পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের আগে থেকেই পাপিয়া অধিকারী বলেছিলেন, ক্ষমতায় এলে টালিগঞ্জকে নতুনভাবে সাজাবেন, টালিগঞ্জ সোনার সংসার হবে৷ এবার সেই পদক্ষেপ শুরু করলেন পাপিয়া অধিকারী৷
পাপিয়া অধিকারী বলেন,"এখন থেকে টালিগঞ্জ এক ছাতার তলায় আসবে৷ টালিগঞ্জ এখনও ইন্ড্রাস্ট্রি হয়নি৷ আমরা ইন্ড্রাস্ট্রি করবার জন্য, কেন্দ্রীয় সরকার অনুমোদিত ইস্টার্ন ইন্ডিয়া মোশন পিকচার্স কালচারাল (EIMPCC) এর অধীনে সমস্তটা থাকবে৷ ২৬ টা গিল্ড থাকবে না৷ তিন থেকে চারটি ভাগ থাকবে৷ এতদিন পরিচালকদের এতদিন চাকর-বাকর করে রাখা হয়েছিল, বলতে আমার অত্যন্ত খারাপ লাগছে৷ পরিচালক ক্যাপ্টেন অফ দ্য শিপ, একজন অভিভাবক, তাঁকে পর্যন্ত তাড়িয়ে দিচ্ছে৷"
পাপিয়া অধিকারী বলেন, "প্রতিটা বিভাগে দু'জন কো-অর্ডিনেটর থাকবেন৷ যাঁরা বিষয় সম্পর্কে জানেন, পুরনো লোক৷ আমি সমস্ত অভিনেতা অভিনেত্রী কলাকুশলীদের আবেদন জানাচ্ছি সকলে আসুন, যাঁরা কাজ না পেয়ে অবসাদে আছেন, যাঁরা নানাভাবে শোষিত হয়েছেন, যাঁরা আত্নহত্যার কথা ভেবেছেন সকলে আসবেন৷ পুরনো যাঁরা আছেন তারা দয়া করে আসুন, আপনাদের ছাড়া হবে না৷" সাংবাদিকদের মাধ্যমে টলিউডে সকলকে আসার আহ্বান জানালেন পাপিয়া অধিকারী৷
পাপিয়া অধিকারী জানান, চারটি বিভাগ থাকবে। ক্যামেরা, পরিচালক, প্রযোজনা, আর্ট এবং কস্টিউম এই চার বিভাগ।
পাপিয়া বলেন, "কোলে বাচ্চা নিয়ে ডুরে শাড়ি পরে আসছেন, মলিন পাঞ্জাবি পরে আসছেন, তাঁরাও আমাদের দর্শক৷ তাঁরা মাল্টিপ্লেক্সে এত ঝাঁ চকচকে পরিবেশে এত দাম টিকিটের সেই সব দর্শকদের জন্যও ছবি তৈরি করা দরকার৷ নতুন কনফেডারেশন তৈরী করা, সমস্ত কলাকুশলী ভাই ও বোনেদের এই কনফেডারেশন এর আওতায় আনা। প্রতি সপ্তাহে তিনদিন করে বেলা ১১ টা থেকে ২ টো পর্যন্ত, বিকাল ৫টা থেকে ৭ টা পর্যন্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত মানুষরা থাকবেন৷ আপনারা নাম এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নথিভুক্ত করা হবে৷ অনেক অযোগ্য মানুষ ঢুকে পড়েছেন, যাঁরা পয়সা দিয়ে কাজ পাচ্ছেন তাঁদের চিহ্নিত করা হবে৷"
পাপিয়া জানান, "ব্যান কালচার তুলে দেওয়া হবে৷ সাসপেনশন থাকবে না৷ প্রযোজক ঠিক করবেন কোন প্রোডাকশনে কী কী লাগবে। কাজ অনেক৷ কোনও কলাকুশলী বাদ যাবেন না।"
EIMPCC এর প্রত্যেক সদস্যের এবং সদস্যদের পরিবারের স্বাস্থ্যের বিষয় খেয়াল রাখা হবে৷
১৫ বছরের মধ্যে ৫ দিন কাজ করেছেন এমন মানুষও আছেন৷ আগের ফেডারেশন এর করা সমস্ত কাজ খতিয়ে দেখবে এবং কোনও আনিয়ম হয়ে থাকলে তা সরাসরি সরকারকে জানাবে। ডি কিউব ডিটেক্ট, ডিলিট ডিপোর্ট এর কথাও বলেন পাপিয়া৷
আগের যে সমস্ত অনিয়মের অভিযোগ এসেছে, তাঁদের সাবধান করা হচ্ছে, আপনারা এরকম শোষণ করবেন না।
স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হবে কি? এই প্রশ্নের জবাবে পাপিয়া জানান, প্রশাসন এই বিষয় ভাবনাচিন্তা করবে৷ আমি টালিগঞ্জের দায়িত্বে, টালিগঞ্জ নিয়েই কথা বললাম। বিশ্বাস ব্রাদার্স-এর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে পাপিয়া অধিকারী বলেন, এরপরেও কি ভূমিকা থাকবে?
সবশেষে পাপিয়া অধিকারী বলেন, এই কনফেডারেশন এর আওতায় যারা থাকবেন তাদের প্রত্যেকের কাজ সুনিশ্চিত করা ও কাজের সময়সীমা ও সান্মানিক ঠিক করা।
কলাকুশলীদের ও তাদের পরিবারের বিভিন্নভাবে চিকিৎসা জনিত সমস্যার সমাধান করা। সর্বোপরি টালিউড কে তথা টলিগঞ্জকে অন্যতম ফ্লিমসিটি হিসেবে গড়ে তোলাই লক্ষ্য৷















