দীর্ঘ সাত মাসের জটিলতা এবং অনলাইনে ফাঁস হওয়ার ঝোড়ো বিতর্ক পার করে অবশেষে প্রেক্ষাগৃহে এসেছে ‘জন নয়গন’। সুপারস্টার বিজয়ের অভিনয় জীবনকে বিদায় জানিয়ে রাজনীতির ময়দানে সক্রিয় হওয়ার আগের শেষ ছবি—স্বভাবতই এটি ঘিরে অনুরাগীদের উন্মাদনা আকাশছোঁয়া। কিন্তু এই মহাধুমধামের আলোর আড়ালেই ঢাকা পড়ে গেল এক উদীয়মান অভিনেত্রীর এক বছরের অক্লান্ত পরিশ্রম, আশা আর স্বপ্নভঙ্গের বেদনাদায়ক গল্প।

তামিল টেলিভিশনের অতি পরিচিত মুখ, জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও নৃত্যশিল্পী আনন্দী অজয় সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও পোস্ট করে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। কারণ? ছবিতে থালাপতি বিজয়ের সঙ্গে তাঁর অভিনীত সমস্ত দৃশ্যই সেন্সরের কাঁচিতে নয়, বরং এডিটিং টেবিলে একেবারে ছেঁটে ফেলা হয়েছে!


নিজের ইনস্টাগ্রাম পেজে তামিল ভাষায় পোস্ট করা এক আবেগঘন ভিডিওতে অশ্রুসজল চোখে আনন্দী জানান, এই দিনটির জন্য তিনি গত দেড় বছর ধরে অপেক্ষা করছিলেন। প্রায় এক বছর ধরে তিনি ছবিটির শুটিং করেছিলেন। কাতর কণ্ঠে আনন্দী বলেন, "এর আগেও আমি একাধিক ছবিতে কাজ করেছি, যার অনেক দৃশ্যই কেটে বাদ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তা নিয়ে আমি কখনও আফসোস করিনি। তবে 'জন নয়গন'-এর দৃশ্য বাদ পড়ায় আমার ভীষণ কষ্ট হচ্ছে। কারণ দীর্ঘ বিরতির পর ক্যামেরার সামনে কামব্যাক করার জন্য এটাই ছিল আমার সই করা প্রথম ছবি। আর সবচেয়ে বড় কথা—সবটাই ছিল বিজয় স্যারের সঙ্গে।"

?utm_source=ig_web_button_share_sheet

বিজয় অভিনয় জগৎ ছেড়ে রাজনীতিতে পদার্পণ করায় আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি আরও যোগ করেন, "উনি যদি ভবিষ্যতে আরও ছবি করতেন, তবে না হয় আবার চেষ্টা করতাম। কিন্তু এটাই ওঁর শেষ ছবি। হলে ঢুকে ভেবেছিলাম ওঁর সঙ্গে আমার সিনগুলো স্ক্রিনে দেখব... নিজের বড্ড পোড়া কপাল মনে হচ্ছে।"


তবে ব্যক্তিগত এই বিষাদ সত্ত্বেও ভক্তদের ছবিটিতে গিয়ে দেখার অনুরোধ জানান আনন্দী। ভিডিওটি ভাইরাল হতেই সোশাল মিডিয়ায় তাঁর পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন হাজার হাজার অনুরাগী। দক্ষিণী পরিচালকদের প্রতি প্রশ্ন তুলে অনেকেই মন্তব্য করেছেন, "বারবার কেন আপনার সঙ্গেই এমনটা হয়? ধৈর্য ধরুন, আপনার জন্য বড় কিছু অপেক্ষা করছে।"

টেলিভিশন দুনিয়ার অত্যন্ত জনপ্রিয় মুখ আনন্দী 'কার্তিগাই পেঙ্গল', 'যমুনা', 'কানা কানুম কালাঙ্গল'-এর মতো সিরিয়ালে অভিনয় করে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে গিয়েছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি একজন দক্ষ ধ্রুপদী নৃত্যশিল্পী ও যোগচর্চাকারী। 'ডান্স জোড়ি ডান্স ৩.০' এবং 'জোড়ি নম্বর ১'-এর মতো রিয়েলিটি শো-তেও তাঁর পারফরম্যান্স প্রশংসিত হয়েছে।

উল্লেখ্য, পূজা হেগড়ে, ববি দেওল ও মামিতা বাইজু অভিনীত 'জন নায়গন' বক্স অফিসে শুভ সূচনা করেছে। স্যাকনিলক-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রথম দিনেই ভারতে প্রায় ৪১ কোটি টাকার নেট ব্যবসা করেছে ছবিটি। তবে বক্স অফিসের এই কোটি টাকার ভিড়ে নিঃশব্দে ধামাচাপা পড়ে গেল একজন শিল্পীর এক বছরের চোখের জল আর না বলা কষ্টের ইতিহাস।