারা জুবিন গর্গের মৃত্যুকে কেবল একটি সাধারণ দুর্ঘটনা বা জলে ডুবে মৃত্যু হিসেবে দেখছেন না। পুলিশের পক্ষ থেকে এটিকে একটি গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার অধীনে হত্যা, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, প্রতারণা, তোলাবাজি, বিশ্বাসভঙ্গ এবং তথ্যপ্রমাণ লোপাটের মতো একাধিক গুরুতর ধারায় চার্জশিট গঠন করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, সিঙ্গাপুরে ইয়ট ভ্রমণের সময় এমন কিছু পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছিল যা জুবিন গর্গের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

অভিযোগ উঠেছে, জুবিন মৃগীরোগে আক্রান্ত ছিলেন এবং তার অ্যালকোহল আসক্তি মুক্তির চিকিৎসা চলছিল। চিকিৎসকরা তাঁকে মদ্যপান, আগুন এবং জলের কাছাকাছি কোনও কাজে অংশ নিতে কঠোরভাবে নিষেধ করেছিলেন। তা সত্ত্বেও, সিঙ্গাপুরে আয়োজিত 'নর্থ ইস্ট ইন্ডিয়া ফেস্টিভ্যাল'-এর অংশ হিসেবে একটি ইয়ট ভ্রমণের আয়োজন করা হয় এবং সেখানে মদ্যপানের ব্যবস্থা ছিল। হাইকোর্ট তার রায়ে জানিয়েছিল যে, ইয়ট ভ্রমণের সময় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না এবং এত দ্রুত জামিন দিলে তথ্যপ্রমাণ নষ্ট বা সাক্ষীদের প্রভাবিত করার আশঙ্কা রয়েছে। এই মামলায় প্রায় ৩৯৪ জন সাক্ষী রয়েছেন।

অসম, বাংলা এবং হিন্দি সঙ্গীত জগতের অত্যন্ত জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন জুবিন গর্গ। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সিঙ্গাপুরের লাজারাস দ্বীপের কাছে একটি ইয়ট ভ্রমণের সময় জলে ডুবে তাঁর মৃত্যু হয়। ৫২ বছর বয়সে তাঁর অকালপ্রয়াণে সমগ্র দেশের সংস্কৃতি জগতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছিল।