টলিউডের জনপ্রিয় ‘দিদি নম্বর ওয়ান’ থেকে হুগলির তৃণমূল সাংসদ— পর্দায় রচনার ম্যাজিক যতটা হিট, রাজনীতির ময়দানে তাঁর আলপটকা মন্তব্য ঠিক ততটাই সুপারফ্লপ। ভোটের প্রচার থেকে শুরু করে সাংসদ পদ পাওয়া পর্যন্ত, গত দু’বছরে বারবার শিরোনামে এসেছেন রচনা ব্যানার্জি । কখনও তাঁর মন্তব্যের মধ্যে ফুটে উঠেছে নিটোল বোকামো, কখনও বা প্রকাশ পেয়েছে চরম নাকউঁচু ঔদ্ধত্য এবং দম্ভ। সম্প্রতি তাঁর আবাসন ‘আরবানা’-কে কেন্দ্র করে করা মন্তব্য সেই বিতর্কের আগুনে নতুন করে ঘি ঢেলেছে। এখানেই শেষ নয়, আরও এক নতুন দাবি করে নেটপাড়ায় হাসির খোরাক হলেন রচনা। এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করে বসেন, তিনিই নাকি অমিতাভ বচ্চনের একমাত্র বাঙালি নায়িকা!
সম্প্রতি দেওয়া সেই সাক্ষাৎকারে নিজের আবাসন ‘আরবানা’ নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে রচনা দাবি করেন, “আরবনায় থাকতে গেলে একটা আলাদা যোগ্যতা লাগে।” সাধারণ মানুষের একাংশের অভিযোগ, এই মন্তব্যের মাধ্যমে তৃণমূল সাংসদের সুপ্ত অভিজাততন্ত্র এবং ‘নাকউঁচু’ মানসিকতা প্রকাশ পেয়েছে। যেখানে দল নিজেকে সাধারণ খেটে-খাওয়া মানুষের প্রতিনিধি বলে দাবি করে, সেখানে একজন সাংসদের মুখে আবাসনে থাকার ‘যোগ্যতা’র তত্ত্ব একেবারেই ভাল চোখে নিচ্ছে না আমজনতা। এবার এই বিষয়ে মুখ খুললেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী মমতাশঙ্কর। জানিয়ে আখ্যা ভাল, সত্যজিৎ রায়, মৃণাল সেনের পরিচালনায় কাজ করা জনপ্রিয় এই বর্ষীয়ান অভিনেত্রী কিন্তু অমিতাভের সঙ্গেও ‘পিঙ্ক’ ছবিতে অভিনয় করেছিলেন।
আজকাল ডট ইন-কে মমতাশঙ্কর বলেন, “দেখুন, অমিতাভের সঙ্গে রচনা-ই একমাত্র কাজ করা বাঙালি অভিনেত্রী কি না -এই বিষয়ে একটি শব্দ খরচ করতে রাজি নই আমি। ও কেমন, তার প্রমাণ ও নিজেই দিচ্ছে! আর তাছাড়া, সবাই সত্যিটা জানেন। সেইজন্যই ওই ‘সত্যিটা’ নিয়ে সংবাদমাধ্যমে, সমাজমাধ্যমে আলোচনা হচ্ছে। সেটাই আমাদের কাছে পুরস্কার।”
খানিক থামলেন মমতাশঙ্কর। এরপর রচনার সেই বহুচর্চিত “আরবানায় থাকতে গেলে একটা আলাদা যোগ্যতা লাগে” প্রসঙ্গটি উঠতেই ফোনের ওপার থেকে হেসে ওঠেন মমতাশঙ্কর। তবে সেই হাসির পেছনে রাগের চেয়ে করুণাই বেশি স্পষ্ট ছিল। আভিজাত্যের দম্ভকে এক তুড়িতে উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “ সম্পূর্ণ হাস্যকর কথা। শুনুন, এসব কথা শুনে কিন্তু একেবারেই দুঃখ লাগে না। হাসি পায়। দেখুন, আমার কাছে সব মানুষ সমান। তাঁর অর্থনৈতিক সামর্থ্য কত, শিক্ষাগত যোগ্যতা কী, কোন পেশার সঙ্গে যুক্ত কিংবা বংশ-গোত্র কী...এগুলো গুরুত্বপূর্ণ নয়। কখনওই ছিল না। আজও নেই। আমিও যেমন মানুষ তিনিও তো তেমন মানুষ। আর আমি নিজেও এমন কোন গুরুত্বপূর্ণ মানুষ?”
তিনি আরও যোগ করেন, “আমি যে পরিবারে জন্মেছি (উদয় শঙ্কর ও অমলা শঙ্করের পরিবার), তার জন্য জন্মগতভাবে কিছুটা পরিচিতি পেয়েছি ঠিকই। কিন্তু তারপর তো মানুষ আমাকে ভালবেসেছেন আমার কাজ দেখে। আমি কোথায় থাকি, কত দামের পোশাক পরি, কিচ্ছু যায় আসে না। আমি যদি বহুমূল্য গাড়িতে না চেপে রিকশা চেপে কোথাও যাই বা যদি আকাশচুম্বী কোনও অবসানে না থেকে কুঁড়েঘরে দিন যাপন করি, তাহলেও কিন্তু এই ‘আমি’-টা আমিই থাকব! কোনও ফারাক হবে না।
কথা শেষে ‘নাকউঁচু’ মানসিকতার মানুষদের উদ্দেশ্যে কড়া বার্তা দিয়ে জোর গলায় মমতাশঙ্কর জানান, “মানুষ মানুষের বিচার করে, করবে। তাই যে বা যাঁরা এরকম মন্তব্য করেন, তাঁদের উদ্দেশ্যে আলাদা করে কিচ্ছুটি বলার কোনও প্রয়োজন বোধ করছি না আমি!”















