অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অনীক দত্তকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন৷ এই প্রসঙ্গে শতরূপ ঘোষ বলেন, "অনীকদা বেঁচে থাকতে অন্যায়গুলো না করলে ভাল হত৷ কেউ চলে গেলে চরম শত্রুকেও আমরা শেষবার শ্রদ্ধা জানাই৷ যদিও অনীকদাকে চরম শত্রু ভাবার কোনও কারণ ছিল না।  ওঁরা জোর করে অনীকদাকে শত্রু ভাবল৷ অনীকদা কোনও রাজনৈতিক নেতা ছিলেন না৷ অনীকদা একজন ফিল্মমেকার ছিলেন৷ ওঁর যে সিনেমা নিয়ে এত অশান্তি করেছিল, ভবিষ্যতের ভূত, মাফিয়ারাজ চালিয়ে সিনেমাটাকে প্রায় তুলে দিয়েছিল৷ আপনারা যদি দেখে থাকেন সিনেমাটা তাহলে জানবেন, ভবিষ্যতের ভূত সিনেমায় যেমন তৃণমূল কংগ্রেসকে নিয়ে ব্যাঙ্গ ছিল তেমনই ওই সিনেমাতে আলাদা একটা গান ছিল সিপিআইএমকে নিয়ে ব্যাঙ্গ করার৷ যে সিপিআইএমকে অনীক দত্ত নিজের পার্টি মনে করতেন, সেই পার্টিকে নিয়ে তীব্র ব্যাঙ্গ ছিল৷ একদল বয়স্ক লোক সাদা ধূতি পাঞ্জাবি পরে পার্টি অফিসে বসে থাকেন, তাঁরা নিজেদের মধ্যে দুর্বোধ্য ভাষায় কথা বলেন৷ বামপন্থী মানুষদের নিয়ে অনেকেই সমালোচনা করে বলেন যে এরা খেটে খাওয়া মানুষের রাজনীতি করেন কিন্তু এমন ভাষায় কথা বলেন, এমন তাত্ত্বিক কথা বলেন যে খেটে খাওয়া মানুষ গ্রহণ করতে পারেন না, ওটা খেটে খাওয়া মানুষের ভাষা নয়, এই সমালোচনাকেই তীব্র ব্যাঙ্গের মাধ্যমে অনীক দত্ত তাঁর ছবিতে উপস্থাপন করেছিলেন৷ তাতে সিপিআইএম ওঁকে শত্রু ভাবেনি বরং আরও ভালবেসেছিল৷ সেভাবেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চাইলেই পারতেন ওঁর সমালোচনা গঠনমূলক ভাবে নিতে৷ কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তা করেননি৷ কেন সমালোচনা নিতে পারেননি, সমালোচনা নিতে না পেরে ঠিক করেছেন কি না এসব ইতিহাস বিচার করবে৷ কিন্তু অনীক দত্তর মৃত্যুতে শ্রদ্ধা জানানো নিয়ে কোনও ঠাট্টা বা বিরূপ মন্তব্য করতে চাই না৷  মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শ্রদ্ধা জানালেও ভাল লাগত৷ যে কোনও কারণেই হোক উনি সেটার প্রয়োজন মনে করেননি৷ তাতে অনীকদার কিছু যায় আসে না৷"

অনেকেই নন্দন-এ অনীক দত্তর ছবিমুক্তির দাবি জানিয়েছেন৷ এই প্রসঙ্গে শতরূপ ঘোষ বলেন, " সেটা হলে তো ভালই হয়৷ তবে জীবনে যারে তুমি দাওনি মালা, মরণে কেন তারে দিতে এলে ফুল, এখন ছবিমুক্তি হতেই পারে৷ কিন্তু যখন ছবিটা মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল, যাঁরা হতে দেননি এবং কারা হতে দেননি আমরা সকলেই জানি৷ সেই অপমান বা সেই অন্যায়ের ক্ষতিপূরণ তো এখন এভাবে হয়ে যাবে না। তবে নন্দন-এ এখন অপরাজিত বা ভবিষ্যতের ভূত- এর মতো ছবিগুলো মুক্তি পেলে ভাল হয়, যেগুলো একসময় পশ্চিমবঙ্গে চলতে দেওয়া হয়নি। আমি অনীকদার সিনেমা ভালবাসি, আমার এটা ইচ্ছা হতেই পারে তবে এসব বিষয় নন্দন কর্তৃপক্ষ এবং সিনেমার ডিস্ট্রিবিউটর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন৷ "  

অনীক দত্তের শেষকৃত্য হবে আগামীকাল৷ কন্যা ঐশী সদ্য ফিরেছেন৷ বিমানে করে কলকাতা ফিরতে কখন দেরি হলে সেক্ষেত্রে অনীক দত্তর অনুরাগীরা যাঁরা তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে চান, তাঁদের জন্যও কিছুটা অসুবিধা হবে ভেবেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন শতরূপ ঘোষ৷ পিস ওয়ার্ল্ডে শায়িত রয়েছে অনীক দত্তর শবদেহ৷ সেখান থেকে আগামীকাল এনটিওয়ান স্টুডিওতে নিয়ে যাওয়া হবে৷