হায়দরাবাদের একটি আদালত দক্ষিণ ভারতের জনপ্রিয় তারকা আল্লু অর্জুন এবং আরও ২২ জন অভিযুক্তকে আগামী ২২শে জুন সশরীরে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করেছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে ‘পুষ্পা ২: দ্য রুল’-এর প্রিমিয়ার শো চলাকালীন হায়দরাবাদের ‘সন্ধ্যা থিয়েটার’-এ পদপিষ্ট হয়ে এক মহিলার মৃত্যুর ঘটনায় এই কড়া নির্দেশ দিল আদালত।হায়দরাবাদ পুলিশ ইতিমধ্যেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার তদন্ত শেষ করে আদালতে ২৩ জনের বিরুদ্ধে একটি চার্জশিট জমা দিয়েছিল। সেই চার্জশিটের ওপর ভিত্তি করেই এবার স্বয়ং আল্লু অর্জুনকে কাঠগড়ায় দাঁড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হল!

২০২৪ সালের ২৪শে ডিসেম্বর জমা পড়া পুলিশের চার্জশিট খতিয়ে দেখে আদালত এই সমন জারি করেছে। যেখানে ঘটনার দিন প্রেক্ষাগৃহের অব্যবস্থাপনা এবং তারকাকে ঘিরে বিশৃঙ্খলাকে দায়ী করা হয়েছে।

১ থেকে ১০ নম্বর অভিযুক্ত: সন্ধ্যা থিয়েটারের মালিক, অংশীদার, ম্যানেজার, লোয়ার-ব্যালকনি ইনচার্জ এবং গেটকিপারদের ১ থেকে ১০ নম্বর অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

১১ নম্বর অভিযুক্ত আল্লু অর্জুন: সুপারস্টার আল্লু অর্জুনকে এই চার্জশিটে ১১ নম্বর অভিযুক্ত হিসেবে নাম দেওয়া হয়েছে। ওঁর ব্যক্তিগত বাউন্সার এবং সিকিউরিটি টিমকেও এই তালিকায় রাখা হয়েছে।

২০২৪ সালের ৪ঠা ডিসেম্বর হায়দরাবাদের সন্ধ্যা থিয়েটারে ‘পুষ্পা ২’-এর গ্র্যান্ড প্রিমিয়ারের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে আল্লু অর্জুনকে স্রেফ এক ঝলক দেখার জন্য থিয়েটার চত্বরে হাজার হাজার ভক্তের ঢল নামে। ভিড় সামলানোর কোনো সঠিক ব্যবস্থা না থাকায় হলের বাইরে এক চরম বিশৃঙ্খলা ও হুড়োহুড়ি তৈরি হয়।এই পদপিষ্টের ঘটনায় রেবতী (৩৫) নামের এক মহিলা দমবন্ধ হয়ে মারা যান এবং ওঁর ৮ বছর বয়সী ছেলে গুরুতর আহত হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর মৃতের পরিবারের পক্ষ থেকে চিক্কড়পল্লী থানায় একটি এফআইআর দায়ের করা হয়। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার বিভিন্ন ধারায় আল্লু অর্জুন, ওঁর সিকিউরিটি টিম এবং থিয়েটার কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে পুলিশ।


এই মামলার জল এতদূর গড়ায় যে ২০২৪ সালের ১৩ই ডিসেম্বর হায়দরাবাদ পুলিশ আল্লু অর্জুনকে গ্রেপ্তার করে। তবে পরের দিনই তেলেঙ্গানা হাইকোর্ট থেকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পেয়ে যান অভিনেতা। পরবর্তীতে ওঁর নিয়মিত জামিন মঞ্জুর করা হলেও, কেস থেকে ওঁর নাম বাদ যায়নি।

যদিও এই ঘটনার পর মানবিকতার খাতিরে আল্লু অর্জুন এবং ‘পুষ্পা ২’-এর নির্মাতারা মৃত মহিলার পরিবারকে এবং ওঁর আহত সন্তানের চিকিৎসার জন্য বড় অঙ্কের আর্থিক সাহায্য বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। পাশাপাশি তেলেঙ্গানা সরকারের তরফ থেকেও পরিবারটিকে আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়েছিল। তবে আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী আগামী ২২শে জুন আল্লু অর্জুনকে সশরীরে আদালতে উপস্থিত হয়ে নিজের বয়ান ও হাজিরা দিতেই হবে।