রবিবার মুম্বই পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার পাঁচজন। তাদের বিরুদ্ধে পরিচালক রোহিত শেট্টির জুহুর বাড়িতে গুলি চালানোর ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত পাঁচজনকেই পুণে থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ধৃতদের নাম অমন আনন্দ মারোটে, আদিত্য জ্ঞানেশ্বর গায়কী, সিদ্ধার্থ দীপক ইয়েনপুরে, সমর্থ শিবশরণ পোমাজি এবং স্বপ্নীল বান্দু সাকাট । তারা সকলেই পুণের কার্ভেনগর ও ধায়ারি এলাকার বাসিন্দা। এর আগে জানা গিয়েছিল, দেশের এক কুখ্যাত গ্যাংয়ের সঙ্গে যুক্ত সন্দেহভাজনদের আটক করা হয়েছে।

পুলিশের দাবি, হামলাকারী মোটরবাইকে করে জুহু এলাকায় আসে। কিছুটা দূরে বাইকটি রেখে হেঁটে শেট্টি টাওয়ারের দিকে এগিয়ে যায় সে। বাড়ির প্রথম তলায় পরিচালকের ব্যক্তিগত জিমের বাইরে গুলি চালানোর পর দ্রুত এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত।

ঘটনার পরই ফরেনসিক ও ব্যালিস্টিক বিশেষজ্ঞদের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রমাণ সংগ্রহ করে। পাশাপাশি মুম্বই পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ বর্তমানে রোহিতের বয়ান রেকর্ড করছে। সূত্রের খবর, তদন্তকারীরা জানতে চাইছেন, এর আগে কখনও তিনি হুমকি পেয়েছিলেন কি না, কারও প্রতি সন্দেহ আছে কি না এবং এমন কোনও তথ্য রয়েছে কি না যা তদন্তে সাহায্য করতে পারে।

এদিকে, এই ঘটনার দায়িত্ব লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং নিয়েছে কি না, তা নিয়েও জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। সর্বভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের পক্ষ থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করে দায় স্বীকার করা হয়েছে। সেখানে শুভম লঙ্কর, আরজু বিষ্ণোই এবং হরি বক্সার নামে তিনজন লিখেছে, রোহিতের বাড়ির বাইরে গুলি চালানোর দায় তাদেরই। পোস্টে আরও দাবি করা হয়, রোহিতকে একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছিল তাদের কাজে হস্তক্ষেপ না করতে। তিনি তা না মানায় এই হামলা শুধু ‘ট্রেলার’। ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ পরিণতির হুমকিও দেওয়া হয়েছে।

পোস্টে আরও লেখা, ‘এটা তো কেবল শুরু, একটা ছোট ট্রেলার মাত্র। সে যদি কথা না শোনে, তবে পরের গুলিগুলো আর বাড়ির বাইরে নয়। সরাসরি তার বেডরুমে দিয়ে ঢুকে বুকে বিঁধবে। পুরো বলিউড ইন্ডাস্ট্রির জন্য এটা একটা সতর্কবার্তা: নিজেদের শুধরে নাও, নয়তো তোমাদের অবস্থাও বাবা সিদ্দিকির চেয়েও ভয়াবহ হবে। যাদের আমরা ফোন করেছি, তারা চুপচাপ কথা মেনে চলো, নাহলে পালানোর জায়গা পাবে না। আর আমাদের শত্রুরা তৈরি থেকো; শুধু সময়ের অপেক্ষা।’

এই ঘটনায় মুম্বই পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার আওতায় হত্যাচেষ্টার মামলা রুজু করেছে, পাশাপাশি অস্ত্র আইনের ধারাও যুক্ত করা হয়েছে। গুলি চালানোর শব্দ প্রথম শোনেন রোহিতের নিরাপত্তারক্ষী। তিনিই তখনই পরিচালককে বিষয়টি জানান এবং পরে থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। হামলার পিছনে প্রকৃত উদ্দেশ্য কী, তা এখনও স্পষ্ট নয়।