১৯৯০ -এর দশকে ম্যাগাজিনের কভারে বাবার কোলে বসে তাঁর ঠোঁটে ঠোঁট রাখেন এই অভিনেত্রী। তাঁদের সেই ফটোশুট রীতিমত হইচই ফেলে দিয়েছিল। কাদের কথা বলা হচ্ছে? পরিচালক মহেশ ভাট এবং তাঁর বড় মেয়ে পূজা ভাটের। 

বাবার ঠোঁটে মেয়ের ঠোঁট রাখার এই ছবি সেই সময় ম্যাগাজিনে সেই সময় ব্যবহার করা হয়েছিল যখন ভারতীয় ছবিতে চুমু খাওয়ার দৃশ্যও ঠিকঠাক দেখানো হতো না। স্বাভাবিক ভাবেই এই ঘটনায় হইচই পড়ে যায় গোটা দেশ জুড়ে। শুধু চুমু খাওয়া নয়, এর পর সাংবাদিক বৈঠকে মহেশ ভাট তাঁর মেয়েকে নিয়ে যে দাবি করেছিলেন তা আরও বিস্ফোরক ছিল। কী বলেছিলেন তিনি? মহেশ ভাট তাঁর মেয়ে পূজাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, 'পূজা যদি আমার মেয়ে ও হতো, তাহলে ওকে আমি বিয়ে করতাম।' 

কেবল মহেশ ভাট নন, পূজাও পরবর্তীতে জানিয়েছিলেন এই বিষয়টা নিয়ে তাঁর কোনও আফসোস নেই। চুমুটাও নাকি 'ইনোসেন্ট' ছিল। ঠিক যেমন বাবা মেয়েকে চুমু খায়, তেমনই। 

সেই ঘটনাটি ছাড়াও পূজার ব্যক্তিগত জীবন বরাবরই চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে থেকেছে। ২০০০ সালের গোড়ার দিকে রণবীর শোরের সঙ্গে সম্পর্কে ছিলেন পূজা। লিভ ইনও করতেন তাঁরা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁদের সম্পর্কে এমন তিক্ততা আসে যে সেটা শেষ হয়ে যায়। পরবর্তীতে পূজা জানান রণবীর তাঁকে মারধর করতেন। মদ্যপ অবস্থায় গালিগালাজ করতেন। যদিও অভিনেতা এই অভিযোগগুলোর একটাও মেনে নেননি, বরং জানিয়েছিলেন তিনি অত্যাচারিত হতেন এই সম্পর্কে থাকাকালীন। 

২০০৩ সালে একজন ভিজে, মণীশ মাখিজাকে বিয়ে করেন পূজা। মাত্র মাস দুয়েক প্রেম করেই বিয়ে করেন তাঁরা। কিন্তু সেই সম্পর্কও বেশিদিন টেকেনি। মাত্র ১১ বছরের মাথাতেই বিবাহিত জীবনে ইতি টানেন পূজা। ২০১৪ সালে আলাদা হয়ে যান তাঁরা। বিবাহ বিচ্ছেদের পর দারুণ ভেঙে পড়েছিলেন বলেই পরবর্তীতে 'বিগ বস ওটিটি ২' -এ এসে জানান পূজা। সেই সময় মদ তাঁর নিত্য সঙ্গী হয়ে উঠেছিল। মদের নেশায় বুঁদ হয়ে ভুলতেন সম্পর্ক ভাঙার যন্ত্রণা। ২০১৬ সালে মদ্যপান ছেড়ে দেন তিনি। বর্তমানে টুকটাক কাজ নিয়ে ব্যস্ত আছেন। তাঁকে শেষবার বিগ বসের ঘরে দেখা গিয়েছিল। 

প্রসঙ্গত, পূজা ভাট মাত্র ১৭ বছর বয়সে বলিউডে পা রাখেন। কাজ করেছেন 'সড়ক', 'দিল হ্যায় কী মানতা নেহি', 'স্যার', 'তামান্না', 'বর্ডার', ইত্যাদির মতো ছবিতে।