অভিনেতা ওম পুরীর প্রাক্তন স্ত্রী সীমা কাপুর সম্প্রতি তাঁদের বিবাহিত জীবনের এক অত্যন্ত দুর্বিষহ অধ্যায় নিয়ে মুখ খুলেছেন। দীর্ঘ কয়েক দশক পার হওয়ার পর সীমা তাঁর এবং ওম পুরীর বিচ্ছেদের কারণ নিয়ে মুখ খুলেছেন, যা নিয়ে বলিপাড়ায় নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।

সীমা জানিয়েছেন, ১৯৯১ সালে বিয়ের পর তাঁদের সম্পর্ক বেশিদিন টেকেনি। দাম্পত্যের মাত্র আট মাসের মাথায় তাঁদের বিচ্ছেদ ঘটে। সীমা অভিযোগ করেছেন, সেই সময়ে ওম পুরী অন্য এক সম্পর্কের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছিলেন। শুধু তাই নয়, সেই কঠিন সময়ে সীমা অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। কিন্তু মানসিক চাপের মুখে তাঁর গর্ভপাত হয়েছিল। 

অভিনেতা অন্নু কাপুরের বোন সীমা আরও বলেন, সেই সময়ে তাঁর পরিবার, বিশেষ করে ভাই অন্নু কাপুর চাইছিলেন ওম পুরীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে। কিন্তু সীমা কোনও আইনি বিবাদে জড়াতে চাননি। তাঁর কথায়, “আমি চেয়েছিলাম সম্পর্কের সম্মান বজায় থাকুক, তাই আইনি লড়াই এড়িয়েছিলাম।”

সন্তান হারানোর সেই যন্ত্রণা সহ্য করার জন্য সীমা অনাগত সন্তানের উদ্দেশ্যে চিঠি লিখতে শুরু করেন। তিনি বলেন, “আমার মনের সব দুঃখ, না বলা কথা চিঠিতে লিখতাম। এটা আমাকে মানসিকভাবে কিছুটা শান্ত হতে সাহায্য করেছিল।”

পরবর্তীতে ওম পুরী তাঁর সেক্রেটারি মারফত সীমা কাপুরকে ২৫ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ পাঠাতে চেয়েছিলেন, কিন্তু সীমা তা প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি জানান তাঁর এই সিদ্ধান্ত কোনও অহংকার ছিল না, ছিল আত্মসম্মানবোধ। তিনি আরও জানান, জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে ওম পুরী নাকি নিজের ভুল বুঝতে পেরেছিলেন এবং সীমার কাছে ক্ষমাও চেয়েছিলেন।