কমলা-শ্রীনিবাসের ছোটমেয়ে ঝিনুকের বিয়ে হচ্ছে। মেয়ের গায়ে হলুদের মুহূর্তে কমলার আনন্দ দেখে কে! বাড়িও সেজে উঠেছে বিয়ের সাজে। কেমন‌ চলছে আয়োজন? জানতে আজকাল ডট ইন পৌঁছে গিয়েছিল ইন্দ্রপুরী স্টুডিওতে, জি বাংলার ধারাবাহিক 'কমলা নিবাস'-এর সেটে।

সেটেই যেন বিয়েবাড়ি 

ইন্দ্রপুরীতে বেশ কয়েকটি ধারাবাহিকের শুটিং চলে। এদিন স্টুডিওতে ঢুকতেই যেন সাজ সাজ রব। একদিকে চলছে প্যান্ডেল বাঁধার কাজ। অন্যদিকে, ভিয়েন বসেছে। সত্যিই যেন বিয়েবাড়ি! এদিকে, চলছে ঝিনুকের গায়ে হলুদ। দিদি পল্লবী, মা কমলা একসঙ্গে নাচের তালে পা মেলাচ্ছে। সামনে আবার সম্রাট দাঁড়িয়ে। এক দৃষ্টিতে দেখছে হবু বউয়ের নাচ। সূর্য তখন একদম মাথার উপরে। গরমে ঘেমে গলে যাচ্ছে মেকআপ, তবুও নাচ থামছে না। অ্যাকশন-কাটের মাঝে যেন সবাই বিয়েবাড়ির আমেজে মেতে উঠেছে। ঝিনুক-সম্রাটের গায়ে হলুদ,  ফটোশুট মিটলে একটু যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচল কমলা। ফ্লোরে বসে আগে ঠান্ডা জল খেলেন অভিনেত্রী সোহিনী সেনগুপ্ত। 'মেয়ের বিয়ে বলে কথা! মায়ের তো অনেক দায়িত্ব। দেখছেন না কেমন গরমে নেচে যাচ্ছি,' একগাল হেসে বললেন সোহিনী। তাঁর কথায়, "আমরা সত্যিই যেন বিয়েবাড়ির স্বাদ পাচ্ছি। শুধু এই মুহূর্তে দেবশঙ্করদা মানে আমাদের শ্রীনিবাসকে বড্ড মিস করছি। এখন দাদা কাজের সূত্রে বাইরে গিয়েছেন। তাই মজাটা মিস করছেন। কমলা নিবাস মধ্যবিত্তের সংসারের আসল ছবিটা তুলে ধরছে। তাই দর্শকের পাশাপাশি এই ধারাবাহিক আমাদের প্রত্যেকের মনের কাছের হয়ে উঠেছে।"

ঝিনুক-সম্রাটের বিয়ে

অবেলায় স্নান করতে হয়েছে সম্রাট ও ঝিনুককে।‌ বিয়েতে বড্ড ঝক্কি তাহলে? ঝিনুক ওরফে সংহতি ব্যানার্জির কথায়, "আমি সাজেশন‌ দেব, দয়া করে কেউ গরমে বিয়ে করবেন না। বাপ রে বাপ! এত কষ্ট হয়? আমার এই প্রথম এমন অভিজ্ঞতা হল।" বিয়ের দিনও বর কালো পোশাকে থাকবে? প্রশ্ন শুনে একটু যেন মন খারাপ হল অভিনেত্রীর। বললেন, "কী বলব বলুন তো? এত করে বলি তা-ও শোনে না‌। যা পারে করুক।" সম্রাট তো স্বপ্নের মতো করে প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছিল; বাস্তবে সংহতির মন পেতে গেলে কী করতে হবে? লাজুক হেসে অভিনেত্রী বলেন, "কিচ্ছু আহামরি তেমন করতে হবে না। আমায় একটু যত্ন করলেই হবে।" এতক্ষণ পরের দৃশ্যের জন্য তৈরি হচ্ছিলেন 'সম্রাট' ওরফে ধ্রুবজ্যোতি সরকার। বিয়ের দিনও কালো পোশাক পরা নিয়ে তিনি বলেন, "এই রংটা আমার চরিত্রকে ফুটিয়ে তুলতে সাহায্য করে। এই‌ রঙেই তো লুকিয়ে সব!" বিয়ের পর কি বদলে যাবে সম্রাট? ধ্রুবজ্যোতির কথায়, "সেটাই তো সবচেয়ে বড় টুইস্ট। আসল গল্প তো এরপর শুরু হবে‌। একটা কথা বলতে পারি, দর্শকের চেনা মানুষগুলো পাল্টে যাবে এইবার।" ঝিনুককে যেমন রাজকীয়ভাবে প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছিল সম্রাট, বাস্তবে নাকি এক অনুরাগীর প্রস্তাবে রীতিমতো ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন! সম্রাট বলেন, "মেয়েটা শুধু আমায় প্রেমের প্রস্তাব দেয়নি। সারাক্ষণ ফলো করত। প্রায় চার মাস এমন করেছে। রোজ আতঙ্কে দিন কাটত। শেষে আইনি ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হই।"

পল্লবী-আদিত্যর খুনসুটি 

বোনের বিয়েতে খাটাখাটনি করে ক্লান্ত পল্লবী। আদিত্যর সঙ্গে মেকআপ রুমে আড্ডা দিচ্ছেন তিনি। বাস্তবে তো এমন দৃশ্য দেখার জন্য অপেক্ষায় আছেন দর্শক। কবে ইচ্ছেপূরণ হবে? 'আদিত্য' ওরফে ঋদ্ধিশ চৌধুরীর কথায়, "আমিও তো অপেক্ষায় আছি। কিন্তু পল্লবী তো আমায় দেখলেই চটে যায়। বারবার রিজেক্ট করছে। আমি বাস্তবেও খুব ভীতু। তাই কাউকে সেভাবে প্রোপোজ করা হয়নি।" পল্লবী ওরফে দেবাদৃতা বসু বলেন, "আমি উল্টো, আমার জীবনে এত প্রেম আসেনি যে প্রত্যাখান করব বা নিজে প্রোপোজ করব। যে এসেছে সে থেকে গিয়েছে।" পর্দায় বোনের তো বিয়ে হচ্ছে, দেবাদৃতা কবে বিয়ে করছেন? নায়িকা জবাব দেওয়ার আগেই ঋদ্ধিশ বলেন, "আমরা তো বলেছি এই বছরের শেষে ভাল দিনক্ষণ দেখে ব্যাপারটা মিটিয়ে নিতে। কিন্তু শুনছেই না।" দেবাদৃতা লাজুক হেসে বলেন, "আমার এখনও বিয়ের বয়স হয়নি। আগে হোক, তারপর করব।" সহ-অভিনেত্রীর কথা শুনে হাসি থামে না ঋদ্ধিষের। জোরে হাসাহাসি শুনে ফ্লোর ম্যানেজার ধমক দেন। বাইরে শুটিং চলছে। তাই আড্ডা এখানেই থামাতে হল। অসমাপ্ত আড্ডার খিদে নিয়েই ফ্লোর ছাড়তে হল।