দেশজুড়ে নিট বিতর্ক এবং ছাত্র আন্দোলনের আবহে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রশংসা করলেন অভিনেত্রী তথা বিজেপি সাংসদ কঙ্গনা রানাউত। তাঁর মতে, প্রধানমন্ত্রী দেশের ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আন্তরিকভাবে চিন্তিত। একইসঙ্গে তিনি সমস্যার সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন বলে মনে করেন কঙ্গনা।

সম্প্রতি নরেন্দ্র মোদি বলেন, পরীক্ষায় অনিয়ম, প্রশ্নপত্র ফাঁস বা দুর্নীতির মতো ঘটনা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। এই ধরনের মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ফাস্ট-ট্র্যাক আদালতের মাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথাও জানান তিনি। পাশাপাশি, যাঁরা ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে খেলছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যে ছাত্রছাত্রী এবং তাঁদের পরিবারের উদ্বেগের কথাও উঠে আসে।

প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়েছেন কঙ্গনা। তাঁর কথায়, "প্রধানমন্ত্রী একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যা সারা দেশে প্রশংসিত হচ্ছে। এর আগে কোনও সরকারই এবিষয়ে এমন কঠোর পদক্ষেপ নেয়নি। এই পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতার প্রমাণ দিয়েছেন।" কঙ্গনার দাবি, দেশের যুবসমাজের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত রাখতে সরকার যে গুরুত্ব দিচ্ছে, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য তারই প্রমাণ।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি নিট পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে দেশের একাধিক জায়গায় ছাত্রদের বিক্ষোভ দেখা গিয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধীরা সরব হয়েছে। ছাত্রদের পাশে দাঁড়িয়েছেন বলিউড-টলিউডের বহু তারকাও। তবে সরকারের দাবি, দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের ঘটনা না ঘটে, তার জন্যও একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

এর আগেও ছাত্র আন্দোলন নিয়ে নিজের মত প্রকাশ করেছিলেন কঙ্গনা। তিনি বলেছিলেন, গণতন্ত্রে প্রতিবাদ করার অধিকার থাকলেও, গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় বিষয়গুলির সমাধান সংসদ ও সাংবিধানিক ব্যবস্থার মাধ্যমেই হওয়া উচিত। তাঁর মতে, আলোচনা ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই স্থায়ী সমাধান সম্ভব।

কঙ্গনার এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ তাঁর বক্তব্যকে সমর্থন করেছেন, আবার কেউ সমালোচনাও করেছেন। তবে ছাত্র আন্দোলন, পরীক্ষায় অনিয়ম এবং সরকারের পদক্ষেপ- এই তিনটি বিষয়ই এখন দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে।