বলিউডের জনপ্রিয় ছবি ‘ধুরন্ধর’-এর সেটের পেছনের এক ভয়ঙ্কর অন্ধকার অধ্যায় প্রকাশ্যে এল। ছবির নামী প্রোডাকশন ডিজাইনার সাইনি এস জোহরে-এর বিরুদ্ধে এক তরুণীকে পাঁচতারা হোটেলে ডেকে মাদক খাইয়ে ধর্ষণ, জোর করে আটকে রাখা এবং শারীরিক নির্যাতনের এর মতো গুরুতর অভিযোগে মামলা রুজু করা হয়েছে। চণ্ডীগড়ের সেক্টর-১৭ থানায় এই হাই-প্রোফাইল এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।

অভিযোগের ভিত্তিতে সেক্টর-১৭ থানার পুলিশ অভিযুক্ত সাইনি জোহরেকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করলেও, পরে জেলা আদালত থেকে তিনি জামিন পেয়েছেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। গত সোমবার গভীর রাতে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি প্রথম জনসমক্ষে আসে।

অভিযোগকারিণী তরুণী মূলত চণ্ডীগড়ের খুড্ডা লাহোরার বাসিন্দা, তবে বর্তমানে তিনি নতুন দিল্লিতে থাকেন। পুলিশকে দেওয়া বয়ানে তিনি জানিয়েছেন, ২০২৫ সালে তিনি যখন চণ্ডীগড়ের সেক্টর-১০-এর গভর্নমেন্ট কলেজ অফ আর্ট-এ পড়াশোনা করছিলেন, তখন ওঁর এক শিক্ষকের মাধ্যমে ওঁর সিভি ‘ধুরন্ধর’ ছবির টিমের কাছে পাঠানো হয়েছিল।

এরপর ২০২৫ সালের ২রা সেপ্টেম্বর সাইনি জোহরে তাঁকে এই প্রজেক্টের সহকারী আর্ট ডিরেক্টর হিসেবে নিযুক্ত করেন এবং স্বতঃপ্রণোদিত হয়েই নিজের কাঁধে ওই তরুণীর ‘মেন্টর’ বা পথপ্রদর্শক হিসেবে দায়িত্ব তুলে নেন। তরুণীর অভিযোগ, কাজে যোগ দেওয়ার মাত্র চার থেকে পাঁচ দিন পরেই সাইনি জোহরে কাজের আলোচনার নাম করে তাঁকে সেক্টর-১৭-র একটি পাঁচতারা হোটেলের রুমে ডাকেন। তরুণী ভেবেছিলেন এটি হয়তো পুরো টিমের কোনও বৈঠক, কিন্তু সেখানে যাওয়ার পর তিনি বোঝেন যে ক্রু-মেম্বারদের মধ্যে একমাত্র তাঁকেই ডাকা হয়েছিল।

অভিযোগপত্রে তরুণী উল্লেখ করেছেন, ২০২৫ সালের ১০ই সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে আটটা নাগাদ তিনি ওই হোটেল রুমে পৌঁছান। সেখানে যাওয়ার পর অভিযুক্ত সাইনি জোহরে তাঁকে মদ্যপান করার জন্য ক্রমাগত চাপ দিতে থাকেন। তরুণীর দাবি, মদ্যপানের কয়েক মিনিটের মধ্যেই ওঁর মাথা ঘুরতে শুরু করে এবং তিনি মারাত্মক অসুস্থ বোধ করেন। ওঁর সন্দেহ, ওঁর পানীয়তে আগে থেকেই কোনো কড়া মাদক বা ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

 

 

মারাত্মক অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে জোহর প্রথমে ‘নাচের স্টেপ’ শেখানোর বাহানায় ওই তরুণীকে অশালীনভাবে স্পর্শ করতে শুরু করেন। এদিকে  সেই তরুণীর  শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে, তিনি বারবার বমি করতে থাকেন। তরুণীর অভিযোগ, এই চরম অসুস্থতা সত্ত্বেও জোহরে তাঁকে ঘর থেকে বের হতে দেননি এবং তাঁকে ধর্ষণ করেন! তরুণী বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাঁকে নির্মমভাবে মারধর ও শারীরিক নির্যাতন করা হয় বলেও অভিযোগ।

 

 

ঘটনাটি গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসের হলেও, পুলিশ একটি প্রাথমিক তদন্ত শেষকরার পর চলতি বছরের ২১শে এপ্রিল, ২০২৬-এ আনুষ্ঠানিকভাবে এফআইআরটি নথিভুক্ত করে। অভিযুক্ত সাইনি এস জোহরের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা -র ৭৪ (নারীর শ্লীলতাহানি), ৭৯ (নারীর অবমাননা), ১২৩ (অপরাধ করার উদ্দেশ্যে বিষ বা মাদক প্রয়োগ) এবং ১২৬(২) (অন্যায়ভাবে আটকে রাখা) ধারা সহ ধর্ষণের মতো একাধিক গুরুতর ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। বলিউডের একটি এত বড় প্রজেক্টের সঙ্গে যুক্ত শীর্ষ শিল্পীর বিরুদ্ধে এমন ঘৃণ্য অভিযোগ ওঠার পর স্বাভাবিকভাবেই তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বিনোদন দুনিয়ায়।