নয়ের দশকের কুখ্যাত কৃষ্ণসার হরিণ শিকার মামলা এবং আন্ডারওয়ার্ল্ড যোগের ছায়া! সলমন খানের মানহানি ও ব্যক্তিত্বের অধিকার ক্ষুণ্ণ করার অভিযোগে নড়েচড়ে বসল দিল্লি হাইকোর্ট। ছবি ও টিজার নিয়ে নির্মাতাদের বিরুদ্ধে সরাসরি তোপ দেগে বড়সড় আইনি পদক্ষেপের নির্দেশ দিল আদালত।
সোমবার বিচারপতি জ্যোতি সিংয়ের বেঞ্চ সাফ জানিয়ে দিয়েছে, অবিলম্বে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সরাতে হবে বিতর্কিত সিনেমা 'কালা হিরণ: দ্য ব্যাটল ফর লেগাসি'-র টিজার। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই নির্দেশ কার্যকর না হলে ইউটিউব এবং এক্স-এর মতো প্ল্যাটফর্মগুলিকে সরাসরি কনটেন্ট ব্লক করার নির্দেশ দেবে আদালত।
আদালতে ছবিটির টিজার দেখার পর তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন বিচারপতি। ছবির প্রযোজক অমিত জানিকে কড়া ভাষায় ভর্ৎসনা করে আদালত জানায়, বারবার সুযোগ দেওয়ার পরেও এ ধরনের মানহানিকর কনটেন্ট সামাজিক মাধ্যমে হাট করে রেখে দেওয়ার অর্থ আইনকে বুড়ো আঙুল দেখানো।
বিচারপতির পর্যবেক্ষণ -"কী ধরনের কনটেন্ট এগুলো! আগেরবার কোনও কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়নি বলেই কি আপনারা নিজেদের আইনের ঊর্ধ্বে ভাবছেন? এক মুহূর্তের জন্যও এই ভিডিও ইন্টারনেটে থাকা মানে সলমন খানের সুনামের অপূরণীয় ক্ষতি করা।" আদালত আরও মন্তব্য করে যে, যে মামলাগুলি এখনও বিচারাধীন , সেই বিষয় নিয়ে এ ধরনের প্রজেকশন বা ছবি বানানো একপ্রকার আদালত অবমাননার সমান।
সলমন খানের অভিযোগ ছিল, এই ছবির টিজার ও পোস্টারে তাঁর ট্রেডমার্ক ব্রেসলেট পরা চরিত্রের আদল এবং আন্ডারওয়ার্ল্ড কানেকশনের মিথ্যে ইমেজের মাধ্যমে তাঁর ব্যক্তিত্বের অধিকার (Personality Rights) সরাসরি লঙ্ঘন করা হচ্ছে। ১৯৯৮ সালের কৃষ্ণসার হরিণ শিকার মামলাটি এখনও রাজস্থান হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন থাকায়, এই ধরনের ছবি তাঁর সুষ্ঠু বিচার পাওয়ার অধিকার (Right to a Fair Trial)-কেও বিঘ্নিত করছে।
পাশাপাশি, সলমনের আইনজীবীর অভিযোগ—আইনি নোটিশ পাওয়ার পর প্রযোজক তা ক্যামেরার সামনে ছিঁড়ে ফেলেন এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় তাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে বিভ্রান্তিকর পোস্ট করেন।
অন্যদিকে, প্রযোজকের আইনজীবীর দাবি ছিল—ছবি বা টিজারে কোথাও সলমনের নাম ব্যবহার করা হয়নি, কিংবা এআই বা ডিপফেইকের সাহায্য নেওয়া হয়নি। তবে আদালত এই যুক্তি খারিজ করে দিয়ে সলমন খানের আইনজীবীকে সমস্ত আপত্তিকর লিঙ্কের একটি তালিকা প্রস্তুত করতে নির্দেশ দিয়েছে।
















