প্রসেনজিৎ হয়ে ওঠার নেপথ্যে ছিল পরিশ্রম, নিয়মানুবর্তিতা, হার না মানা, নতুন কাজের জন্য অদম্য আগ্রহ। দীর্ঘ চার দশকের কেরিয়ার, বহু চরিত্র, বাণিজ্যিক থেকে অন্যধারার ছবি সব কিছুতেই প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জি অনবদ্য৷ সম্প্রতি পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত হয়েছেন প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জি। কেমন ছিল সেই মুহূর্ত?
আজকাল ডট ইন-এর প্রশ্নে প্রসেনজিৎ জানালেন, "সত্যি কথা বলছি যে মুহূর্তে মাননীয় রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু আমাকে মেডেলটা পরালেন, আমার হাতে মানপত্র তুলে দিলেন, সেই মুহূর্তে আমার যেটা মনে হয়েছিল এত লক্ষ লক্ষ মানুষের ভালবাসা, বিশ্বাস, আমার পরিচালক, প্রযোজক, সহ-শিল্পী, আমার কলাকুশলী বন্ধুরা সকলে আছেন, আমি বাংলা ছবি করেই পদ্মশ্রী পেলাম৷"
চার দশকের কেরিয়ারে বহু ভাল ছবি উপিহার দিয়েছেন দর্শকদের৷ পদ্মশ্রী সম্মান কি একটু দেরিতে পেলেন, এই বিষয় প্রসেনজিৎ-এর অভিমত, "অনেকেই আমাকে বলেছিলেন যে একটু দেরি হয়ে গিয়েছে। কিন্তু আমি মনে করি কোনওটাই দেরি নয়, আমার এখনও অনেক কাজ করা বাকি আছে৷ আমার প্রথমেই মনে হয়েছিল, বাংলা সিনেমার জন্য আমি পদ্মশ্রী নিয়ে যেতে পারছি, এটা আমার কাছে সবথেকে বড় পাওয়া৷"
প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জি পদ্মশ্রী উৎসর্গ করেছেন, তাঁর মাকে৷ আজকাল ডট ইন-কে তিনি বলেন, " খুব স্বাভাবিকভাবেই মায়ের কথা খুব মনে পড়ছিল৷ সকলেই জানেন, আমি আজ যে বসে কথা বলছি এটা মায়ের জন্য৷ মা আমার শক্তি৷ মা আমার পাওয়ারহাউস৷"
ভারতীয় সিনেমা এবং বিনোদন জগতে তাঁর অসাধারণ অভিনয় প্রতিভার স্বীকৃতি স্বরূপ এই রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদান করা হল৷ দর্শকাসনে তখন উপস্থিত ছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। চার দশকের অভিনয় জীবনে বাণিজ্যসফল ছবি থেকে ভিন্নধারার বাংলা সিনেমা- প্রসেনজিৎ-এর অনায়াস অভিনয়৷২০০ এর বেশি ছবিতে অভিনয় করেছেন প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জি। পোশাকেও বাঙালিয়ানা বজায় রেখেছিলেন প্রসেনজিৎ৷ সূক্ষ সোনালি সুতোর কাজ করা পাঞ্জাবি পরে পুরস্কার নিতে মঞ্চে উঠেছিলেন৷ প্রয়াত মাকে উৎসর্গ করেছিলেন তাঁর এই সম্মান৷
পুরস্কার প্রাপ্তির পর প্রসেনজিৎ বলেছিলেন, "ভারত সরকারের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ, আমাকে এই সম্মাননা প্রদানের জন্য৷ বিগত ৪০ বছরের অভিনয় জীবনে আমার পরিচালক, প্রযোজক সহশিল্পী সকলে আমার অভিনয় জীবনের অংশ, এই সম্মানপ্রাপ্তি আমার একার নয়, এই সম্মান সকলের যাঁরা আমাকে প্রসেনজিৎ বানিয়েছেন।"















