সম্প্রতি পরিচালক সঞ্জয় লীলা বনশালির 'লাভ অ্যান্ড ওয়ার'-এর সেটে ঘটে গিয়েছে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। শুটিং চলাকালীন এক টেকনিশিয়ানের মৃত্যুকে ঘিরে নিরাপত্তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। এই ঘটনার পর পরিচালকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপের দাবি তুলেছে অল ইন্ডিয়া সিনে ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশন।

রণবীর কাপুর, আলিয়া ভাট এবং ভিকি কৌশলের মতো মেগাস্টারদের নিয়ে বিগ বাজেটের ছবি ‘লাভ অ্যান্ড ওয়ার’-এর শুটিং চলছিল মুম্বইয়ে। গত ১৭ জুন শুটিংয়ের সেটেই কাজ করার সময় আচমকা প্রাণ হারান চন্দ্রধারী সিং যাদব নামের এক ক্রু সদস্য। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে সিনে-শ্রমিকদের মনে।

'অল ইন্ডিয়ান সিনেমা ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশন' (এআইসিডব্লুএ)-এর সভাপতি সুরেশ শ্যামলাল গুপ্তা এই ঘটনায় সরাসরি সরব হয়েছেন। তিনি মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়ে পরিচালক সঞ্জয় লীলা বনশালি এবং প্রযোজনা সংস্থার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করার দাবি জানিয়েছেন। সংগঠনের অভিযোগ, এত বড় বাজেটের ছবি হওয়া সত্ত্বেও সেটে শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম সুরক্ষাবিধি মানা হয়নি।

মৃত চন্দ্রধারী সিং যাদবই ছিলেন তাঁর পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী। তাঁর আকস্মিক প্রয়াণে স্ত্রী ও দুই নাবালিকা কন্যা অথৈ জলে পড়েছেন। এই পরিস্থিতিতে এআইসিডব্লিউএ-এর দাবি, বনশালির পক্ষ থেকে ওই অসহায় পরিবারকে ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, মৃতের স্ত্রীর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে এবং দুই মেয়ের পড়াশোনার সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিতে হবে।

শ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, বনশালির সেটে সুরক্ষার অভাবের ইতিহাস এটাই প্রথম নয়। এর আগেও তাঁর একাধিক মেগা প্রজেক্টের সেটে প্রাণ হারিয়েছেন শ্রমিকরা। 'দেবদাস' ছবির শুটিংয়ের সময় চোট পেয়ে দীনদয়াল যাদব ও সুভাষ মোরকার নামের দুই ক্রু সদস্যের মৃত্যু হয়। এরপর 'পদ্মাবত'-এর শুটিংয়ে ৩৪ বছর বয়সি শ্রমিক মুকেশ ডাকিয়া কালার প্যানেলে কাজ করার সময় ওপর থেকে পড়ে গিয়ে মারা যান। 'লাভ অ্যান্ড ওয়ার' তালিকায় নতুন সংযোজন চন্দ্রধারী সিং যাদব।

এই ধারাবাহিক দুর্ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সংগঠনটি দাবি তুলেছে, অবহেলাজনিত কারণে মৃত্যুর অভিযোগে বনশালীর বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একইসঙ্গে, মুম্বইয়ের ফিল্ম সিটিতে এই ছবির সেটে যতক্ষণ না কোনও উচ্চপর্যায়ের সুরক্ষা সমীক্ষা হচ্ছে, ততক্ষণ 'লাভ অ্যান্ড ওয়ার'-এর শুটিং পুরোপুরি বন্ধ রাখার দাবি জানানো হয়েছে। আপাতত মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী এই বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেন, সেটাই এখন দেখার।