সঙ্গীত জগতের দুই কিংবদন্তি আরডি বর্মন এবং আশা ভোঁসলে, যাঁদের সুরের জাদুতে বুঁদ হয়ে থেকেছে কয়েক প্রজন্ম। তবে ব্যক্তিগত জীবনে তাঁদের সম্পর্ক ছিল সিনেমার গল্পের মতোই। ১৯৭৯ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলেও, তাঁদের দাম্পত্য ছিল প্রথাগত ধারণার বাইরে। সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হল, বিয়ের পরও তাঁরা কখনওই একসঙ্গে রাত কাটাননি।

আশা ভোঁসলে এক সাক্ষাৎকারে খোলাখুলি জানিয়েছিলেন, তাঁদের দু'জনের জীবন আলাদা ছিল। পঞ্চমের (আরডি বর্মন) নিজস্ব জীবনধারা ছিল, আর আশার পৃথিবী ছিল তাঁর সন্তানদের কেন্দ্র করে। তিনি বলেছিলেন, "আমরা দিনে একসঙ্গে থাকতাম, হয়তো বিকেলে কোনও অনুষ্ঠানে যেতাম, কিন্তু রাতে আমি আমার সন্তানদের কাছে ফিরে আসতাম আর পঞ্চম তাঁর ফ্ল্যাটে।" আশার কাছে তাঁর সন্তানরা ছিল অগ্রাধিকারের শীর্ষে, আর পঞ্চমও তাঁকে সেই স্বাধীনতা দিয়েছিলেন।

তাঁদের সম্পর্কের মূল ভিত্তি ছিল গান। ভালবেসে একে অপরকে কাছে পাওয়ার চেয়েও বন্ধুত্বের জায়গাটি ছিল অনেক বেশি শক্তিশালী। অনেকে তাঁদের এই সম্পর্কের সমীকরণ বুঝতে না পেরে নানা রটনা রটিয়েছিলেন, কিন্তু দু'জন মানুষ একে অপরের সৃজনশীলতাকে শ্রদ্ধা করতেন। আরডি বর্মন এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, "আমি আশাকে বিয়ে করিনি, আমি বিয়ে করেছি ওর কণ্ঠকে।"

আশা এবং পঞ্চমের এই সম্পর্ক হয়তো সামাজিক নিয়মের খাঁচায় আটকা পড়েনি, কিন্তু তাঁদের সুরের রসায়ন অমর হয়ে আছে। ১৯৯৪ সালে পঞ্চমের মৃত্যুর পর আশা জানিয়েছিলেন, তিনি শুধু স্বামীকে হারাননি, হারিয়েছেন তাঁর প্রিয় বন্ধুকে। বলিউডের তথাকথিত 'হ্যাপিলি এভার আফটার'-এর থেকে তাঁদের এই সম্পর্ক ছিল অনেক বেশি গভীর, অনেক বেশি মজবুত।