প্রবীণ অভিনেত্রী ও পরিচালক অপর্ণা সেন এক আবেগঘন বক্তব্যে দেশের ছাত্রছাত্রীদের সাহস, সংবিধানের প্রতি আস্থা এবং শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের প্রশংসা করেছেন। তাঁর কথায়, দীর্ঘদিন ধরে তিনি মনে করতেন প্রতিবাদ করে কোনও লাভ নেই। কিন্তু ছাত্রছাত্রীদের সাম্প্রতিক অবস্থান তাঁর সেই ধারণা বদলে দিয়েছে।
বক্তব্যের শুরুতেই অপর্ণা সেন বলেন, “নমস্কার, আদাব, জয় হিন্দ। আমার নাম অপর্ণা সেন। আমি শুধু এটুকুই বলতে চাই যে, গতরাতে আমি আমাদের ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে ‘গণতান্ত্রিক ভিন্নমতের’ প্রকৃত অর্থ শিখেছি। আমি তাদের কাছ থেকে শিখেছি কীভাবে সংবিধানের ওপর আস্থা রাখতে হয় এবং সেই অনুযায়ী কাজ করতে হয়।”
তিনি জানান, বহু মানুষের মতো তিনিও একসময় অত্যন্ত হতাশ, বিষণ্ণ এবং উদ্যমহীন হয়ে পড়েছিলেন। তাঁর মনে হতো, প্রতিবাদ করে বা গণতান্ত্রিক অধিকার দাবি করেও কোনও লাভ নেই। কারণ, প্রতিবাদ করলেই মানুষকে ‘দেশদ্রোহী’ তকমা দিয়ে জেলে পাঠিয়ে দেওয়া হতে পারে— এমনই আশঙ্কা কাজ করত তাঁর মনে।
তবে ছাত্রছাত্রীদের ভূমিকা তাঁর সেই হতাশার জায়গায় নতুন আশার আলো দেখিয়েছে। অপর্ণা সেন বলেন, “এই ছাত্রছাত্রীরাই আমাকে দেখিয়েছে যে, এটা সম্ভব। কারণ তাঁরা বিশ্বাস করেছিল। তাঁরা গণতান্ত্রিক উপায়ের ওপর বিশ্বাস রেখেছিল। তাঁরা সম্পূর্ণ সংবিধান মেনে, অহিংস ও শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করেছিল এবং বিশ্বাস করেছিল যে তাঁদের কথা শোনা হবে।”
এই অভিজ্ঞতা তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে বলেও জানান তিনি। আবেগাপ্লুত কণ্ঠে অপর্ণা সেন বলেন, “এই বিষয়টা এতই হৃদয়স্পর্শী ছিল যে, গত রাতের পুরোটা সময় আমি কেবল কেঁদেছি। আমি ভাবছিলাম, এই ছেলেমেয়েরা কতটা সাহসী, কতটা অদম্য এবং কতটা দৃঢ়চেতা। তাঁদের কাছ থেকে আমরা কত বড় শিক্ষাই না পেতে পারি!”
শেষে ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশে তিনি নিজের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও আশীর্বাদ জানান। তাঁর কথায়, “আমি কেবল মন থেকে তাদের আশীর্বাদ করছিলাম আর বলছিলাম, শাবাশ! শাবাশ! আমরা তোমাদের কাছ থেকে শিখছি৷ ধন্যবাদ। আমাদের পথ দেখানোর জন্য তোমাদের অসংখ্য ধন্যবাদ।”
অপর্ণা সেনের এই বক্তব্যে স্পষ্ট, তিনি ছাত্রছাত্রীদের শান্তিপূর্ণ, অহিংস এবং সংবিধানসম্মত গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে কেবল সমর্থনই করেননি, বরং তাঁদের কাছ থেকেই নতুন করে গণতন্ত্রের মূল্যবোধ ও আশার শক্তি উপলব্ধি করেছেন।
















