বর্ষীয়ান অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুরের ব্যক্তিগত জীবন এবং মনসুর আলি খান বা টাইগার পতৌদির সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের রসায়ন চিরকালই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে কিংবদন্তি এই অভিনেত্রী নিজের জীবনের কিছু অজানা অধ্যায় তুলে ধরেছেন, যা চমকে দিয়েছে অনুরাগীদের।

১৯৬৯ সালে তাঁদের বিয়ের ঘটনা তৎকালীন সমাজে যে প্রবল বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল, তা আজ অনেকের কাছেই অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে। শর্মিলা জানিয়েছেন, বিয়ের আগে থেকেই তিনি টাইগার পতৌদির সঙ্গে 'লিভ-ইন' সম্পর্কে ছিলেন। সেই সময়ে রক্ষণশীল ভারতীয় সমাজে এটা ছিল এক চরম দুঃসাহসিক সিদ্ধান্ত। শুধু তাই-ই নয়, তাঁদের এই আন্তঃধর্মীয় বিবাহের কথা জানাজানি হওয়ার পর থেকেই একের পর এক প্রাণনাশের হুমকিও আসতে থাকে। চারদিকে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, পরিবার ও অনুরাগীদের মধ্যে দেখা দেয় উদ্বেগ।

এই কঠিন সময়ে বলিউডের স্বনামধন্য পরিচালক যশ চোপড়াও তাঁকে সতর্ক করেছিলেন। যশ চোপড়া তাঁকে বলেছিলেন, "নবাবরা খুব সন্দেহজনক মানুষ হয়।" যদিও শর্মিলা সেই কথায় কান দেননি। তিনি নিজের সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন। টাইগার পতৌদির প্রতি তাঁর গভীর ভালবাসা ও বিশ্বাসই তাঁকে সেই প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করার শক্তি জুগিয়েছিল। শর্মিলা ঠাকুর জানিয়েছিলেন, তাঁরা প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও একে-অপরের পাশে থাকবেন, এরকম শর্তেই বিয়ে করেছিলেন। তবে সেই শর্ত কখনও মুখ ফুটে একে-অপরকে বলতে হয়নি। 

দীর্ঘদিনের সম্পর্কের পর শর্মিলা ও মনসুর আলি খান পতৌদি বিয়ের পিঁড়িতে বসেন। তৎকালীন সময়ে তাঁদের এই সাহসী পদক্ষেপ নারী স্বাধীনতার এক নতুন দিশা দেখিয়েছিল। আজ এত বছর পর সেই স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে শর্মিলা যেন এক অন্য স্বাদের জীবনদর্শনের কথা শোনালেন। যা ছড়িয়ে পড়তেই রীতিমতো ভাইরাল সোশ্যাল মিডিয়ায়।