পদ্মশ্রী ভারত সকার প্রদত্ত রাষ্ট্রীয় সম্মান৷ শিল্প সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদানের জন্য ২০২৬ সালে পদ্মশ্রী পেলেন প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জি। বাংলা ছবিতে অনন্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ এই পুরস্কার৷ পুরস্কার নিতে ছেলে তৃষাণজিৎকে সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলেন প্রসেনজিৎ। 

কলকাতার ঐতিহ্য আর সংস্কৃতিকে পোশাকেও ধারণ করেছিলেন প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জি। মঞ্চে উঠলেন, রাষ্ট্রপতি দৌপদী মুর্মু প্রসেনজিৎ-এর হাতে তুলে দিলেন স্মারক-সম্মান। পদ্মশ্রী পুরস্কার হাতে নিয়ে বেরিয়ে এলেন প্রসেনজিৎ। 

বাবাকে কাছে পাওয়ার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন প্রসেনজিৎ-পুত্র তৃষাণজিৎ৷ পুরস্কার প্রাপ্তির সেই মুহূর্তে মঞ্চের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে পারেননি প্রসেনজিৎ-পুত্র৷ একান্তে চোখ ভিজে গিয়েছিল বাবার পুরস্কার প্রাপ্তির আনন্দে৷ 

বাবা এলেন, ভেজা চোখে দাঁড়িয়ে থাকা ছেলেকে বাবা প্রসেনজিৎ বললেন একটি মাত্র কথা৷ প্রসেনজিৎ বলেন, "আমি ওকে একটাই কথা বলেছিলাম, পদ্মশ্রী পাওয়ার পর যে কাজটা করব মিশুক, ওটা আমার কেরিয়ারের প্রথম ছবি হবে৷" 

এতগুলো ছবিতে অভিনয় করার পরেও আবার নতুন করে শুরু করার জেদ, বারবার নিজেকে প্রমাণ করার অদম্য ইচ্ছা, প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জির এই মূলমন্ত্র৷ প্রসেনজিৎ বলেন, "আমাকে আরও প্রুফ করতে হবে৷  কারণ পদ্মশ্রী পাওয়াটা একটা দায়িত্ব।  পেয়ে যাওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ নয়৷ পাওয়ার পিছনে যে ৪০-৪২ বছরের লড়াই যে পরিশ্রম করেছি সব মিলিয়ে আমাকে আরও অনেক কাজ করতে হবে৷" 

প্রসেনজিৎ জানান, "পদ্মশ্রী পাওয়ার মুহূর্তে ছেলে তৃষাণজিৎ-এর চোখে জল৷ অনুষ্ঠানের আয়োজকদের তরফে জানানো হয়েছিল, যখন যে পুরস্কার গ্রহণ করবেন, তাঁর পরিবারের লোকজন দাঁড়িয়ে যাবেন৷ ও বাচ্চাদের মতো কাঁদছিল৷ ও সামনে দাঁড়িয়ে হাততালি দিতে পারেনি।" মুখে স্মিত হাসি রেখে বললেন প্রসেনজিৎ, হয়তো অন্তরে তখন সেই অশ্রুর ফল্গুধারা বয়ে চলেছে।