বলিউডের ‘সুলতান’ সলমন খান এবং সমাজমাধ্যমে তোলপাড়, এই দুই যেন একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। ৬০ বছর বয়সেও যে ফিটনেসে কোনও আপস নেই, তা আরও একবার প্রমাণ করলেন ভাইজান। জিম সেশনের দুর্দান্ত ছবি শেয়ার করে নতুন করে চর্চার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন সুপারস্টার। শুধু আকর্ষণীয় চেহারা নয়, ছবির সঙ্গে থাকা এক রহস্যময় ক্যাপশনও কৌতূহল বেড়েছে অনুরাগীদের। 

শরীরচর্চার শেষে সমাজমাধ্যমে ছবি দেন সলমন। জিমের আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে টি-শার্ট খুলে নিজের টোনড ফিগার ও সিক্স-প্যাক অ্যাবস দেখান নায়ক। মাথায় তোয়ালে পেঁচানো সেই জিম সেলফির সঙ্গে ক্যাপশনে ভাইজান ছোট্ট কিন্তু অর্থবহ বার্তাও দেন। তিনি লেখেন, "যে ভয় পায়, সে জীবনে এগোতে পারে না।" এই সংলাপটি বহুদিন ধরেই বলিউডে জনপ্রিয়। তবে এবার অভিনেতা কেন এই কথা লিখলেন, তা নিয়েই শুরু হয়েছে জোর চর্চা।

অনেকের ধারণা, কিছুদিন আগে সলমনের একটি ছবি ঘিরে অনেকের মনের তাঁর সুস্থতা নিয়ে প্রশ্ন আসে। তাই সাম্প্রতিক সময়ে যাঁরা তাঁকে নিয়ে সমালোচনা করেছেন বা তাঁর শারীরিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন, তাঁদের উদ্দেশেই এই বার্তা দিয়েছেন সলমন। যদিও তিনি কোনও ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেননি। তাই বিষয়টি নিয়ে নানা জল্পনা চলছে।

শুধু তাই নয়, দেশ জুড়ে ছাত্র আন্দোলনের আবহে সলমনের বার্তার অন্য মাত্রা রয়েছে বলে মনে করেন অনুরাগীদের একাংশ। কয়েকদিন আগেই ছাত্র আন্দোলন ও বিশিষ্ট পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুকের অনশনের সমর্থনে সামাজিক মাধ্যমে এক দীর্ঘ বার্তা দেন অভিনেতা। ছাত্রদের পক্ষে কথা বলার পাশাপাশি তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কঠোর পদক্ষেপের আশ্বাস তুলে ধরে তরুণদের শান্ত হয়ে ঘরে ফেরার অনুরোধ জানান। তবে যা নিয়ে নেটমাধ্যমের কটাক্ষের শিকার হন অভিনেতা। সমালোচকদের দাবি ছিল, কোনও চাপ বা ‘ভয়’ পেয়েই হয়তো হঠাৎ সলমন এই স্পর্শকাতর বিষয়ে নিজের মতামত প্রকাশ করেছেন। শনিবার ভোররাতের এই জিম সেশনের পোস্টটি মূলত সেই ট্রোলার এবং সমালোচকদের উদ্দেশেই সালমানের এক মোক্ষম জবাব বলে মনে করছেন তাঁর অনুরাগীরা।

প্রসঙ্গত, গত কয়েক মাসে সলমন খানকে ঘিরে একাধিক খবর সামনে এসেছে। কখনও তাঁর নতুন ছবি নিয়ে আলোচনা হয়েছে, কখনও আবার স্বাস্থ্য নিয়ে নানা গুজব ছড়িয়েছে। এমনও শোনা গিয়েছিল যে বয়সের কারণে তিনি আগের মতো অ্যাকশন দৃশ্যে স্বচ্ছন্দ নন। তবে নিজের সাম্প্রতিক ছবির মাধ্যমে সেই সব জল্পনায় কার্যত ইতি টানলেন অভিনেতা।