২০২০ সালে ১৮ ফেব্রুয়ারি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হন তাপস পাল। তিনি অভিনেতা হওয়ার পাশাপাশি তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা ছিলেন। ২ বারের বিধায়ক এবং ২ বারের সাংসদ ছিলেন। তাঁর নাম জড়ায় রোজভ্যালি কাণ্ডে। সেই সময় সিবিআই তাঁকে গ্রেফতার করে। যদিও মাস ১৩ পর ছাড়া পান। রাজনৈতিক কেরিয়ারে প্রচুর চড়াই উৎরাই দেখেছেন অভিনেতা। তাঁর প্রয়াণের প্রায় সাড়ে ৬ বছর পর এদিন তাঁর স্ত্রী নন্দিনী মুখোপাধ্যায় বিস্ফোরক দাবি করলেন।
সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক কুণাল ঘোষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি বিবেকবান হওয়ার কথা বলেছেন। সেই বক্তব্যের জবাবেই নন্দিনী মুখোপাধ্যায় তাঁকে উদ্দেশ্য করে সমাজমাধ্যমে খোলা চিঠি লেখেন। সেখানেই তিনি দাবি করেন তাঁর স্বামীকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছিল, ছিবড়ে করে দেওয়া হয়েছিল। শুধু তাই নয়, মানসিক যন্ত্রণাও সহ্য করতে হয়েছিল তাঁকে প্রবল।
এই বিষয়ে নন্দিনী লেখেন, 'কুণাল ঘোষ মহাশয়, আপনাকে এক টিভি চ্যানেলে বলতে শুনলাম যে ৭১ বছর বয়সী এক নেত্রীর প্রতি বিবেকবান হওয়া উচিত। আপনি এই কথাটি আপনার দলের কিছু বিধায়কের উদ্দেশ্যে বলছিলেন বোধহয়। সত্যি বলতে কী, আপনাদের মুখে বারবার বিবেকের কথা শুনে আমার একটু অস্বস্তি, একটু অশান্তি লাগল। তাই কয়েকটা প্রশ্ন মনে এল। যখন এই নেত্রীর ৫৫-৫৬ বা তার আশেপাশে বয়স ছিল, তখন তার বিবেক কোথায় ছিল? ২০০১ সালে মানুষ কি একমাত্র তার মুখ দেখেই তৃণমূলের প্রার্থীদের ভোট দিয়েছিল? ২০০৬ সালেও যে কজন তৃণমূল প্রার্থী জিতেছিলেন, মানুষ কি শুধুমাত্র তার মুখ দেখেই তাদের ভোট দিয়েছিল? ২০০৯ সালেও কি একমাত্র তার জনপ্রিয়তার ভিত্তিতেই তার দলের যে কজন প্রার্থী জিতেছিলেন, মানুষ তাদের ভোট দিয়েছিল? আর তখন, যখন তাপস পাল নামক একজন মানুষকে রাজনৈতিক প্রয়োজনে ব্যবহার করে শেষ পর্যন্ত কার্যত ছিবড়ে করে ফেলা হয়েছিল, এবং দীর্ঘদিন ধরে মানসিক যন্ত্রণা দিয়ে তাকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল, তখন তার সেই বিবেক কোথায় ছিল?'
নন্দিনী এখানেই থামেন না। তিনি তাঁর পোস্টে আরও লেখেন, 'বারবার একই ধরনের যুক্তি শুনতে শুনতে বিরক্ত লাগে। তাই এবার একটু থামুন, দোহাই আপনাকে। বরং আমার মতো সাধারণ মানুষকে অন্য একটি বিষয় বুঝিয়ে বলুন। আপনি তো একসময় জেলে গিয়েছিলেন ,আপনার নেত্রীর দয়াতেই ... সেই প্রসঙ্গে আমি বেশি কিছু বলতে চাই না। তবে এটুকু জানতে চাই, সেই সময় আপনি এই নেত্রীর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অনেক কথা বলেছিলেন, নানা অভিযোগও করেছিলেন। তারপর কী এমন ঘটল যে আজ আপনার সঙ্গে সেই নেত্রীর রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত রসায়ন সম্পূর্ণ বদলে গেল? এটা কি মতাদর্শের পরিবর্তন? নাকি পরিস্থিতির প্রয়োজন? নাকি অন্য কোনও কারণ? সেই পরিবর্তনের গল্পটাই বরং শুনতে চাই। কারণ রাজনীতিতে অবস্থান বদলানো অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু সেই পরিবর্তনের ব্যাখ্যা সাধারণ মানুষের জানার অধিকার আছে।' (পোস্টদাতার বানান অপরিবর্তিত রাখা হল)















