"ওকে মেরে ফেলো!"— কন্যাসন্তান জন্ম দেওয়ার অপরাধে একসময় এমনই অমানবিক কথা শুনতে হয়েছিল বলিউড অভিনেত্রী পূজা চোপড়ার মাকে। ২০০৯ সালের মিস ইন্ডিয়া তথা খ্যাতনামা মডেল-অভিনেত্রী পূজার এই অন্ধকার অতীত সম্প্রতি সামনে এনেছেন তাঁর মা নীরা চোপড়া। এক রিয়্যালিটি শো-তে এই বিষয়ে কথা বলেছেন তিনি।
নীরা জানান, বিয়ের পর শুরুর দিকে শ্বশুরবাড়ির আচরণ বেশ ভালই ছিল। কিন্তু সমস্যা তৈরি হয় প্রথম সন্তান মেয়ে হওয়ার পর। এরপর দীর্ঘ সাত বছর বাদে যখন দ্বিতীয় মেয়ে হিসেবে পূজা কোল আলো করে আসে, তখন পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করে। হাসপাতালে তিন দিন কেটে গেলেও নীরা বা তাঁর সদ্যোজাত শিশুকে কেউ দেখতে পর্যন্ত আসেননি। বাড়ি ফেরার পর থেকে প্রতিনিয়ত তাঁকে মানসিক চাপ দেওয়া হতো। বাচ্চার বয়স তখন মাত্র ২০ দিন, নীরাকে পরিষ্কার বলা হয়, "একে মেরে ফেলো, না হলে অনাথ আশ্রমে দিয়ে এসো।"
নিজের সন্তানকে বিলিয়ে দেওয়া বা শেষ করে দেওয়া কোনও মায়ের পক্ষে সম্ভব ছিল না। তাই ২১ দিনের কোলের শিশু ও সাত বছরের বড়মেয়েকে নিয়ে ঘর ছাড়েন নীরা। কলকাতা থেকে যখন মুম্বই পৌঁছান, তখন তাঁর কাছে ছিল মাত্র ৮১ টাকা! বিনা টিকিটে ট্রেনে চেপে দুই সন্তানকে নিয়ে সম্পূর্ণ এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে পা বাড়িয়েছিলেন এই লড়াকু মা।
মুম্বইয়ে এক ফাইভ স্টার হোটেলে সেই সময় মাত্র ৯০০ টাকার একটি চাকরি জোগাড় করেন তিনি। এরপর আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। আজ তাঁর দুই মেয়েই জীবনে সফল। আবেগপ্রবণ হয়ে নীরা বলেন, "ঘর ছাড়ার দিন ওদের বলে এসেছিলাম, একদিন এই মেয়েই আমার নাম উজ্জ্বল করবে। পূজা আজ সত্যিই তা প্রমাণ করেছে।"















